পরিচালন মুনাফা বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

পরিচালন মুনাফা বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ১ জানুয়ারি ২০২০  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

২০১৯ সাল শেষে দেশের অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বে‌ড়ে‌ছে। পরিচালন মুনাফা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত নিট বা প্রকৃত মুনাফা বাড়বে কি না তা নিয়ে এখনো সংশয়ে রয়েছে ব্যাংকগুলো।

মঙ্গলবার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ব্যাংকিং কার্যদিবস শেষে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের মোট পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ১০ কোটি টাকা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এটি আগের বছর ছিল ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১ হাজার ১২ কোটি টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০০ কোটি টাকা, আগের বছর যা ছিল ৭৮০ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬৮১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আল আরাফা ব্যাংক মুনাফা করেছে ৮০১ কোটি টাকা, গত বছর ছিল ৬৪০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা ৭৮০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৭৫০ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৭৫৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৬৭৩ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৩০ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৬২০ কোটি টাকা। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৮২ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৬৬৭ কোটি টাকা। আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৭৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৫০৪ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯৪৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৭৮০ কোটি টাকা। আগের বছর ছিল ৭১০ কোটি টাকা। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২৬২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২০৩ কোটি টাকা, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২০৩ কোটি টাকা।

এছাড়া ২০১৯ সাল শেষে ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৭৫ কোটি টাকা, ওয়ার ব্যাংকের ৪৩৩ কোটি টাকা, মধুমতি ব্যাংকের ২১৮ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ৭০০ কোটি টাকা এবং ব্যাংক এশিয়ার মুনাফা হয়েছে ৯৪০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এ হিসা‌বে গত নয় মাসে দেশে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২ হাজার ৯ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, যে কোন ব্যবসার প্রবৃদ্ধি খুবই স্বাভাবিক। ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফাতেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা প্রকৃত মুনাফা নয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে কর, প্রভিশনসহ অনেক কিছু বাদ দিয়ে নিট বা প্রকৃত মুনাফা হিসাব করা হয়। ফলে মুনাফা খুব বেশি বাড়বে বলে মনে হয় না।

জানা গেছে, পরিচালন মুনাফা থেকে ব্যাংকগুলোকে আগে নিয়মিত ঋণ ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হবে। নিয়মিত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ১ থেকে ২ শতাংশ, খেলাপির মধ্যে নিম্নমান ঋণে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ ঋণে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। এরপরে মূলধন বাড়াতে তহবিলের একটি অংশ নিতে হবে রিজার্ভ তহবিলে। পরিশোধ করতে হবে ৪০ শতাংশ আয়কর। এরপরে যা থাকবে তা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়া হয়।

ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা করতে হবে নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্ত। আবার অনেক ক্ষেত্রেই নিট মুনাফা হলেও তার সম্পূর্ণ অর্থ লভ্যাংশ আকারে বিতরণ করা হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস