Alexa পান্তা-পোড়া মরিচ খেয়ে গোয়ালঘরে ঘুমান নূরজাহান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

পান্তা-পোড়া মরিচ খেয়ে গোয়ালঘরে ঘুমান নূরজাহান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩০ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  

৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বিবি

৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বিবি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি উপজেলার মৌডুবি খাসমহল গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান বিবি। বয়সের ভাড়ে হাটাচলা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য। তবুও রোগা শরীর নিয়ে গ্রামে বের হন তিনি।

পেটের তাগিদে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হয় ৭২ বছর বয়সী নূরজাহানকে। হাত পেতে যা পান, তা দিয়েই একবেলা রাঁধেন, চার-পাঁচবেলা খান। তবে প্রায় বেলার খাবারই তার পান্তা আর পোড়া মরিচ। কিন্তু যেদিন শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকে না, সেদিন নূরজাহানের কপালে দু’মুঠো খাবারও জোটে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভিটেমাটি নেই বৃদ্ধা নূরজাহানের। খুপরি ঘরের মতো দেখতে অন্যের গোয়ালঘরে কোনোমতে মাথা গুঁজে থাকছেন তিনি। ঘরটির স্যাঁতসেতে মেঝেতে বেছানো একটি পাটিই তার বিছানা। এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। এককোণে চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ি-পাতিল। এসব নিয়েই তার একাকী সংসার। গোয়ালঘরের ভেতরে বাইরে গবাদিপশুর বর্জ্যের দুর্গন্ধে দুর্বিসহ অবস্থা।

কষ্টের জীবনের কথা জানতে চাইলে আশ্রুভেজা চোখে নূরজাহান বিবি বলেন, বাবারে খুব কষ্ট করি। এই শীতে থাহা যায় না। রাইতে বাতাসে গাও, আত-পাও ঠাণ্ডা ওইয়া যায়। থড়থড় কইর‌্যা কাঁপি। অসুখবিসুখ লইয়া বাড়ি বাড়ি যাইতে পারি না। টাহার অভাবে ওষুধ কিনতে পারি না। বোলাইলে কেউ আয়ও না। নিজে রান্ধি যা, হেইয়াই খাই। এই জীবন আর ভাল লাগে নারে বাবা।

নূরজাহান বিবির মেয়ে মমতাজ বেগম বলেন, আমি পরের সংসার করি। ইচ্ছা করলেই মা’রে নিয়া রাখতে পারি না। আমি সংসারের কাজকাম কইরা মাঝেমাঝে আইয়া মা’র কাজকাম করে দেই।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৬ সালে নূরজাহানের স্বামী আজমত হাওলাদার মারা যান। মা-মেয়ের একই গ্রামে থাকলেও অভাব-অনটন, দারিদ্র্যের কারণে নূরজাহানের খোঁজ নেয়া সম্ভব হয় না মমতাজের।

জানা গেছে, দেড় বছর প্রতিবেশী মর্জিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন নূরজাহান বিবি। কিন্তু রোগবালাই’র কারণে বেশিদিন ঠাঁই হয়নি সেখানে। পরে আরেক প্রতিবেশী জহিরুল পঞ্চায়েতের গোয়ালঘরে ঠাঁই হয় তার। সেখানেই কলাপাতা ও পলিথিন দিয়ে চারপাশ বেড়া দিয়ে ঠিকঠাক করে থাকছেন। প্রায় দুই মাস ধরে সেখানেই থাকছেন তিনি।

ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নূরজাহান বিবি খুব মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা তাকে বয়স্কভাতার কার্ড দিয়েছি। আরো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করবো। তাকে একটি সরকারি ঘর দেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এত অন্তত পরের আশ্রয়ে থাকতে হবে না নূরজাহান বিবিকে।

রাঙ্গাবালির ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, নূরজাহান বিবির খোঁজখবর নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর