পাকিস্তান নয় সাফের ফাইনালে ভারত

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

পাকিস্তান নয় সাফের ফাইনালে ভারত

 প্রকাশিত: ২২:৫৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২২:৫৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া মানে এক ধরনের আলাদা উত্তেজনা। আর এমন এক উত্তেজনক ম্যাচে সাফের দ্বিতীয় সেমিতে মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। ১৩ বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে তাদের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আর তাই সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ও মালদ্বীপ।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার ম্যাচের প্রথমার্ধে শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে রাখে ভারত। একের পর এক আক্রমণ করে ব্যর্থ হতে থাকে তারা। পাকিস্তান ও কম যায় না, তারাও ধীরে সুস্থে আক্রমণ করতে থাকে। আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণের ধারায় বল মাঝ মাঠেই বেশি থাকে।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ভারতের ডিবক্সের মধ্যে ফ্রি কিক পায় পাকিস্তান। ভারতের রক্ষভাগের খেলোয়াড়ের ব্যাকপাস গোলরক্ষক ভিশাল হাত দিয়ে ধরলে রেফারী ফ্রি কিকের নির্দেশ দেয়। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি পাকিস্তান। ৪২ মিনিটে ভারতের ডি বক্সের মধ্যে পাকিস্তানের রিয়াজকে ফাউল করলে রেফারী ফ্রিকিকের নির্দেশ দেয়। 

আলী ফাসিরের কিক বারের পাশ ঘেষে বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে আবারো সহজ সুযোগ হারায় পাকিস্তান। ডান প্রান্ত দিয়ে সাদ্দামের বাড়ানো  ক্রসে মো: আলী হেড করলে বল বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত গোল শুন্য ভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধেও খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধে  শুরু থেকেই ভারত পাকিস্তানকে চাপে রাখে। আর এর ফলও পেয়ে যায় কিছু সময়ের ভিতরই। আশিক খুরনিয়ানের ক্রসে পা ছুয়িয়ে দেন মানভির সিং আর এতেই সেমিফাইনালের প্রথম গোল পেয়ে যায় ভারত। ফলাফল ভারত ১ আর পাকিস্তান ০। 

আর এর পর থেকেই গোলে ফেরার চেষ্টায় থাকে পাকিস্তান। কিন্তু গোলে ফেরা আর হয় না তাদের। পাকিস্তান আক্রমণ করলে ৬৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ করে বসে ভারত। লালিয়ানজুয়ালা একাই বল নিয়ে ছুটটে থাকে পাকিস্তানের গোল বারের উদ্দেশ্যে। 

ডি-বক্সে ঢুকে মানভিরের উদ্দেশ্যে বল ছুড়ে দেন তিনি। আর এবারো ভারত-পাকিস্তানের ব্যবধান বাড়ান মানভির (২-০)। ৮৩ মিনিটে পাকিস্তানের গোল বারের বা পাশ থেকে আশিক খুরনিয়ানের উরন্ত ক্রস। আর এতেই পা ছোঁয়ান বদলি খেলোয়াড় সুমিট পাসি (৩-০)। 

৮৬ মিনিটে পাকিস্তানের  মহসিন আলী ভারতের লালিয়ানজুয়ালাকে টেনে ফেলে দেন আর লালিয়ানজুয়ালা তাকে ঘুষি মারে। এতে রেফারি দুইজনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ৮৭ মিনিটে সেমিতে হাসান বসিরের পা থেকে প্রথম গোলের দেখা পায় পাকিস্তান (৩-১) । এরপরও গোল ব্যবধানের চেষ্টা করে পাকিস্তান কিন্তু সফল হয়নি। আর এতেই ১২ বারের মত সাফের ফাইনালে উঠল ভারত। 

পূর্বে সাফ ফুটবলে রেকর্ডে সাত বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। কিন্তু পাকিস্তান একবারও রার্সানআপ হতে পারেনি। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৯৭ আসলে তৃতীয় স্থান অর্জন। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইও পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিয়েছিল আগেই। সবমিলে দুই দলের ২৩ বারের দেখায় ১৪টিতেই জিতেছে ভারত। ড্র ৬টিতে। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩টি ম্যাচ।

ঢাকার মাঠেই ২০০৩ সালে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। নিজেদের ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় জয়। তৃতীয় জয়টি পায় তারা ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। প্রথম জয়টি ছিল ১৯৫৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে।

পাকিস্তান সবশেষ ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে সাফের সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে তাদের ফাইনালে যাওয়া হয়নি। এবারো তাদের ফাইনালে যাওয়া হোল না। ৩-১ গোলের হার নিয়ে বিদায় নিল পাকিস্তান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/টিএএস