Alexa পারবেন তো মোদি?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

পারবেন তো মোদি?

 প্রকাশিত: ০৮:৩১ ২ জুন ২০১৭  

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় আসার ৩ বছর পূরণ হলো গত ২৬ মে। নিজের দেশ পরিচালনায় দক্ষতা ও জাতীয় রাজনীতিতে তেমন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ভারতকে শাসন করে চলছেন শক্ত হাতে। ভারতের জনগণের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয়। ভিন্ন দর্শন ও মতবাদ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি ভারতকে করেছেন আরও উন্নত। আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ভারত এখন আরও শক্তিশালী। তিনি যেসব সংস্কার ভারতীয় অর্থনীতিতে এনেছেন এর ফলে ভারত আরও এগিয়ে যাচ্ছে। মোদির সময় ভারতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ যা ২০১৩-১৪ সালে ছিলো ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূদ্রাস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে এই হার ছিলো ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক ঘাটতি তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এখনো মোদির দেশের ২২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে (২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী)। এই সংখ্যা আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার জনসংখ্যার প্রায় আড়াই গুণ। মোদি জানেন ভারত তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে আসা খারাপ কোনো ফলাফল থেকে উন্নতি করতে পারবেন না। ভারত তার স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্ণ করলেও লাখ লাখ মানুষ আছে যারা ঠিকমতো খেতে পারেন না, বিশুদ্ধ পানি পায় না, শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই এবং স্কুল, সড়ক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকেও তারা বঞ্চিত। এর আগে যত সরকার ক্ষমতায় এসেছেন তারা তৃণমূল পর্যায়ে তেমন কোনো উন্নতি আনতে পারেননি, যা মোদি করতে পেরেছেন। তিনি কৃষকদের শস্যবীমা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং সেখানে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেন। কৃষকরা যেন সরাসরি অনুদান নিতে পারে সে ব্যবস্থাও তিনি আধার পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন। কালো টাকা রোধের জন্য তিনি ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করেন। এটি বিতর্কের সৃষ্টি করলেও কালো টাকা রোধে এর কার্যকর ফলাফলের জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়া ইনকাম ট্যাক্স পরিশোধকারীর সংখ্যাও ৩০ শতাংশ বেড়েছে এই মোদির আমলেই। বিদেশনীতির ক্ষেত্রেও মোদি কম সাফল্য দেখান নি। কাশ্মীর সঙ্কটের সময় সার্জিকাল আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানকে তিনি ভারতীয় সেনার শক্তি দেখিয়েছেন। যদিও চীনের নতুন পদক্ষেপ ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোডে তিনি অন্য দেশের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তিনি চীনের সেই সম্মেলনে অংশগ্রহণও করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। মাত্র তিন বছরে ক্ষমতায় এসে এতো সাফল্য ভারত অন্য কোনো সরকারের আমলে দেখেনি। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন থেকে যায় মোদি কি সত্যি পারবেন ভারতের সব সমস্যা সমাধান করতে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। কাশ্মীর সমস্যা এবং আসামে উলফা ও মাওবাদী সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। সাম্প্রদায়িকতা আরও দিন দিন বেড়েই চলছে। গরু হত্যার জন্য সেখানে মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে। ভারতের রাজনীতির কেন্দ্র দিল্লিতেই নারীরা এখন নিরাপদ নয়। সেখানে বেড়ে চলছে নারী নির্যাতন ও নিপীড়ন। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন শিক্ষার আলো প্রবেশ করেনি। মোদি কি পারবেন সব সমস্যা দূর করতে? ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোদি ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু মোদি জানান নির্বাচনে জেতার জন্য তিনি স্বপ্ন দেখেন না। তাঁর লক্ষ্য ২০২২ সাল। সে সময় ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। মোদি বলেন, প্রতিটি মানুষই ভারতে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ভারত প্রতিটি নাগরিকের শক্তিতে পরিচালিত হবে। ভারত অভিনব চিন্তাধারা, কঠোর পরিশ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে এগিয়ে যাবে। এখানে শান্তি, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ব থাকবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, কালো টাকা ও আবর্জনা থেকে ভারত মুক্ত থাকবে। ভারতকে স্বচ্ছ ভারত করার পরিকল্পনা মোদির কতটুকু পূরণ হবে সেটি এখন দেখার বিষয়।