পাকা সেতুতে কমছে দুর্ভোগ

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

পাকা সেতুতে কমছে দুর্ভোগ

 প্রকাশিত: ১৭:২৬ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৭:২৬ ২০ জুলাই ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অরণ্য আর পাহাড়বেষ্টিত জনপদ খাগড়াছড়ি। ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে ভিন্নরূপ রয়েছে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থায়। এখানকার অধিকাংশ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ ধরে। দৃশ্যত সমতল এলাকার তুলনায় দুর্গম পাহাড়ের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ধসসহ নানা কারণে পাহাড়ি সড়কের ভোগান্তিও রয়েছে। এছাড়া পার্বত্যঞ্চলে ৭০-৮০ দশকে নির্মিত বেইলি ব্রিজগুলো সড়কের আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি ছড়া বা নদীর উপর নির্মিত এসব বেইলি ব্রিজ ভেঙে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে । আর দুর্ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। বর্ষায় ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়। এসব পুরনো লক্কর-ঝক্কর বেইলি ব্রিজ নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে খাগড়াছড়ি বাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সরকারের কাছে।

দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেইলি ব্রিজ সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। বদলে যাচ্ছে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। একাধিক সড়কে বেইলি ব্রিজের জায়গায়  হচ্ছে পাকা সেতু। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

জানা যায়, পাকা সেতু নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক দশকের ভোগান্তি কমছে। খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৩৩ কিলেমিটার দূরে জালিয়াপাড়া-সিন্ধুকছড়ি-মহালছড়ি সংযোগ সড়ক প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। এই সড়কে তিনটি স্থানে  পাকা সেতু হয়েছে।

এই পথে চলাচলকারী চালকরা জানান, সড়ক যোগাযোগ ভালো থাকলেও বেইলি ব্রিজ ছিল ভোগান্তির মূল কারণ। সড়কে যাতায়াতে এটি ছিল প্রধান বাধা। একবার বেইলি ব্রিজ ভাঙলে সংস্কারে দীর্ঘদিন সময় লাগত। এখন অবস্থা পাল্টেছে। পাকা সেতু হওয়ায় বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ হয়েছে।

কলেজ পড়ুয়া কয়েকজন যুবক জানান, সিন্ধুকছড়ি বাজার থেকে জালিয়াপাড়া যেতে এই সড়কটি একমাত্র যোগাযোগের পথ। এই সড়কে তিনটি জায়গায় বেইলী ব্রীজের জায়গায় পাকা সেতু  হয়েছে। কেবল জালিয়াপাড়া-সিন্ধুকছড়ি সড়কেই নয় পাকা সেতু নির্মাণের কাজ চলছে জালিয়াপাড়া-রামগড় সড়কেও।

রাজধানীর সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলার যোগাযোগের জন্য এটি একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন শত শত মালবাহী ট্রাকসহ নানা যানবাহন এই পথে যাতায়াত করে। অতীতে একাধিকবার এই সড়কের বেইলি ব্রিজ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।

মালবাহী ট্রাকের চালক মো. জামাল হোসেন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালাই ১২ বছর ধরে। সড়কের একাধিক স্থানে ছড়ার উপর থাকা বেইলি ব্রিজ একরকম আতঙ্ক ছিল। বিশেষত মাল বোঝাই অবস্থায় চলাচল করতে গেলেই ব্রিজের পাটাতন খুলে গিয়ে কিংবা ব্রিজের রেলিং ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটত।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর হলেও সরকার এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাকা সেতু নির্মাণ করায় আতঙ্ক দূর হয়েছে।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া-সিন্ধুকছড়ি সড়কে চারটি সেতু ও তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।এরইমধ্যে সিন্ধুকছড়ি সড়কের তিনটি সেতুর কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে রামগড় পাতাছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুতে ঢালাইয়ের কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) এর অর্থায়নে সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মের্সাস জাকির এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো জাকির হোসেন জানান, পাহাড়ি এলাকায় কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছড়ার তীব্র স্রোতসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতে নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। মেয়াদের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

সেতু প্রকল্প প্রকৌশলী মানিক চন্দ্র দাস বলেন, সড়কটি গুরর্ত্বপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ডিসেম্বর নাগাদ এই সড়কের সবক’টি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে কয়েকটি কালভার্টও রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর ছড়া ও নদী রয়েছে। আশি-নব্বই দশকে এসব ছড়ার উপর বেইলি ব্রিজ নির্মার্ণ হলেও তা এখন নড়বড়ে হয়েছে। ফলে সড়কে যোগাযোগ সুরক্ষা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। খাগড়াছড়িতে সওজ এর আওতায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সড়কে একাধিক স্থানে বেইলি ব্রিজ ছিল।  সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাকা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাহাড়ি সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত হবে। এতে জেলাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ