Alexa পাঁচ তারকা খ্যাত ভুতুড়ে পাঁচ হোটেল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

পাঁচ তারকা খ্যাত ভুতুড়ে পাঁচ হোটেল

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪২ ১৬ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হোটেল বলতেই সব সময় মনে আসে বিলাসবহুল কামরা, আতিথেয়তা এবং সুস্বাদু খাবারের সমাহার, কিন্তু ভাবুন তো বিনামূল্যে যদি পাওয়া যায় অশরিরীর উপস্থিতি, রাতের বেলায়ে অদ্ভুত শব্দ, জানালা দরজার অস্বাভাবিক আচরণ। ভয়ের সাথে উপরি হিসেবে একটা ভৌতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে পারেন আপনি। যদিও সেই রাতে আপনার নিশ্চিন্ত ঘুম হওয়ার মতো কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারছিনা, কিন্তু তেনাদের সাথে রাত কাটানোর সৌভাগ্যই বা কতজনের হয়!

হোটেল ব্রিজরাজ ভবন, রাজস্থান১. হোটেল ব্রিজরাজ ভবন, রাজস্থান
এই প্যালেসটি অষ্টাদশ শতকে নির্মান হলেও ১৯৮০ সাল থেকে এটিকে হোটেল এ রুপান্তরিত করে ভ্রমনার্থীদের ভাড়া দেওয়া শুরু হয়। শোনা যায়, মেজর বার্টন নামে এক অশরীরী সাহেব এরও ঠিকানা এটি, ১৮৫৭ তে সিপাহি বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীদের হাতে যার মৃত্যু ঘটে। এই সাহেব ভুত, মাঝরাতে করিডোর এ পায়চারি করেন, ঘুমিয়ে পড়া নৈশপ্রহরীদের কখনো সখনো থাপ্পর মারেন, কিন্তু টুরিস্টদের প্রতি তিনি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।

হোটেল ফার্ন হিল, ঊটি২. হোটেল ফার্ন হিল, ঊটি
এই হোটেলটির ভুতুড়ে ক্রিয়াকলাপ প্রকাশ্যে আসে যখন বলিউড এর বিখ্যাত ফিল্ম রাজ এর শুটিং এর জন্য এটিকে ভাড়া নেয়া হয়। পরিচালক সরোজ খান ও তার ক্র্যু মেম্বাররা একদিন মাঝরাতে ছাদের উপর নানান আসবাবপত্র সরানোর একটানা সজোরে আওয়াজ শুনতে পান। তারা ভাবেন কেউ হয়তো দোতলায়ে আসবাবপত্র ওলটপালট করছে, ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তারা হোটেল রিসেপশনে ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন বেজে যায়। সকালে উঠে হোটেল কর্তৃপক্ষ দেখান যে পুরো হোটেলটি একতলাই, সেখানে কোনো দোতলাই নেই। এই ঘটনার পর থেকে ওই হোটেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

হোটেল রাজকিরন, লোনাভ্লা ৩. হোটেল রাজকিরন, লোনাভ্লা 
মুম্বাই থেকে ঘণ্টা দুয়েক গেলেই শান্ত পাহাড়ি পরিবেশে লোনাভ্লার হোটেল রাজকিরন আপনাকে স্বাগত জানাবে, খুব বড় না হলেও ছিমছাম এই হোটেলটি কিন্তু পছন্দসই। কিন্তু ভুলেও এর অভ্যর্থনা কক্ষের পিছনের ঘরটি নেবেন না। কারণ অনেক পরলৌকীক বিশেষজ্ঞ এই হোটেলটিকে বিশেষ করে ওই কোণার ঘরটিকে ভৌতিক আখ্যা দিয়েছেন। ওই ঘরে থাকা কোনো পর্যটক মাঝরাতে অনুভব করেছেন তার বিছানার চাদর কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। অথবা কেউ কেউ পায়ের কাছে একটা নীল আলোকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন।

মর্গান হাউস টুরিস্ট লজ, কালিম্পং৪. মর্গান হাউস টুরিস্ট লজ, কালিম্পং
কালিম্পং এর সুন্দর পরিবেশ আর প্রাকৃতিক ঠান্ডার সাথে সাথে আপনার মেরুদন্ডেও একটি শীতল স্রোত বইয়ে দেবে এই মর্গান হাউসে কাটানো একটি রাত। ১৯৩০ সালে জর্জ মর্গান এটি তৈরি করেন কিন্তু তার স্ত্রী লেডি মর্গান এর মৃত্যুর পর এখানে টিকতে পারেননি তিনিও। আজো মর্গান হাউসে লেডি মর্গান এর কণ্ঠস্বর এবং কাঠের মেঝের উপর দিয়ে তার হিল-জুতো পড়ে পায়চারি করার আওয়াজ শোনা যায়।

হোটেল সিতারা, রামোজি ফিল্ম সিটি, হায়দরাবাদ৫. হোটেল সিতারা, রামোজি ফিল্ম সিটি, হায়দরাবাদ
হায়দরাবাদ এর রামোজি ফিল্ম সিটি তৈরি হয়েছে নিজাম দে’র যুদ্ধক্ষেত্র অনাজপুরে। মনে করা হয়, শত শত নিহত সৈনিকদের আত্মা পরিবেষ্টিত এই জায়গা। অশরীরীদের উপস্থিতি অনুভুত হয় সারা ফিল্ম সিটি জুড়েই। বাদ যায়না ফিল্ম সিটির লাগোয়া এই সিতারা হোটেলটিও। হোটেল এর ঘরে বা ফিল্ম সিটির ড্রেসিংরুম, সর্বত্র ছড়িয়ে আছে অতৃপ্ত আত্মাদের উপস্থিতির নানান কাহিনী। যা এই রামোজি ফিল্ম সিটি লাগোয়া পরিবেশকে করে তুলেছে হায়দরাবাদ এর সব থেকে ভৌতিক স্থান।