Alexa পরিচালনা সব-সময় ভিন্ন অনুভূতির: মিলন 

ঢাকা, শনিবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

পরিচালনা সব-সময় ভিন্ন অনুভূতির: মিলন 

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৪ ২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৮:০২ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জনপ্রিয় অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলনের যাত্রা থিয়েটারের মাধ্যমে। এরপর অভিনয় করেন টিভি নাটকে। নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও অনবদ্য অভিনয় দিয়ে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। আসছে ঈদ-উল- ফিতরকে কেন্দ্র করে এই অভিনেতা নির্মাণ করছেন সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘আব্বা উকিল ডাকবো?’।

নাটকটির গল্প ও চিত্রনাট্য দিয়েছেন বিপ্লব হায়দার। পরিচালনার পাশাপাশি নাটকটিতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। 

এতে আরো অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, নাজিরা মৌ, আ খ ম হাসান, শাহনাজ সুমি, ফারুক হোসেন, শবনম পারভিনসহ আরো অনেকে। এটি ঈদের সাতদিন এশিয়ান টিভিতে প্রচার হবে। 

নাটকটির নানাদিক ও পরিচালনার বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন আনিসুর রহমান মিলন। সেই কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরেছেন নাজমুল আহসান

হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরাসরি পেছনে চলে যাওয়ার কারণ কি?

আমার ক্যারিয়ারের শুরুটাই পরিচালনার মাধ্যমে, ১৯৯৯ সালে। পরিচালনা করাটা সব-সময় ভিন্ন ধরনের অনুভূতি দেয়। নিজের ভেতর অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। সেই ভালোলাগা থেকেই আবারো পরিচালনা করা। আর যখন চিন্তা করি অভিনয়ের বাহিরেও অনেক কিছু করার আছে, হয়তো ডিরেকশন দিলে দর্শকদের কাছে নতুন কিছু তুলে ধরতে পারবো। সেই ভাবনা থেকেই দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো পরিচালনা শুরু করা। 

‘আব্বা উকিল ডাকবো?’নাটকের গল্পে কি তুলতে ধরছেন?

একটি পারিবারিক গল্পই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একজন ভদ্রলোকের দুই মেয়ে এক ছেলে। ছেলেটার প্রেমিকা জাকিয়া বারী মম। আর ছেলেটার চরিত্রে আমি নিজেই অভিনয় করেছি। মম’র ইচ্ছা সুইজারল্যান্ডে বসবাস করা। আর ছেলের বাবার গ্রামের মধ্যে অনেক সম্পত্তি থাকে। ছেলেটা চিন্তা করে এই সম্পত্তি দিয়ে কিছু হবে না, ক্যাশ টাকা লাগবে। তাই তার বাবা যখনি অসুস্থ হয় তখনি বলে ‘আব্বা উকিল ডাকবো?। যদি একবার হ্যাঁ বলে তাহলে ছেলেটা সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেবে, বিক্রি করে সুইজারল্যান্ডে চলে যাবে। মূলত গল্পে উঠে আসবে, উকিল ডাকা কেন্দ্রিক বাবাকে হেনস্তা করা। কিন্তু পরবর্তীতে তার মধ্যে বোধ জাগবে পারিবারিক সম্পর্কগুলো দেনা-পাওনায় না। 

এখন দর্শকদের রুচিবোধের বিশাল পরিবর্তন হয়েছে, সেই জায়গা থেকে পারিবারিক গল্পের এই নাটকটি নির্মিত, দর্শকরা কিভাবে নেবে?

আমার কাছে মনে হয় মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন হওয়া দরকার। সস্তা কমেডি করার চেয়ে যদি সিচুয়েশনাল কমেডি তুলে ধরেন তাহলে দর্শক অব্যশই গ্রহণ করবে। আর ঈদের সময় মানুষ রিলাক্সে থাকে। সেই সময়টা উপভোগ করার জন্য একটি পারিবারিক গল্পে যদি একটু হাস্যরস দিতে পারি তাহলে দর্শক আনন্দ পাবে। একই সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধটাও তাদের মধ্যে জাগ্রত হবে। আমার কাছে মনে হয় সেই দৃষ্টিকোন থেকে দর্শকরা এই নাটকটি গ্রহণ করবে। 

দর্শকদের নিম্ন রুচিবোধের দিকে ঢেলে দেয়ার পেছনে একজন নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কতটুকু দায় থাকে?

অব্যশই একশো ভাগ দায় নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। কারণ হচ্ছে আপনি কী করছেন, আপনি কী দেখাচ্ছেন সেটার দায়ভার অবশ্যই নির্মাতা, অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিতে হবে। একজন নির্মাতাকে চিন্তা করা উচিত কী নির্মাণ করছি, আর অভিনয় শিল্পীদের চিন্তা করা উচিত কোন চরিত্রে অভিনয় করছি। শুধু বিনোদন দেয়ার জন্যই নয়। চিন্তা করতে হবে দর্শকরা যেন একটি নাটক বা সিনেমা দেখে ভালো কিছু অনুভব করে, খারাপ দিকগুলো থেকে বেরিয়ে আসে। 

ঈদের বেশি দিন নেই, বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা কেমন?

‘আব্বা উকিল ডাকবো? ধারাবাহিক নাটকের কাজটি নিয়েই বেশি চিন্তা করছি। কারণ, নিজের প্রোডাকশন এবং নিজের পরিচালনায়। সব মিলেয়ে বাড়তি চাপ থাকে। বুধবার থেকে নাটকটির শুটিং শুরু করেছি পূবাইলে, কয়েদিন এটা নিয়েই ব্যস্ত থাকবো। কয়েকটি সিনেমার কাজ করছি। কিন্তু আপাতত ঈদের নাটকের কাজ নিয়েই পুরো মাস ব্যস্ত থাকবো। তবে এই মূহুর্তে ঈদ নাটকের সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এমআরকে