পাঁচতলা বাড়ির মালিক হয়েও খান গরিবের চাল

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পাঁচতলা বাড়ির মালিক হয়েও খান গরিবের চাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ১২ মে ২০২০  

ওএমএস ডিলার ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শাহ আলম

ওএমএস ডিলার ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শাহ আলম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওএমএস’র চালের তালিকায় এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীর স্ত্রী-মেয়েসহ পরিবারের এক ডজন সদস্যের নাম লেখা হয়েছে। অসহায়দের এসব চাল নিজ বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।

অভিযুক্ত মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালক ও জেলা রেস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি পৌর এলাকার কাউতলীর একটি পাঁচতলা বাড়ির মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওএমএস’র তালিকায় নিজের স্ত্রী-মেয়েসহ পরিবারের ১৩ সদস্যের নাম যুক্ত করেছেন ব্যবসায়ী শাহ আলম। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

ওএমএম’র তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, ১৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী শাহ আলমের স্ত্রী মমতাজ আলমের নাম। এছাড়া ১২ নম্বরে মেয়ে আফরোজা, ৮, ৯, ২৭ নম্বরে রয়েছে তার তিন ভাই-বোন মো সেলিম, মো. আলমগীর ও শামসুন্নাহারের নাম। ভাইয়ের ছেলে প্রবাসী নাসিরের নাম রয়েছে ৭ নম্বর ক্রমিকে।

বাদ যায়নি শাহ আলমের দুই শ্যালক শফিকুল, তাজুল, তাদের স্ত্রী জান্নাতুল-আসমা, বোনের তিন দেবর মতিউর রহমান, মাহবুবুর রহমান, লুৎফুর রহমানের নামও। তারা আছেন তালিকার ৩, ৫, ১০, ১৩, ৭২, ৭৩ ও ৭৪ নম্বরে।

অসহায়ের চালের তালিকায় পাঁচতলা বাড়ির মালিক শাহ আলমের পরিবারের ১৩ সদস্যের নাম

শহরের কাউতলী এলাকার পাঁচতলা বাড়ির মালিক শাহ আলমের পুরো পরিবারের নাম ওএমএস’র তালিকায় দেখে হতবাক জেলার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্যরাও।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, ভিক্ষুক, রিকশাচালকসহ হতদরিদ্র মানুষের জন্যই বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় ৯ হাজার ৬শ’ জনকে ওএমএস কার্ড দেয়া হচ্ছে। এ তালিকায় নাম ওঠায় ওই ব্যবসায়ীর পরিবারসহ ৯১ জনের নাম বাদ দিতে পৌর মেয়রকে চিঠি দিয়েছে জেলা ওএমএস কমিটি।

তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী পৌর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার। অসহায়দের চালের তালিকায় নিজের পরিবারের নাম লেখানোর কারণে এরইমধ্যে তাকে শোকজ করেছে জেলা প্রশাসন। দুয়েকদিনের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাকবুল হোসাইন জানান, তার ওয়ার্ডে ওএমএস’র তালিকা করার জন্যে শহরের কান্দিপাড়া, কলেজ পাড়া ও কাউতলী মহল্লাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কাউতলী উত্তর এলাকার তালিকা প্রণয়ন করেছেন ব্যবসায়ী শাহ আলমের বড় ভাই সাঈদুর রহমান। ১৫ হাজার ভোটারের মধ্য থেকে এ তালিকা প্রণয়ন করা জটিল কাজ। এ কারণে কিছুটা হেরফের হতে পারে। তালিকা যাচাই বাছাই চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির জানান, জেলা ওএমএস কমিটি থেকে পাঠানো ৯১ জনের নাম এরইমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার ইস্যু করা সব কার্ড পুনঃনিরীক্ষণের জন্য কমিটি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি হায়াত-উদ-দৌলা খান জানান, ওএমএস’র তালিকায় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সাতজন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একজন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আটজন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪ জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়জন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ২২ জন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯ জন সামর্থ্যবান ব্যক্তির নাম এসেছে। এরমধ্যে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও কাউতলী এলাকার ওএমএস ডিলার শাহ আলমের পরিবারের ১২ জনের নাম রয়েছে। তাকে শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর