Alexa পর্যটনশিল্পের ‘দ্বিতীয় মক্কা’ উজবেকিস্তান

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

পর্যটনশিল্পের ‘দ্বিতীয় মক্কা’ উজবেকিস্তান

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৫ ২১ জুন ২০১৯  

সামরকান্দ শহরের একটি মাজার

সামরকান্দ শহরের একটি মাজার

ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক মনস্ক পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় দেশ উজবেকিস্তান। অসংখ্য প্রচীন মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার, দুর্গ ও বৌদ্ধ ধর্মের নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশটিতে। পুরো দেশ ঘুরে বেড়ানোর পর মনে হবে এ যেন এক ঐশ্বর্যমণ্ডিত ঐতিহ্যের দেশ। উদাহরণ টানলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে। তাজমহলের কথাই ধরুন। উজবেকিস্তানের হাজার বছরের পুরনো মিনার, প্রাসাদ ও মসজিদের সঙ্গে তাজমহলের নির্মাণশৈলীর মিল খুঁজে পাবেন। চোখ জুড়িয়ে যাবে উজবেকিস্তানের হাজার বছরের ইতিহাস আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখে।

দেশটিতে বিশেষ কিছু খাবার রয়েছে, যা আর কোনো দেশে নেই

সামরকান্দ এবং বুখারা শহরেই অবস্থিত দেশটির বেশিরভাগ মসজিদ ও মাজার অবস্থিত। উজবেকিস্তানের মানুষের জন্য এসব মসজিদ এবং মাজার পবিত্র জায়গা। কিন্তু দেশটির সরকার মনে করে এসব স্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পকে আকর্ষণীয় করা যায়। কয়েক দশক বিচ্ছিন্ন থাকা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর উজবেকিস্তান এখন উন্মুক্ত হয়েছে।

প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক ছুটে যান দেশটিতে

সামরকান্দ শহরে বেশ কিছু সমাধি রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে সম্রাট তামেরলেন, জ্যোতির্বিদ উলুংবেক এবং হযরত মোহাম্মদ (সা.) চাচাতো ভাই কুসাম ইবনে আব্বাস-এর সমাধি। সপ্তম শতকে তিনি এ অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটিয়েছেন। সামরকান্দ-এ একটি সমাধি আছে যেটি অন্য সমাধিগুলোর চেয়ে আলাদা। মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ের চূড়ায় এ সমাধি অবস্থিত। প্রতিদিন সকালে হাজার-হাজার মানুষ সেখানে যায়।

দেশটিতে রয়েছে অসংখ্য মাজার ও মসজিদ

খ্রিস্টপূর্ব ৪ শতকে বুখারার সবচেয়ে প্রাচীন প্রাসাদ ‘গ্রান্ড প্যালেন অফ আর্ক’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেখে পর্যটকরা এখনো বিস্মিত হন। বিশাল আর উঁচু প্রাচীরগুলো ঘিরে রয়েছে ১১টি গেট। ইতিহাসখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম আল বুখারি এই নগরীতেই জন্মলাভ করেছিলেন। ইতিহাস, মুসলিম আইন, আইনের অনুশাসন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি রচনা করেন ‘বুখারি শরিফ’। ইমাম বুখারির মাজারের ওপর নির্মিত হয়েছে বিশাল এক কমপ্লেক্স। যা পর্যটকের কাছে এখনো এক দর্শনীয় স্থান। এখানকার সুস্বাদু রুটি ও ফল পর্যটকদের রসনা মেটায়।

তাদের পোশাকেও আছে নিজস্বতা

দেশটির রাজধানী তাসখন্দ। প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন হিসেবে এখানে রয়েছে অসংখ্য মাজার, মসজিদ আর সমাধি। এখানে রয়েছে পৃথিবীর প্রথম দিকের চারটি হাতে লেখা কোরান শরিফের একটি। যা দেখে অবশ্যই আপনি অভিভূত হনে। নগরীজুড়ে রয়েছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। সেগুলোতেই মিলবে ঐতিহ্যবাহী উজবেক রুটি আর জিভে জল আনা বিভিন্ন স্বাদের কাবাব। দিনের ভ্রমণ শেষে বসে পড়ুন যে কোনো একটি সরাইখানায়। উপভোগ করুন উজবেক খাবার আর সেইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ব্যালে নৃত্য।

ঐতিহ্যবাহী ব্যালে নৃত্য

উজবেকিস্তানে কতগুলো মাজার আছে সেটির সংখ্যা কেউ জানে না। তবে কিছু কর্মকর্তা ধারণা করছেন মাজারের সংখ্যা দুই হাজারের কম হবে না। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতকে লাভজনক করা যাবে বলে মনে দেশটির সরকার। সেজন্য উজবেকিস্তানের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

দেশটির সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে

কিছুদিন আগে প্রকাশিত বিবিসি বাংলার তথ্য মতে, পর্যটনশিল্পের মাধ্যমে উজবেকিস্তান ‘দ্বিতীয় মক্কা’ হতে চায়। দেশটির সরকার মনে করে, দেশটির শতশত ধর্মীয় স্থাপনার মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে