Alexa পার্বত্য শান্তিচুক্তি পাহাড়ের আলোকবর্তিকা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৭ ১৪২৬,   ২৩ সফর ১৪৪১

Akash

পার্বত্য শান্তিচুক্তি পাহাড়ের আলোকবর্তিকা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:০৩ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

খাগড়াছড়িতে রোববার সকালে বর্ণিল আয়োজনে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও পার্বত্য জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে দিনটি উদযাপিত হয়।

পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে শান্তির পায়ঁরা ও রং বেরঙের বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়াম্যান (প্রতিমন্ত্রী) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ অতিথিবৃন্দ।

এতে ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা এসপি মো. আহমার উজ্জামান, পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, সিভিল সার্জন মো. শাহ আলম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, খগেশ্বর ত্রিপুরা ছাড়াও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়।

বর্ণিল এ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্যঞ্চলের পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘ দুই দশকের বেশী সময় ধরা চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান হয়েছে। কোন তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সফলভাবে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি পরবর্তী সময়ে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতিমধ্যে চুক্তির ৮০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েগেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একান্ত আন্তরিক প্রচেষ্টায় সম্পাদিত শান্তি চুক্তি সুফল ভোগ করছে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ। চুক্তি পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের সড়ক, বিদ্যুতসহ মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বিগত ২ দশকের বেশি সময় ধরে পাহাড়ের উন্নয়ন চলমান রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় শান্তি চুক্তির মধ্য যে উন্নয়ন এবং শান্তি চুক্তির প্রতিশ্রুত ধারাসমূহে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে আরো সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে।

জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহনে, পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহরের চেঙ্গীস্কোয়ার হয়ে পৌর টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। ‘শান্তিচুক্তি একটি ঐতিহাসিক অর্জন’ উপলব্ধি করত পৌর টাউন হল চত্ত্বরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার  প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে বর্ণিল ডিসপ্লে প্রদর্শণ ও টাউন হল চত্ত্বরে শান্তি উন্নয়ন শীর্ষক আলোচনা সভা করে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তির দূত উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনার আন্তরিক চেষ্টার ফলে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চুক্তির আওতায় বাকী দাবিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে বিকেল থেকে খাগড়াছড়ির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে জেঁকে বসা শীতে অরণ্য ব্যান্ড, হিলষ্টার মিউজিক্যাল গ্রুপ, রাঙ্গামাটি ও স্থানীয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর পরিবেশনা এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যান্ড দল ‘সোলস’ এর পার্থ বড়ুয়া গানে গানে উষ্ণতা ছড়ায়। বিকেলে গড়িয়ে সন্ধা হতেই রাতে পাহাড়ের আকাশ রাঙিয়ে তোলে আতশ বাজি, লেজার-শো আর রঙিন ফানুস। এছাড়াও ষ্টেডিয়ামে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিল প্রদীপ প্রজ্জলন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে