পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা কতটুকু?

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা কতটুকু?

আহসান জোবায়ের, জবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২০ ১৬ মে ২০২০  

কেউ কেউ বলছেন অনলাইনে ক্লাসের পরিবেশ ও প্রস্তুতি, কোনোটাই তাদের নেই

কেউ কেউ বলছেন অনলাইনে ক্লাসের পরিবেশ ও প্রস্তুতি, কোনোটাই তাদের নেই

করোনা সংকটে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। সেশনজট কমিয়ে আনতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিচ্ছেন। কেউবা আবার অনলাইন ক্লাসকে না বলছেন।  
বিচ্ছিন্ন কেউ কেউ ছাড়া বাকিরা বলছেন এই পরিস্থিতিতে এখন অনলাইনে ক্লাসের পরিবেশ ও প্রস্তুতি, কোনোটাই তাদের নেই।

এ অবস্থায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কয়েকমাসের সেশনজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্ধের ক্ষতি পোষাতে সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি কমিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ ফারজানা মীম বলেন, মার্চ মাস থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। গত ২৪ মার্চ ইউজিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন ক্লাসের আহ্বান জানিয়েছে। যা অবিবেচনাপ্রসূত ও ছাত্রদের জন্যে হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে। একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে হিসেবে মনে করি, বাংলাদেশের অনলাইন ক্লাস করানোর মতো বাস্তবতা তৈরি হয়নি। 

মীম আরো বলেন, এখনো টেকনোলজির এতোটাও ডিজিটালাইজেশন হয়নি যে আমরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবো। কারণ অনলাইন শিক্ষার কার্যক্রম চালাতে গেলে যে সব উপাদান প্রয়োজন তার কিছুরই সরবরাহ নেই। অনেক শিক্ষার্থীরই অনলাইন ক্লাস করবার মতো ডিভাইস নেই, অনলাইন ক্লাস করতে গেলে যে ইন্টারনেট এক্সেস প্রয়োজন তা নেই এবং গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট কানেকশন খুবই দুর্বল। সবচেয়ে বড় কথা, এই মহামারির সময়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে সুস্থ থাকাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ সেখানে ইন্টারনেটের ব্যয়বহুল খরচ একজন শিক্ষার্থী জোগাবে কিভাবে? এই সময়ে অনলাইন ক্লাস হয়রানিমূলক কারণ করোনাকালীন সময়ে সিমেস্টার ফি পরিশোধের বাস্তবতা শিক্ষার্থীদের নেই। এই করোনা মহামারিতে আমাদের পর্যাপ্ত মানসিক স্থিরতাও নেই যা শিক্ষার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্যে অনলাইন ক্লাস গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে আমরা তা মেনে নিবো না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, এই মুহূর্তে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেয়া প্রহসনমূলক কাজ হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই, স্মার্ট ডিভাইসও সবার কাছে নেই। তবে অনলাইনে ক্লাস নেয়া গেলে ভালো হতে, আমাদের এই সময়টা নষ্ট হতো না। অনলাইনে ক্লাস নিলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। তারা অনলাইনে ল্যাব করবে কিভাবে? ল্যাব ছাড়া তো কিছুই বুঝবে না তারা। বাইরের দেশ ও আমাদের ফেসিলিটিজ একই না। আমাদের সব শিক্ষকদের কাছেও এখনো স্মার্ট ফোন নেই। ডিজিটাল ক্লাসের যে মেথড, অনেক শিক্ষক সেই সম্পর্কেও এখনো অবহিত নন। এই মুহূর্তে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন আমরা যদি ভাবি এরমধ্যেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হবে না! তাহলে এই ধারণা ভুল। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট ও ডিভাইসের ব্যবস্থা নেই। এখন অনলাইনে ক্লাস শুরু করলে যাদের সামর্থ্য আছে তারা আসবে আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা আসতে পারবে না। এতে করে বৈষম্য তৈরি হবে। আর করোনায় সারাবিশ্বের শ্রম বাজারে যে শুন্যতা তৈরি হবে আগামী দুই বছর নতুন কোনো চাকরি হয় কিনা সেটাও সন্দেহ। তাই খুব তাড়াতাড়ি সার্টিফিকেট দিয়ে বের করে দিয়ে আমরা কিছু শিক্ষিত বেকার তৈরি করবো, আর কিছু না। শিক্ষা নিয়ে এই তাড়াহুড়োর কিছু নেই। তবে শিক্ষার্থীদের বলবো, তারা যেনো এই সময়টা নষ্ট না করে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, বিশ্ব সাহিত্য নিয়ে অধ্যায়ন করার এখনই সময়। যারা পড়াশোনা করতে চায়, তারা বাইরের পড়া পড়ুক।

ইউজিসির চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষতি অনলাইন ক্লাস করে পোষাবে না এটা আমরা সবাই বিশ্বাস করি। বেশিরভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনলাইনে ক্লাস বা পড়াশোনার মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে হয়তো একটি সেমিস্টারের সেশনজট মোকাবিলা করতে পারবে। এটা তারা নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম