Alexa পাথর ভাঙলে হতে পারে সিলিকোসিস! 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৭ ১৪২৬,   ২৩ সফর ১৪৪১

Akash

পাথর ভাঙলে হতে পারে সিলিকোসিস! 

মোঃ রাশেদুজ্জামান রাশেদ, পঞ্চগড় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ১৫ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পঞ্চগড়ে অসংখ্য ছোট নদীর আছে এবং তেতুলিয়া উপজেলায় সমতল ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে ১০ থেকে ১৫ ফিট গভীরে পাওয়া যায় পাথর এবং উন্নত সাদা বালি।

২০০৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর উদ্বোধনের পর থেকে স্বাভাবিকভাবে ভারত ও ভুটান থেকে পাথর আমদানি শুরু হয়। বাংলাবান্ধায় প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শতাধিক পাথর ভাঙার মেশিনে কাজ করছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। 

ভুটান ও ভারত থেকে আমদানি করা বলডার পাথর প্রথমে শ্রমিকরা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ক্রেসার মেশিনে পাথর ভাঙে। এই উপজেলার শ্রমিকদের পাথর তোলা থেকে পাথর ভাঙা পর্যন্ত কাজে যুক্ত থাকে। এই শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছেন তেতুলিয়া ও বাংলাবান্ধার কয়েক হাজার শ্রমিক। 

তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য পাথরের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু পাথর মালিক-শ্রমিক কেউই স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় মরণ ব্যাধি সিলিকোসিসসহ ভয়াবহ রোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।

সিলিকোসিস রোগটি বেশি অংশে পাথর ভাঙ্গা কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে এরোগ দেখা দেয়। যেসব শ্রমিক পাথর ক্রাশিং মিলে কাজ করেন, পাথর ক্রাশিংয়ের সময় ধুলাবালি শ্রমিকদের নাক-মুখে প্রবেশ করে। তারপর ধীরে ধীরে ওই সব শ্রমিকদের অনেকেরেই সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হন। সিলিকা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহের ফুসফুসের সূক্ষ ছিদ্রগুলোকে বন্ধ করে দেয়। পাথরের ধুলিকণা নাক,মুখ এমনকি চোখের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করায় ফুসফুস ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

বক্ষব্যাধি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে প্রকৃত পক্ষে সিলিকোসিসের রোগের চিকিৎসা নেই। সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ঠ হয়, সর্দি-কাশি, জ্বর সব সময় লেগেই থাকে, শরীর দিনদিন দুর্বল হয়ে পরে এবং ওজন কমে যায়। 

বাংলাবান্ধার পাথর ভাঙ্গা শ্রমিক আব্দুল সাত্তার বলেন, আমি দুই বছর ধরে কাজ করে আসছি সারাদিন পাথর ভাঙ্গার কাজ করে নাক, মুখ বন্ধ হয়ে যায় এবং রাতে কাশি হয়। 

আরেক শ্রমিক রিপন বলেন, ছয় মাস ধরে কাজ করছে অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়েই পাথর ভাঙার কাজ করছি। 

মুজাবুন্নি গ্রামের নুর জাহান বলেন, হামড়া এইলা কিছু না বাহে তোমারঠে আজিনে জানিনু। পাথর ভাঙ্গার ধুলালা চোখে মুখে ডুকে রাইতের বেলায় ঘুম হয় না। 

মুজাবুন্নি গ্রামের ময়না দুই মাসের শিশু নিয়ে বাংলাবান্ধায় কাজে আসেন। তিনি বলেন, স্বামী খাওয়ায় না সন্তানের খাবার যোগাড় করতে হয় তাই এই কাজ করছি আমাদের এলাকায় প্রতিদিন কাজ মিলে না। 

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিকের মাধ্যমে আমরা পাথর ভাঙ্গা শ্রমিকদেরকে প্রতি সপ্তাহে সচেতনমূলক পরার্মশ ও ওষুধ সরবরাহ করে আসছি। পাথর শ্রমিদেরকে মুখে মাস্ক পড়া বা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা ইত্যাদি পরার্মশ দেয়া হচ্ছে। 

এডিসি (সার্বিক) ও উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার মো. এহেতেশাম রেজা বলেন, বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর নিয়ে আমরা অবহিত আছি এবং বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিষদ বরাদ্দ থেকে বন্দরে ৮ থেকে ১০ একর জমিতে উঁচু দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে সেখানে পাথর ক্রাশিংয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস