Alexa পাইলট আবিদের পাশেই রইলেন স্ত্রী

ঢাকা, সোমবার   ২১ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৫ ১৪২৬,   ২১ সফর ১৪৪১

Akash

পাইলট আবিদের পাশেই রইলেন স্ত্রী

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ২৩ মার্চ ২০১৮   আপডেট: ১৯:১৬ ২৩ মার্চ ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদের স্ত্রী আফসানা খানমকে তার স্বামীর পাশেই দাফন করা হয়েছে।

বনানীর সামরিক কবরস্থানের দাফন করা হয় আফসানা খানমকে।

নেপালে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম শোক কাটিয়ে আর জীবনে ফিরতে পারেনি। শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান

বাদ আসর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে আফসানা খানমের জানাজা হয়। সেখান থেকে বনানীর সামরিক কবরস্থানের নেয়া হয় আফসানা খানমের মরদেহ।

দশ দিনের মধ্যে বাবা ও মাকে হারিয়ে ‘স্তব্ধ’ হয়ে গেছে তাদের একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান মাহি।

আফসানার ফুফাতো ভাই খন্দকার রেজাউল করিম বলেন, মাহি চুপ করে আছে। কাঁদলে মন হালকা হতো।

তিনি জানান, আবিদের মৃত্যুসংবাদ পেয়েও তার স্ত্রী আফসানা কাঁদেননি। শক্ত হয়ে ছিলেন। মায়ের স্ট্রোকের সময় মাহি পাশে ছিল। এখন ছেলেকে নিয়েই তাদের যত চিন্তা।

নেপালে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন ছিলেন আবিদের স্ত্রী আফসানা। প্রথমে তাকে জানানো হয়েছিল, আবিদ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। পরে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। এরপর থেকে স্ত্রী আফসানা ভেঙে পড়েন।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

প্রথমে তাকে বাসার কাছে উত্তরাতেই একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

`আফসানার মস্তিষ্কে দুইবার রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হয়েছিল। প্রথমবার ছিল মৃদু, পরেরটি গুরুতর। তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছিল। এভাবেই তার চিকিৎসা চলছিল।`

হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, আমরা সম্ভব সব চেষ্টাই করেছি। কিন্তু আজ সকালে উনার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর আর কিছু করার ছিল না।

আফসানার চাচা ইয়াদ আলী বলেন, ভোরেই আমরা জানতে পারি ওর অবস্থা খারাপের দিকে। আমরা আসতে আসতে ওর অর্গানগুলো অকার্যকর হতে থাকে। পরে সাড়ে ৯টায় মারা যায়।

আফসানার মৃত্যুর খবরে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে এলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আবিদ-আফসানার উত্তরার বাসায়।

পাইলট আবিদের ভাই অধ্যাপক খুরশিদ মাহমুদ জানান, শুক্রবার বাদ আসর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর জামে মসিজদে আফসানা খানমের জানাজা হয়। এরপর তাকে বনানী সামরিক কবরস্থানে আবিদের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

ইউএস বাংলার একটি বিমান ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হলে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই বিমানের প্রধান পাইলট ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আবিদ সুলতান।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ জনের মরদেহ রোববার দেশে ফিরিয়ে এনে আর্মি স্টেডিয়ামে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আবিদ-আফসানার একমাত্র ছেলে তানজিব বিন সুলতান মাহি সেদিন হাসপাতালে মাকে রেখে বাবার লাশ নিতে বনানীতে যায়।

বাবার মৃত্যুর ১১ দিন পর মাকে হারিয়ে উত্তরার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের ছাত্র মাহি যেন একেবারেই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

আবিদের ছোট ভাই খুরশীদ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা প্লিজ আমাদের একটু একা থাকতে দিন। আমাদের স্বাভাবিক হয়ে উঠতে দিন।

ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ সুলতান একসময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের বৈমানিক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর রানীনগরে। বাবা এম এ কাশেমও ছিলেন বৈমানিক।

পাঁচ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল আবিদের। নেপালের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফটটি ক্যাপ্টেন তিনিই কানাডা থেকে বাংলাদেশে উড়িয়ে এনেছিলেন।

আর আফসানাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে। তার বাবা এ কাশেম শেখ একজন চিকিৎসক। ছেলেকে নিয়ে তারা থাকতেন উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাসায়।

দুর্ঘটনার পর ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বলেছিলেন ক্যাপ্টেন আবিদ অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন এবং কাঠমান্ডু এয়ারপোর্ট টাওয়ার কন্ট্রোলের ভুল বার্তার কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

তবে কাঠমান্ডু এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বিমান বিধ্বস্তের জন্য ভুল অবতরণকে দায়ী করেছিলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআর