.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৬ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা লাপাত্তা

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৫ ১৮ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫৮ ১৯ মার্চ ২০১৯

ফেনী শহরের ঢাকা ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টানা তিনদিন ব্যাংক বন্ধ থাকার পর বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার সকালে। এরপর থেকেই ব্যাংকে ভিড় করে গ্রাহকরা। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ওই কর্মকর্তার নাম গোলাম সাঈদ রাশেব।

সাঈদ ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নের বড়বাড়ির আজিজুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।  তিনি ফেনী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার (ক্রেডিট) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। এ শাখায় দুই মেয়াদে প্রায় ৯ বছর চাকরি করে আসছেন তিনি।

ব্যাংকটির ফেনী শাখার ম্যানেজার আখতার হোসেইন সরকার জানান, দীর্ঘদিন চাকরির সুবাদে এখানকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আস্থাভাজনে পরিণত হন রাশেব। গ্রাহকরা নির্দিধায় তার কাছে চেক, নগদ অর্থ ও ঋণের কিস্তির টাকা দিয়ে যেতেন। বিশ্বস্থতার সুযোগ নিয়ে রাশেব অনেক গ্রাহকের থেকে ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে ব্যাংকের অন্য নিজে ও অফিসারদের দিয়ে ব্যাংক চেক সংগ্রহ করেন। তার গতিবিধি সন্দেহজন হলে ১২ মার্চ মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতনদের লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরদিন যথারীতি অফিসে এসে সকাল সাড়ে দশটার পর বাইরে গিয়ে উধাও হয়ে যান ওই কর্মকর্তা।

চেক উত্তোলনের ম্যাসেজ পেয়ে বৃহস্পতিবার দু’একজন গ্রাহক ব্যাংকে অভিযোগ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ঠিক কতটি একাউন্ট থেকে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে এর সঠিক হিসেব এখনই বলা যাচ্ছে না। গ্রাহকরা মৌখিক ও লিখিতভাবে জানাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়েছেন রাশেব। ঢাকা থেকে আইটি এক্সপার্ট আসছেন। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি চিহ্নিত করা যাবে। প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিস্পত্তি করার চেষ্টা চলছে।

দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মাহবুবুল হক রিপনের একাউন্ট থেকে ৩৪ লাখ টাকা উধাও হয়ে গেছে অভিযোগ করে রিপন জানান, তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজের অধিনে ব্যাংকের এ শাখায় ৫ কোটি টাকার ঋণ চলমান রয়েছে। ঋণ সমন্বয়ের কথা বলে দুটি ব্যাংক চেক নেন চতুর গোলাম সাঈদ রাশেব। পরে একাউন্ট চেক করে দেখা যায় এ দুটো চেক ব্যবহার করে টাকাগুলো উত্তোলন করেন। তার ছোট ভাই ফজলুল হক পলাশের মুনতাসির এন্টারপ্রাইজ নামীয় একাউন্ট থেকে ৪২ লাখ টাকা একই কায়দায় তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফেনী শহরের কাপড়ের ব্যবসায়ী অজয় কুমার বণিক’র লোক সসমন্বয় থেকে ৭০ লাখ টাকা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাচ্চুটি গ্রামের মোশাররফ হোসেন মজুমদারের ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক মাহবুবুল হক রিপন বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম সাঈদ রাশেব। তিনিসহ ব্যাংকের উপস্থিত অন্য গ্রাহকরা ঠিক কতজন গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন তথ্য দিতে না পারলেও ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত টাকা খোয়া গেছে মর্মে প্রায় ১৫জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। সে হিসেবে ব্যাংকিং লেনদের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবে গোলাম সাঈদ রাশেবের সঙ্গে অনেক গ্রাহকের ব্যক্তিগত লেনদেন রয়েছে বলে অনেক গ্রাহক মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর