Alexa পর্দা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা

ঢাকা, সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

পর্দা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা

হারুন আনসারী, ফরিদপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৭ ২৭ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ফমেক) বহুল আলোচিত পর্দা ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দুর্নীতিতে তিনটি প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই পরিচালনা করেন জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। বুধবার সকালে জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুদকের পক্ষ থেকে মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য জমা দেয়া হয়।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিনি নিজের ভাইদের নামে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে দরপত্র দাখিল করেন। এরপর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গঠিত যাচাই কমিটির তৈরি ভূয়া কোটেশন দাখিল করে আকাশচুম্বি মূল্যে মালামাল ক্রয় করেন। হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট বিভাগ চালু না থাকলেও পর্দাসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়। যন্ত্রপাতিগুলো এখন নষ্ট হওয়ার পথে।

মামলায় জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুন্সি সাজ্জাদ হোসেনসহ তার ভাই অনিক ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সি ফররুখ আহমেদ এবং ফমেক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (দন্ত বিভাগ) ডা. গণপতি বিশ্বাস শুভ, ফমেক হাসপাতালের সাবেক জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডা. মিনাক্ষী চাকমা ও ফমেক হাসপাতালের সাবেক প্যাথোলজিস্ট ডা. এএইচএম নুরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। ফমেক হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. ওমর ফারুক খান এ ঘটনার পর মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলার আসামি করা হয়নি।

কাগজে কলমে তিনটি প্রতিষ্ঠান দেখানো হলেও বাস্তবে দরপ্রস্তাব দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সাজ্জাদ হোসেন পরিচালনা করেন। ফমেক হাসপাতালে এম.এস.আর খাতে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র আহবান করলে মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে সাজানো দরপত্র দাখিল করেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ফমেক হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. মো. ওমর ফারুক খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো প্রাক্কলন ছাড়াই এসব যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উদ্যোগ নেন। এরপর ওই হাসপাতালের দন্ত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গণপতি বিশ্বাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিনাক্ষী চাকমা ও প্যাথলোজিস্ট  ডা. এএইচএম নুরুল ইসলামকে বাজারদর সংগ্রহ ও যাচাই কমিটির সদস্য নিযুক্ত করেন। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর দাখিলকৃত তিনটি কোটেশনের ভিত্তিতে উক্ত কমিটি ২০ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে বাজার দর প্রতিবেদন দাখিল করেন। অনুসন্ধানকালে কোটেশনগুলো ভূয়া ও সাজানো বলে জানানো হয়।

এজাহারে বলা হয়,  ফমেকের চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল-২ অধিশাখা কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এমএসআর খাতে যন্ত্রপাতি সংগ্রহ বাবদ ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ফমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় থেকে ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মেসার্স আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স অনিক ট্রেডার্স এবং মেসার্স আলী ট্রেডার্স দরপত্র দাখিল করে। 

এরপর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মেসার্স অনিক ট্রেডার্সকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ১০ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। উক্ত কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে মেসার্স অনিক ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এবং ২০ ডিসেম্বর তারিখের চালান মোতাবেক এসব মালামাল সরবরাহ করেন। তিনি সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মূল্য বাবদ সাত কোটি ৬০ লাখ ও দুই কোটি ৪০ লাখ মোট ১০ কোটি টাকার বিল দাখিল করেন। 

অনুসন্ধানকালে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাকুয়াম প্লান্ট মেশিনের স্পেসিফিকেশনে ক্যাপাসিটি সেভেন পয়েন্ট এইচপি থাকলেও মেশিনের প্যানেলে রেটিং দেয়া আছে ফাইভ এইচপি। ভ্যাকুয়াম প্লান্ট মেশিন স্পেসিপিকেশন দরপত্র অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়নি। আরো দেখা যায়, ফমেকে আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসক কিংবা এমনকি চতুর্থ শ্রেণির কোন কর্মচারীও নিয়োগ দেয়া হয়নি। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস