Alexa পার্লারে স্ত্রীদের রেখে স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিল দুই স্বামী

ঢাকা, শনিবার   ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৯ ১৪২৬,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১

পার্লারে স্ত্রীদের রেখে স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিল দুই স্বামী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৭ ১৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২০:২০ ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পার্লারে স্ত্রীদের রেখে তাদের স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিয়েছেন প্রতারক দুই স্বামী । বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল থেকে এ চক্রের অন্যতম সদস্য  মো. হাচিবুর রহমানকে আটক করেছে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা।

র‌্যাবের পাতানো কৌশলে দুই লাখ টাকা নিতে পটুয়াখালীতে আসলে তাকে আটক করা হয়। আটক হাচিবুরের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার দেউলি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা খবির উদ্দিনের ছেলে। 

দীর্ঘদিন এই চক্রটি পটুয়াখালী এবং দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কন্যা দায়গ্রস্ত বাবা এবং সাধারণ মানুষদের ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বিয়ে করে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। 

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী র‌্যাব-৮‘র কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডিশনাল এসপি মো. রইছ উদ্দিন জানান, মাস ছয় আগে পটুয়াখালী সদর উপজেলার হাঝিখালী এলাকার ফোরকান মল্লিকের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে আটক হাচিব ও তার বোন জামাতা মনিরুল ইসলাম সাইফুল। এ সময়ে উভয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছে বলে দাবি করেন।

পরিচয়কালে হাচিব তার নাম কাওছার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার চরগঙ্গা এলাকায় বাড়ি বলে জানায়। পরিচয়ে একপর্যায়ে ফোরকান মল্লিকের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও তার ভাই ছোবাহান মল্লিকের মেয়েকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে গত ২১ জুলাই বিয়ে করেন।

বিয়ের পর হাঝিখালী এলাকার বেকার যুবকদের মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে ফোরকান, হারুন এবং জাফরসহ ওই এলাকার অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে তিন থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। গত ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বাসায় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা বলে স্বর্ণালঙ্কার পরে ঢাকায় যেতে হবে বলে জানায় স্ত্রীদের। এ সময় দুই স্ত্রী নিজস্ব এবং প্রতিবেশীর কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারে নিয়ে তাদের রেখে অর্থ এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। 

এ সময় জাফর মল্লিক নামে আরো এক ব্যক্তির স্ত্রী নিয়ে সটকে পড়ে তারা। ঘটনার দুইদিন পরে জাফরের স্ত্রীকে বরিশাল ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় জিডি করে র‌্যাবের সহায়তা চায়। পরে হাচিবকে আরো দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিলে হাচিব পটুয়াখালীতে আসে ওই টাকা নিতে। এ সময় র‌্যাব তাকে আটক করে। 

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে হাচিব জানায় এ পর্যন্ত হাচিব ও তার বোন জামাতা অন্তত দুই ডজন বিয়ে করেছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সাইফুল আরো একটি  বিয়ে প্রতারণা মিশনে লিপ্ত রয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ