পাকিস্তানের প্রশংসা ট্রাম্পের মুখে: অস্বস্তিতে ভারত

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৫ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

পাকিস্তানের প্রশংসা ট্রাম্পের মুখে: অস্বস্তিতে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫২ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:২৬ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মঞ্চে ওঠার সময় একবার। মোদির বক্তব্য শেষ করার পর একবার। আবার ট্রাম্প বক্তব্য শেষ করার পর একবার। মোট তিন-তিনবার নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প একে অপরকে আলিঙ্গন করলেন। এমনই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ ছিল 'নমস্তে ট্রাম্প'-এর মঞ্চে।  তবে মঞ্চে দেয়া এক বক্তব্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অস্বস্তিতে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এনডিটিভি’র তথ্যানুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান কূটনীতির লড়াইয়ের প্রথম পর্বে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এগিয়ে থাকলেও, সন্ত্রাস দমনের প্রশ্নে ট্রাম্প সোমবার আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে যেভাবে মার্কিন-পাকিস্তান সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনেছেন, ভারতের কাছে তা অপ্রত্যাশিত ছিল।

ট্রাম্প মঞ্চে বলেছেন, চরমপন্থী ইসলামী সন্ত্রাসবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে দুই দেশই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বলেন ইরাক-সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের কথা। আসে আল বাগদাদী খতমের প্রসঙ্গও। এই কথা প্রসঙ্গেই ট্রাম্প আসেন পাকিস্তানের কথায়।

ভারত-পাকিস্তান তিক্ততার কথা মাথায় রেখে কার্যত ভারসাম্যের পথ নিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ভারতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সন্ত্রাসের ‘সাপ মারার’ কথা বললেন বটে, তবে ‘লাঠি যাতে না-ভাঙে’ সে দিকেও সতর্ক রইলেন তিনি। ‘লাঠি’ মানে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক।

ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের মঞ্চ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই ভাল। আর তার জন্যই তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ দমনে বড় অগ্রগতির লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা হ্রাস করার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর স্থিতিশীলতা আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই কাজে অন্যতম শক্তি হিসেবে ভারতের সহায়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র। 

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত সফরে এসে কাশ্মীরের মতো বিতর্কিত প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ না-খুললেও, পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে একঘরে করার পক্ষপাতী নন তিনি।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, চলতি বছরেই ভোটের আগে আফগানিস্তান থেকে সেনাবাহিনী সরাতে চায় মার্কিন প্রশাসন। সে ক্ষেত্রে পাক-আফগান সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, সেটা বিলক্ষণ জানে পেন্টাগন। তাই সেনা সরানোর আগে পাকিস্তানকে চটানোর ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ট্রাম্প প্রশাসন। সে কারণেই ট্রাম্পের বক্তৃতায় ঠাঁই পেয়েছে উপমহাদেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা।

সোমবার মোদির ‘নমস্তে ট্রাম্প’ মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে পাকিস্তানের প্রশংসা শুনে পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়েছে কংগ্রেস। দলের এক নেতার প্রশ্ন, সন্ত্রাস প্রশ্নে ভারতসহ গোটা বিশ্ব পাকিস্তানকে একঘরে করতে মরিয়া। অথচ ট্রাম্প এসে উল্টে শংসাপত্র দিয়ে গেলেন ইসলামাবাদকে! ইমরান খান সরকার কী এমন করেছে, যার জন্য এই ধরনের প্রশংসা করা হল? তা হলে তো পাকিস্তানকে এফএটিএফের ধূসর তালিকা থেকেই সরিয়ে দেয়া হতো। তা তো হয়নি। আসলে ভারত সরকারের অর্থে নিজের প্রচারের পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রশংসা করে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ