‘পর্নোগ্রাফি’ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ চেয়ে পুলিশের প্রতিবেদন

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৬ ১৪২৬,   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

‘পর্নোগ্রাফি’ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ চেয়ে পুলিশের প্রতিবেদন

 প্রকাশিত: ১৪:১৬ ২১ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৪:১৬ ২১ জুলাই ২০১৮

গাজী রাকায়েত

গাজী রাকায়েত

অভিনেতা, নির্মাতা ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত। এবার তার বিরুদ্ধে আনিত পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীনি ও বিবাদী পূর্ব পরিচিত। তাদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি ছিল, যার ফলে সন্দেহবশত মামলাটি করা হয়েছে। এছাড়াও এই বিষয়ে তাদের মধ্যে আপস হয়েছে।

আগামী ১৪ আগস্ট এ মামলার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গেল সপ্তাহের শেষের দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের উপ-পরিদর্শক সজীবুজ্জামান চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

সে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিনেতা, নির্মাতা ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েতের আইডির সুস্পষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই আইডির কোনো ইউআরএল খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাদীনি নিজেও ওই আইডির কোনো কিছু সরবরাহ করতে পারেননি।

এছাড়াও ঘটনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ, ইউআরএল ও সাক্ষী উপস্থাপনের কথা বাদীনিকে বলা হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলে জানান এবং আপসনামা পেশ করেন। পরে স্থানীয় তদন্তে গাজী রাকায়েতের স্বভাব-চরিত্র ভালো পাওয়া যায় বলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

এর আগে ‘গাজী রাকায়েত কুটু’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ম্যাসেঞ্জারে ‘অশালীন প্রস্তাব’ দেয়ার অভিযোগ এনে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় অভিনেতা, নির্মাতা ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে ২১ মার্চ মামলাটি করেন কানিজ ফাতেমা নামের এক নারী।

সেই মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘গাজী রাকায়েত কুটু’ ফেসবুক আইডি থেকে ওই গৃহবধূকে ‘অশ্লীল, অনৈতিক, ধর্মীয় অনুভূতি পরিপন্থী, ইঙ্গিতপূর্ণ ও যৌন উত্তেজক’ বার্তা পাঠানো হয়। এতে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে তার সম্মানহানি হয়েছে।

এর আগে ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘অশালীন প্রস্তাবের’ সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট একটি ক্লোজড গ্রুপে পোস্ট করেন ওই নারী। তার সেই পোস্টের পর ৬ মার্চ গাজী রাকায়েত বলেন, তার এই দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকড’ হয়েছে। পরে অপরাজিতা সংগীতা নামে একজন অধিকারকর্মী ওই স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন। 

তখন গাজী রাকায়েত একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তার কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে ওই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছিল, তারা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। গাজী রাকায়েতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর ১০ মার্চ ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতি তদন্তে নামার সিদ্ধান্ত নেন। 

এরপর ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির পক্ষে ১২ মার্চ ফেসবুক লাইভে এসে ‘সাইবার বিশেষজ্ঞ’ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘গাজী রাকায়েত কুটু’ ফেসবুক আইডিটি সিঙ্গাপুর থেকে হ্যাকড হয়েছে। এর চারদিন পর গত ১৬ মার্চ অধিকারকর্মী অপরাজিতা সংগীতার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় পাল্টা মামলা করেন গাজী রাকায়েত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআই