Exim Bank Ltd.
ঢাকা, বুধবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯, ৩ মাঘ ১৪২৫

পাবলো এসকোবার: একজন ড্রাগ লর্ড ও অন্যান্য

আফিক হাসানডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
পাবলো এসকোবার: একজন ড্রাগ লর্ড ও অন্যান্য
ফাইল ছবি

পাবলো এস্কোবারকে বলা হয় ড্রাগ লর্ড। ইতিহাসের ভয়ঙ্কর মাদক সম্রাট এল পাবলো। পুরো নাম পাবলো এমিলিও এস্কোবার গারাভিয়া। কলম্বিয়ার রিওনিগ্রোতে কৃষক বাবা আবেল দেল জিসুস দারি এস্কোবার এবং শিক্ষিকা মা হারমিলদা গারাভিয়ার ঘরে ১৯৪৯ সালের ১ ডিসেম্বর জন্ম তার। বাবা-মায়ের সাত সন্তানের ভেতর পাবলো ছিলেন তৃতীয়। ছোটবেলায় দুটো স্বপ্ন দেখতেন, ২২ বছরের মধ্যে মিলিয়নিয়ার হবেন আর জীবদ্দশায় একদিন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হবেন। প্রথম স্বপ্ন পূরণে বেশি দেরি হয়নি, ২৬ বছর বয়সেই ছিলেন বিলিয়নারদের কাতারে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের। এস্কোবার ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় সাত নম্বরে। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত একটানা ‘ফোর্বস’ ম্যাগাজিনের ইন্টারন্যাশনাল লিস্ট অব বিলিয়নিয়ারে ছিল তার নাম! এই বিশাল অর্থ এসেছিল মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে। ইউএসএ তে প্রতিদিন গড়ে ১৫ টন কোকেন সাপ্লাই দিতেন পাবলো।

পাবলোর গল্প টা শুরু হয় ১৯৭০ সালে। সেই সময়টাতে কলম্বিয়াতে পেরু ও বলিভিয়ার বদৌলতে কোকেইন ব্যবসাটা বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছিলো। পাবলো এস্কোবার নতুন ধান্দার হদিস পায়। তিনি বলিভিয়া ও পেরু থেকে কোকা পাউডার কিনে সেগুলোকে পরিস্রাবণ করে আমেরিকাতে বিক্রির জন্য পাচার করতে শুরু করলেন। এরপর ১৯৭৫ সালের দিকে, স্থানীয় মেডেলিন ড্রাগ লর্ড খ্যাত ফ্যাবিয়ো রেস্ট্রেপো খুন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আর এই হত্যাকান্ডের পেছনে ছিল পাবলো এমিলিও এস্কোবার গারাভিয়া। পাবলো রেস্ট্রেপোকে খুন করার পর, রেস্ট্রেপোর সংস্থাকে নিজের অধীনে করে নেয়। তিনি হয়ে উঠেন পুরো মেডেলিনের মাদকদ্রব্য সাম্রাজ্যের সম্রাট। তিনি তাঁর পরিচালিত সংস্থা “মেডেলিন কার্টেল”কে আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িতে দিতে প্রত্যয়ী হয়ে উঠেন। ‘মেডেলিন কার্টেল’র কাজ ছিল বলিভিয়াতে কোঁকা উৎপাদন, কলোম্বিয়াতে নিজ কারখানায় কোকেইন প্রস্তুতকরণ এবং নিজেদের যানবাহনে কোকেইন ইউএসএ তে পাচার করা। কিছুদিনের মধ্যেই, এস্কোবার কলম্বিয়ার সকল অপরাধকে নিজের মুষ্টিবদ্ধ করে নেওয়ার পাশাপাশি শতকরা আশি ভাগ কোকেইন আমেরিকাতে পাচার করার একমাত্র দাবিদার হয়ে উঠেন। আর এই কোকাইন পাচারের জন্য পাবলো বিভিন্ন পর অনুসরণ করেন। প্রথমে, বিমানের টায়ারে করে কোকেইন চালান করা হতো ইউএসএ তে। এক সময় চালান আরও বাড়াতে ট্রাকের চাকা, জাহাজে করেও পাঠানো শুরু করা হলো। ব্যবসা একসময় এতো বৃদ্ধি হলো যে, পাবলো দুটো সাবমেরিনও ব্যবহার করা শুরু করলেন পাচার করার জন্য।

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এস্কোবারের মাথায় নতুন ভূত চাপে। অনেক তো হলো, মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করে অর্থসম্পদ, গাড়ি, বাড়ি, এমনকি ক্ষমতা নিজের আয়ত্ত্বে করে নেওয়া। এবার একটু রাজনীতি জগতের স্বাদও নেয়া যাক। বলা বাহুল্য, এটা তাঁর ছোটবেলার স্বপ্নও ছিলো বটে। কথায় আছে , “মানুষ যত পায়, তত চায়”। এস্কোবারের অবস্থা অনেকটা তেমন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। আর স্বপ্ন দেখতে তো আর দোষ নেই। এতে তো আর অর্থকড়ি লাগে না, তাই না? আর অর্থকড়ি লাগলেই বা সমস্যা কোথায়? এস্কোবারের মতন লোকের তো আর কোন অভাব নেই। ততদিনে এস্কোবারের অর্থের পরিমাণ এমন পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিলো যে তিনি যে খাটে ঘুমান, সেটির তোশকের ভেতরও হয়তো তুলোর বদলে আমেরিকান ডলার ছিলো। যাইহোক এস্কোবার ১৯৮২ সালে কংগ্রেসের একটি আসন লাভ করেছিলেন। যদিওবা তাঁর এই আসন পেতে যতটুকু শ্রম দিতে হয়েছিলো, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি সেই আসন রক্ষা করতে দিতে হয়েছিলো। আর একটা সময়ে তাকে ঘিরে সৃষ্ট নানা কুৎসার কারণে তাকে প্রেসিডেন্ট হবার স্বপ্ন থেকে দূরে সরে আসতে হয়েছিলো।

মাদক সম্রাট থেকে রাজনীতিবীদ হওয়ার উচ্চ আকাংক্ষা পাবলোর জীবনে শনি হয়ে আসে। সরকারের সাথে তার লড়াই শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট হতে না পারার ক্ষোভে অনেক সরকারী কর্মকর্তা, বিচারক এমন কি মন্ত্রীকে হত্যা করে। যাতে করে কলোম্বিয়ান সরকার আর যুক্তরাষ্ট্রের ডি ই এ পাবলোর পেছনে পরে। পাবলোকে মৃত্যুর আগ পর্জন্ত পালিয়ে বেড়াতে হয় এই জন্য। কিন্তু বেশি পারেনি। দেড় বছর পালিয়ে থাকতে পেরেছিলেন। ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ কলম্বিয়ান সিকিউরিটি ফোর্স এস্কোবারকে মেডেলিনের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাসিন্দাদের এলাকাতে সনাক্ত করে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে দলবল নিয়ে মিশনে নেমে পড়ে। কিন্তু এস্কোবার পুলিশের কাছে ধরা না দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ও লড়াই করে। কিন্তু অবশেষে, তিনি হেরে যান। পুলিশ কর্মকর্তারা ছাদ থেকে পালিয়ে যাবার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুঁড়ে। আর গুলি গিয়ে লাগে তাঁর পা ও শরীরে, কিন্তু আসল আঘাতটি লেগেছিলো তাঁর কানে। যার ফলে, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। যদিওবা প্রচলিত আছে, তিনি আসলে আত্মহত্যা করেছিলেন। আবার অনেকেরই মতে, কলম্বিয়ান পুলিশেরা তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছিলেন।

পাবলো এস্কোবার সম্পর্কে ১০টি চমকপ্রদ তথ্যঃ

১। পাবলো খুব শৌখিন ছিলেন । সেই সময় সে ৭০০০ একর জমির উপর এক প্রাসাদে বসবাস করতেন, যেখানে মিনি চিড়িয়াখানাও ছিল। সেই চিড়িয়াখানায় ছিল জিরাফ, জলহস্তী, হাতি, উটসহ আরও অনেক প্রাণী।২। পাবলো কোকেইন বিক্রি করে এত টাকা আয় করত যে সেই টাকা আনা নেওয়ার জন্য তার আলাদা একটি প্রাইভেট জেট প্লেন ছিল।৩। পাবলোর অর্থের পরিমাণ এত ছিল যে, প্রতি মাসে তার ২৫০০ ডলার টাকার রাবার ব্যান্ড লাগতো টাকা গুলো বান্ডেল করতে।৪। পুলিশর কাছ থেকে পাবলো তার পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াত যখন, তখন একবার পাবলো এর মেয়ের ঠান্ডা লাগছিলো । কিন্তু বাড়িতে আগুন জ্বালানর মত কোন কাঠ ছিল না। পাবলো তার টাকার বান্ডেল থেকে ২ মিলিয়ন ইউএস ডলার আগুনে পুড়িয়ে দেয় মেয়ের ঠান্ডা নিবারনের জন্য।৫। পাবলোর মৃত্যুর পর তাঁর ১৪২টি প্লেন, ২০টি হেলিকপ্টার, ৩২টি প্রমোদতরী এবং ১৪১টি বাসা-অফিস সরকারের অধিকারে আসে।৬। কোকেইন সাম্রাজ্যের সম্রাট পাবলো এস্কোবার গরীবের কাছে পরিচিত ছিলেন ‘রবিনহুড’ নামে। মেদেলিনের বহু হাসপাতাল, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পাবলো। প্রায় ১২টি ফুটবল দলকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন। গরীব মানুষকে অবাধে অর্থদান করতেন। এর ফলে জনগণের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।৭। কলোম্বিয়ান সরকারের সাথে সমঝোতা করে পাবলোকে একবার জেলে যেতে হয়। কিন্তু শর্ত ছিল তিনি জেল নিজের মত সাজিয়ে নিবেন। নিয়ে ছিলেন ও বটে। একে জেল না বলে প্রাসাদ ও বলা চলে। জেলে ছিল ক্যাসিনো, নাইট ক্লাব, স্পা সবই। আর সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাই জেলের ভেতর আসতো পাবলো এর সাথে দেখা করতে। জেলে বসেই পাবলো তার ব্যবসা চালাত।৮। পাবলো তার টাকার একটা অংশ পলিথিনে ভরে বিভিন্ন জায়গায় মাটির নিচে পুতে রাখত। পরে যেটা পুলিশের থেকে পালিয়ে বেড়ানোর সময় কাজে দিয়েছিল।৯। পাবলোর আয় করা অর্থের ১০% নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অনেকের মতে ইদুর তার এই ডলার কেটে নষ্ট করেছিল।১০। পাবলো এস্কোবার প্রায় ৪০০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। এরমধ্যে ২০০ জন বিচারক, ১০০০ জন পুলিশ অফিসার, সাংবাদিক ও অনেক সরকারী কর্মকর্তা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
সোনাক্ষীকে বিয়ে করে ‌'চির কুমার' খেতাব মুছবেন সালমান!
সোনাক্ষীকে বিয়ে করে ‌'চির কুমার' খেতাব মুছবেন সালমান!
পোশাক শ্রমিকদের ৬ গ্রেডের বেতন বাড়ল
পোশাক শ্রমিকদের ৬ গ্রেডের বেতন বাড়ল
এশিয়ার সেরা ৭ বিশ্ববিদ্যালয়, নেই ঢাবি
এশিয়ার সেরা ৭ বিশ্ববিদ্যালয়, নেই ঢাবি
এই রিকশাচালক ৩৪টি কোম্পানির প্রধান!
এই রিকশাচালক ৩৪টি কোম্পানির প্রধান!
পাবজি গেম খেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতালে ৬ তরুণ!
পাবজি গেম খেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতালে ৬ তরুণ!
অতিরিক্ত ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
অতিরিক্ত ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
সেই কিশোরীকে বিয়ে করল ধর্ষক
সেই কিশোরীকে বিয়ে করল ধর্ষক
বাড়ি পেয়ে খুশি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবার
বাড়ি পেয়ে খুশি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবার
শাহনাজের স্কুটি উদ্ধার, হিরো পুলিশ
শাহনাজের স্কুটি উদ্ধার, হিরো পুলিশ
মিলিয়ে দেখুন, ১৮৯৫ ও ২০১৯ এর ক্যালেন্ডার হুবহু
মিলিয়ে দেখুন, ১৮৯৫ ও ২০১৯ এর ক্যালেন্ডার হুবহু
ওটিতে রোগীর সামনেই অন্তরঙ্গে নার্স-চিকিৎসক, ভিডিও ভাইরাল
ওটিতে রোগীর সামনেই অন্তরঙ্গে নার্স-চিকিৎসক, ভিডিও ভাইরাল
চা বিক্রি করেই দম্পতির ২৩ দেশ ভ্রমণ!
চা বিক্রি করেই দম্পতির ২৩ দেশ ভ্রমণ!
প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করায় যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করায় যুবক আটক
চিকিৎসাবিজ্ঞানের যত অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার!
চিকিৎসাবিজ্ঞানের যত অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার!
মাঝরাতে সালমানের বাড়ির গেট ভাঙচুর করলেন ‘জাস্টফ্রেন্ড’ জেসিয়া! (ভিডিও)
মাঝরাতে সালমানের বাড়ির গেট ভাঙচুর করলেন ‘জাস্টফ্রেন্ড’ জেসিয়া! (ভিডিও)
ইসলাম ধর্মে গোসলের প্রকারভেদ
ইসলাম ধর্মে গোসলের প্রকারভেদ
তন্ময়ের আল্টিমেটাম
তন্ময়ের আল্টিমেটাম
১৯ জানুয়ারি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
১৯ জানুয়ারি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
বন্ধ হচ্ছে প্যারিসের সেই নগ্ন রেস্টুরেন্ট!
বন্ধ হচ্ছে প্যারিসের সেই নগ্ন রেস্টুরেন্ট!
তুরস্কের অভাবনীয় সামরিক শক্তি
তুরস্কের অভাবনীয় সামরিক শক্তি
শিরোনাম :
বিপিএল: রংপুরের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে সিলেট বিপিএল: রংপুরের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে সিলেট বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রেক্সিট ইস্যুতে তেরেসার হার, পার্লামেন্টে চুক্তি নাকচ ব্রেক্সিট ইস্যুতে তেরেসার হার, পার্লামেন্টে চুক্তি নাকচ একনেকসহ পাঁচ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি একনেকসহ পাঁচ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি