Alexa পাঞ্জাবি টুপি পরে জেডিসি পরীক্ষায় হিন্দু শিক্ষার্থী

ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

পাঞ্জাবি টুপি পরে জেডিসি পরীক্ষায় হিন্দু শিক্ষার্থী

পঞ্চগড়  প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:০৯ ১১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৬:০৮ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

হিন্দু পরিবারের সন্তান হয়েও ইসলাম ধর্মকে জানার অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর প্রবল আগ্রহে বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন নয়ন নামে এক হিন্দু শিক্ষার্থী। নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে অংশ নেয় চলমান জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায়। 

কোরআন মাজিদ, আরবিসহ হয়ে যাওয়া সব পরীক্ষা ভালোই হয়েছে বলেও জানান নয়ন। 

বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায়। 

নয়ন উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউপির প্রামাণিক পাড়া এলাকার শ্রী রতন রায়ের ছেলে। সে স্থানীয় শেখ বাধা রেজিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এবার জেডিসি পরীক্ষা দিচ্ছে। হিন্দুর ছেলে হয়ে মুসলিম প্রতিষ্ঠানে পড়ছে কেন? এই নিয়ে অভিযোগও নেই পরিবারের। 

তার বাবা রতন রায় জানান, তার ছেলে মাদরাসায় ভর্তি হওয়ায় তার পরিবার থেকে কোনো প্রতিকূলতা দেখানো হয়নি। 

ওই মাদরাসার সুপার মাও. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় আমি জানতাম না যে, নয়ন হিন্দু সম্প্রদায়ের। কারণ, তার মাদরাসায় দেয়া তথ্যে নিজের নামসহ বাবা-মায়ের নামের সামনে পিছনে কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছিলনা। পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য সে টুপি পাঞ্জাবি পরা ছবি দিয়েছিলো। তাছাড়া নয়ন, রতন এমন নাম মুসলিমদেরও আছে। 

এ বিষয়ে নয়নের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, সে তার পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছিল। কারণ, সে সনাতন ধর্মের এটা জানার পর যদি শিক্ষকরা তাকে মাদরাসায় ভর্তি না করেন। 

ইসলাম ধর্মকে জানার এত আগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নয়ন বলেন, আমি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে পড়েছি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদরাসার সহপাঠীদের সঙ্গে প্রাইভেট পড়তাম। তখন তাদের চালচলন, পড়ালেখা এবং ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখে ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। তখন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদরাসায় ভর্তি হই। আর আমি মাদরাসা থেকেই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চাই। মাদরাসায় পড়লে তো আরবি জানা আবশ্যক এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বলেন, আমি আলাদাভাবে প্রাইভেট পড়ে আরবি বিষয় মোটামুটি আয়ত্ত করেছি। 

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সলিমুল্লাহ বলেন, এমন কোনো তথ্য আমি পাইনি। তাই এখন কিছু বলতে পারছি না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ