পাকিস্তানে এত শিশুর এইডস কেন?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

পাকিস্তানে এত শিশুর এইডস কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪২ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১০:৪৬ ২২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে একমাসেরও কম সময়ে ৬০০র বেশি মানুষ, তাদের ৭৫% শিশু এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তা কিভাবে, কেন ঘটেছে কেউ জানে না।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাত্তো ডিরোতে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম নজরে আসে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে ১৫টি শিশু এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, যদিও তাদের কারো বাবা-মায়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

সিন্ধু প্রদেশে এ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে বহু উদ্বিগ্ন বাবা মা বিশেষভাবে প্রস্তুত করা ক্যাম্পে ভিড় জমালে গতমাসে ৬০৭ জনের বেশি মানুষের এইচআইভি সংক্রমণ নির্ণয় করা হয়েছে, যাদের ৭৫ শতাংশ শিশু।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলটিতে এটাই প্রথম এই ধরনের প্রাদুর্ভাব নয়। ২০১৬ সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় গুজবের কারণে হাজার হাজার মানুষকে প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করেন।

সিন্ধু এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুসারে, সেইসময় ১৫শ ২১ জন এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।

সংক্রমিতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল পুরুষ, সেইসময় এর পেছনে কারণ হিসেবে ছিল সেই অঞ্চলের যৌনকর্মীরা যারা ছিল প্রধানত তৃতীয় লিঙ্গের এবং তাদের ৩২ জন এইডস বহন করছে বলে জানা যায়।  

এই প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর লারকানায় আগন্তুকদের প্রবেশের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়, যেখানে পাকিস্তানে পতিতাবৃত্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যৌনকর্মীরা অপেক্ষাকৃত স্বাধীনভাবে তাদের ব্যবসা চালাতে সক্ষম হয়েছে। 

সিন্ধু এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এসএসিপি)র প্রধান ডক্টর আসাদ মেমন বিবিসিকে বলেন, আমি মনে করি এই ভাইরাস (এইডস)অতি ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপের সদস্যদের(তৃতীয় লিঙ্গ এবং নারী যৌনকর্মী) দ্বারা পরিবাহিত হয়েছে এবং পরে স্থানীয় হাতুড়ে ডাক্তারদের অসতর্কতার কারণে তা অন্যান্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটিয়েছে।  

সিরিঞ্জের একাধিক ব্যবহার এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। কারণ টাকা-পয়সা কম লাগে। সহজে পাওয়া যায় এবং রোগীদেরকে দেয়ার মত প্রচুর সময় রয়েছে তাদের হাতে।

আগা খান ইউনিভার্সিটি হসপিটালের এইডস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডক্টর ফাতিমা মীর রাত্তো ডিরোতে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন। তিনি সম্মত হলেন যে অবহেলাপূর্ণ চিকিৎসা সেবা অধিকাংশ শিশুর সংক্রমণ এবং ২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবের পেছনে দায়ী।

তিনি বলেন, তিনটি উপায়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। হয়তো এই ভাইরাস বহনকারী মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে, রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে, কিংবা সংক্রামিত অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম বা সিরিঞ্জের মাধ্যমে।

তার অভিজ্ঞতা অনুসারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মা এইচআইভি পরীক্ষায় নেগেটিভ দেখা যায় এবং কিছু শিশুদের রক্ত সঞ্চালনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে একই সিরিঞ্জ একাধিক রোগীর শরীরে পুশ করা হয়।

পুরো প্রদেশ জুড়ে প্রায় ৫০০ অনিয়ন্ত্রিত ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তেমনই জানাচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি এই্চআইভি সংক্রমের শিকার এলাকা সিন্ধু প্রদেশের কর্মকর্তারা এই প্রাদুর্ভাবের কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে।  

একজন মা বলছিলেন, আমার স্বামী দিনমজুর, ফলে দীর্ঘদিন এটার ব্যয় নির্বাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে