Alexa পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে কুমিল্লার চার শালবন

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে কুমিল্লার চার শালবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৭ ২৮ জুন ২০১৯  

জামবাড়ির প্রাকৃতিক শালবন। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

জামবাড়ির প্রাকৃতিক শালবন। ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় তিনটি এবং কোটবাড়িতে একটি প্রাকৃতিক শালবন রয়েছে। এই চারটি শালবনকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। বসার জায়গা, ওয়াচ টাওয়ার, শৌচাগার স্থাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা গেলে এসব পর্যটন কেন্দ্র দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এদিকে প্রাকৃতিক শালবন ঘিরে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায়ও উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, কুমিল্লা সদর উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া জামবাড়িতে ১৩৮ একর বনভূমি রয়েছে। তার মধ্যে ২৭ একরজুড়ে প্রাকৃতিক শালবন। সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া রাজেশপুর এলাকায় মোট বনভূমি রয়েছে ৫৮৭ একর। এর মধ্যে ৩০৬ একর জায়গাই প্রাকৃতিক শালবন। একই উপজেলার সীমান্ত লাগোয়া যশপুর এলাকায় ৪৫৫ একর বনভূমির মধ্যে প্রাকৃতিক শালবন রয়েছে ২৫০ একর। কোটবাড়ি এলাকায় মোট বনভূমি ৫০০ একর, তার মধ্যে শালবন রয়েছে ১৫ একর।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাজেশপুর ফরেস্ট বিটে টিকেটের মাধ্যমে দশনার্থীদের দেখার সুযোগ রয়েছে। এখানের সবুজ প্রকৃতি ও পাখির কলতানে মুখর পরিবেশ দর্শনার্থীদের বিমোহিত করছে। তবে এখানকার আবাসিক স্থাপনাগুলো উন্নত করলে দর্শনার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে জামবাড়ি বনভূমির সীমান্ত এলাকা অসংখ্য পাখ-পাখালির কলতানে মুখর থাকে। প্রতিদিন কিছু সংখ্যক দর্শনার্থী নিজ উদ্যোগে ঘুরতে আসে এখানে। বনভূমির অফিস ও স্টাফ কোয়ার্টার ভেঙ্গে পড়ে আছে। জামবাড়ি এলাকার স্থানীয়রা এটাকে গরু-ছাগলের খোয়াড় বানিয়ে রেখেছে। কর্মকর্তারা অফিসে অবস্থান নিয়ে প্রত্যক্ষ তদারকি করতে না পারায় বনভূমি ও সম্পদ হুমকির মুখে রয়েছে।

কুমিল্লা বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার স.ম. সফিকুর রহমান জানান, পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক শালবনের গুরুত্ব রয়েছে। প্রাকৃতিক শালবন রক্ষা নিয়ে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একটি সংগঠন রয়েছে। কারণ প্রাকৃতিক শালবনের প্রতিটি গাছ অন্য সাতটি গাছের সমান অক্সিজেন সরবরাহ করে।

জীব বৈচিত্র্য বিষয়ক সংগঠন কুমিল্লার ওয়াইল্ড ওয়াচ ইনফো’র সাধারণ সম্পাদক জামিল খান বলেন, জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু বন্য ফল গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া প্রাণীদের প্রজননের জন্য ঝোপের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে রাজেশপুর এলাকায় বেত জাতীয় কিছু উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো অন্য এলাকায়ও ছড়িয়ে দেয়া উচিত। এসব বিষয়ে বন বিভাগের সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক অভিবাদন সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, কুমিল্লার সামাজিক বন বিভাগের উচিত এই চারটি উপজেলার শালবন নিয়ে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যাতে পর্যটনের বিকাশ করা যেতে পারে।

কুমিল্লা সামজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে। তবুও বনভূমি তদারকি করার জন্য বিট অফিসাররা তৎপর রয়েছেন। এদিকে কুমিল্লার বন ভূমি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে পর্যটন বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে