সিএনজির পথে পাঠাও-উবার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

সিএনজির পথে পাঠাও-উবার

মীর সাখাওয়াত হোসেন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩০ ২৯ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৬ ২৯ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

উত্তরা হাউজ বিল্ডিং মোড়। দাঁড়িয়ে আছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মুহিবুর রহমান। যাবেন মতিঝিলে। খুব দ্রুত যেতে হবে তাকে। তিনি রাইড শেয়ারিং অ্যাপসে কল দিলে রাইড কনফার্ম করলেন চালক। কিন্তু চালক মতিঝিল শুনেই রাইড বাতিল করে দিলেন। ভোগান্তি এখানেই শেষ নয়। কিছুদূর যেতেই কয়েকজন বাইক চালক বলেন, অ্যাপসে যাবোনা, ভাড়ায় গেলে যাবো। নিরুপায় হয়ে তাকে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। হরহামেশা ঘটছে এরকম ঘটনা।

দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তার উপর চালকদের বেপরোয়া গতি আর দুর্ব্যবহার তো রয়েছেই।

একসময় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ ছিল সাধারণ মানুষ। যখন রাইড শেয়ারিংয়ের মতো পরিবহন সেবা আসল তখন মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছিল। এমনই মন্তব্য করলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলতামাস আলম। তিনি বলেন, উবার-পাঠাও-সহজের চালকরা যেভাবে ডেকে যাত্রী নিচ্ছে, তাদের সঙ্গে অটোরিকশা চালকদের এখন আর কোনো পার্থক্য নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মতিঝিল, কাকরাইল, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা আজমপুর, মীরপুর ১ নম্বর গোলচত্ত্বর, আসাদ গেট এলাকায় ডেকে ডেকে যাত্রী নিচ্ছে মোটরসাইকেল চালকরা। তারা অ্যাপস বন্ধ করেই যাতায়াত করছেন।

আহমদ নামের একজন বাইক চালক বলেন, ‘ভাই অ্যাপসে যাইয়া পোষায় না। ওরাই (রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান) মেলা টাকা কাইট্টা রাখে। তাই ডাইকা লোক উঠাই।’

এদিকে, গ্রাম বা মফস্বল থেকে অনেকেই ঢাকায় এসে উবার,পাঠাও বা সহজের মত অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদের বেশির ভাগই ঢাকার রাস্তাঘাট চেনেনা। জানেনা ট্রাফিক আইন-কানুনও। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোয় এর মধ্যে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

গত বছরের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবণ্য নিহত হন। লাবণ্য শ্যামলী এলাকার নিজ বাসার সামনে থেকে উবারের মোটরসাইকেলে করে খিলগাঁওয়ের ছায়াবিথী এলাকায় যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলটি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে লাবণ্য মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গেলে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় তার মৃত্যু হয়।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর বাসা থেকে ফার্মগেট কোচিংয়ে যাওয়ার পথে বিজয় সরণিতে উবার চালকের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী আকলিমা আক্তার জুঁই। পরে আহত জুঁইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ২ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এভাবে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে শুধু অদক্ষ চালক আর রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক নজরদারির অভাবে।

জানা গেছে, অ্যাপস ভিত্তিক পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাঠাও ও উবারে রাইডারের সংখ্যা বেশি। আর এদের বিরুদ্ধে অভিযোগও বেশি।

যাত্রী হয়রানি, বেপরোয় গতিসহ সার্বিক বিষয়ে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন এম ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, আমি এসব বিষয়ে কথা বলিনা। পিআর সেকশন এসব বিষয়ে ডিল করে। তবে তার দেয়া পিআর সেকশনের ফোন নম্বরে কয়েকদফা কল করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।

সহজের হেড অফ রাইড আদনান খান বলেন, সহজ রাইড এর নতুন ট্যাগলাইন 'আপনি সবার আগে'। আমাদের গ্রাহকদের যাতে কোন রকম ভোগান্তির সম্মুখীন না হতে হয়, সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের পুরো রাইডার নির্বাচন পদ্ধতি, ট্রেনিং ও কম্পলেইন সিস্টেম আপগ্রেড করেছি। এছাড়া যেকোনো জরুরি অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আমাদেরই আছে গ্রাহকদের জন্য ডেডিকেটেড হেল্পলাইন 16374 ও ফেসবুক মেসেঞ্জার সার্ভিস। উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো যে আমাদের রাইডাররা ট্রিপ এর আগে যাত্রীর গন্তব্য দেখে নিতে পারে, যে কারণে আমাদের গ্রাহকদের রাইড ক্যান্সেল বা ফরোয়ার্ড হওয়ার খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় না।

এ বিষয়ে উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো উত্তর দিতে রাজি হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এস/এসএএম