Alexa পল্লব হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন খুনি দুই বন্ধু

ঢাকা, শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৮ ১৪২৬,   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

পল্লব হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন খুনি দুই বন্ধু

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৭ ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৬:১৪ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পল্লব ও তার বান্ধবীর অসামাজিক কাজের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও  ধারণ করে। এরপর ওই দৃশ্য ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে অপূর্ব ও ঈশান পল্লবের বান্ধবীকে পেতে চায়।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ পল্লবের দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এভাবেই তারা পল্লব হত্যার বর্ণনা শুরু  করেন।

তারা আরো জানান, এই নিয়ে পল্লবের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। পল্লব বাঁধা দেয়ায় অপূর্ব তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে পল্লব মারাত্মক আহত হয়ে মারা যান। পরে তারা দুইজনে পল্লবের মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ওই ঘরের মধ্যে মাটি খুঁড়ে সেখানেই পুঁতে রাখে। আর ওই মেয়েকে চলে যেতে সহযোগিতা করে। 

প্রায় এক মাস আগে নিখোঁজ কলেজছাত্র পল্লবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে যশোর সদর উপজেলার জঙ্গল বাঁধাল গ্রামের একটি কাঁচা ঘরের মধ্যে থেকে।

পল্লব সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউপির জগন্নাথপুর গ্রামের বিকাশের ছেলে।

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, গত ১৪ অক্টোবর নিখোঁজ হন কলেজ ছাত্র পল্লব। তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। জিডির বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ। 

শনিবার সকালের দিকে পল্লবের দুই বন্ধু জঙ্গলবাঁধাল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে অপূর্ব এবং জগন্নাথপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে ঈশানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সঞ্জিব কুমার মণ্ডল। 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অপূর্ব স্বীকার করে, পল্লবকে হত্যা করে তার নানা আজিজার রহমান মাস্টারের জঙ্গলবাঁধালের বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি কাঁচা ঘরের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে সেখানেই পুঁতে রাখা হয়েছে। তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি টিম সেখানে যায় এবং দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ঘরের মধ্যে মাটি খুঁড়ে পল্লবের মরদেহ উদ্ধার করেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অপূর্ব ও ঈশানকে আটক করা হয়েছে। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপূর্বের নানা আজিজুর রহমান মাস্টার ও নানি সাবিহা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। 

এই হত্যা সম্পর্কে তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর জিডির ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হবে বলে জানান ওসি (তদন্ত) তাসমীম আলম।

গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে পল্লব একটি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলবাঁধাল গ্রামে বন্ধু অপূর্ব বাড়িতে যায়। অপূর্ব তার নানার বাড়িতে থাকে। ওই মেয়ের সঙ্গে রাত কাটানোর জন্য অপূর্ব তাদের থাকার সুযোগ করে দেয়। ঘটনার দিন তার (অপূর্ব) নানা ও নানি বাড়িতে ছিলেন না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ