Alexa পানিতেই লুকিয়ে বিপদ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯,   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬,   ১৫ সফর ১৪৪১

Akash

পানিতেই লুকিয়ে বিপদ

 প্রকাশিত: ১৪:০৪ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ১৪:০৬ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পানি খেলেই বিপদ। শরীরে ঢুকে যেতে পারে ভয়ংকর প্যাথোজেন। রক্তের সঙ্গে যা মিশে গেলে অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করবে না।

জার্মানিতে সম্প্রতি এমনই এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তর জার্মানির লোয়ার স্যাক্সন অঞ্চলের ১২টি জায়গার পানিতে ভয়াবহ এই প্যাথোজেন পাওয়া গেছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া শরীরে একবার প্রবেশ করলে বহু অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।

কারণ, এ ধরনের প্যাথোজেন এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করে, অ্যান্টিবায়োটিককে যা নিস্তেজ করে দেয়।

গবেষকেরা লোয়ার স্যাক্সনি অঞ্চলের থেকে জল সংগ্রহ করে তা পাঠিয়েছিলেন ড্রেসডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মান সেন্টার ফর ইনফেকশন রিসার্চে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের পানিতেই ওই ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক তো বটেই, জীবনদায়ক কোনো কোনো অ্যান্টিবায়োটিককেও অকেজো করে দিচ্ছে এই প্যাথোজেনগুলি।

কিন্তু কীভাবে এর সঙ্গে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে এখনো কেউ আলো দেখাতে পারেননি।

গবেষণার ফলাফল জেনে বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবেশে প্যাথোজেন অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু এত দ্রুত তা এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।

বস্তুত, এ ধরনের প্যাথোজেনকে প্রাণনাষক বলেই মনে করছেন তারা। তাদের ধারণা, দ্রুত এই প্যাথোজেনের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু একই সঙ্গে তাদের আক্ষেপ, পানি দূষণ নিয়ে ইদানীং বহু গবেষণা হলেও প্যাথোজেনের উপস্থিতি কার্যত দেখাই হয় না। কারণ, প্যাথোজেনকে এতদিন পর্যন্ত সমস্যা বলে মনেই করা হতো না।

উত্তর জার্মানির দু`টি বিখ্যাত সাঁতার কাটার জায়গা হলো সুইশেনআনার এবং ট্যুফেলডার লেক। দুঃখজনক বিষয় হলো, এই দু`টি লেকেই প্যাথোজেন পাওয়া গিয়েছে।

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন নদী এবং ঝর্ণার জলেও এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, স্বাস্থ্যবান মানুষের শরীরে প্যাথোজেন থাকলেও তা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু তিনি যখন শিশু বা বৃদ্ধের সঙ্গে শারীরিকভাবে মেলামেশা করেন, তখন তা ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অসুস্থ মানুষের শরীরে খুব সহজেই এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া চলে যেতে পারে। এবং একবার তা চলে গেলে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই আর কাজ করবে না।

বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে জার্মানির পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ব্যাকটেরিয়াটিকে নিয়ে আরো গবেষণার কথা জানিয়েছেন।

দ্রুত যাতে এই সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো যায়, তার জন্য গবেষকদের কাছে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সূত্র : ডিডাব্লিউ

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে