Alexa পরিচর্চায় ব্যস্ত লিচু চাষিরা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

পরিচর্চায় ব্যস্ত লিচু চাষিরা

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:১৪ ১২ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ০৭:১৫ ১২ মার্চ ২০১৯

লিচুর জেলা দিনাজপুরে গাছের শাখায় শাখায় লিচুর মুকুল। মুকুল থেকে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। মৌ মাছির আগাগোনাও জানান দিচ্ছে সরব উপস্থিতি। আর এই সুযোগে মৌ মৌ গুঞ্জনে সুভাশিত হচ্ছে চারদিক। 

দিনাজপুরের লিচু রসে ভরা ও সুস্বাদু হওয়ায় এর কদর দেশসহ বিদেশেও রয়েছে। গত কয়েক মৌসুম থেকে দেশের অনেক এলাকায় কমবেশি লিচু চাষ হলেও, মানুষের কাছে দিনাজপুরের লিচুর গ্রহণযোগ্যতাই আলাদা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে, এবারও দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষি ও বাগানিরা। 

সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলার লিচু বিখ্যাত। এসব লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই ও মাদ্রাজি, কাঠালী লিচু উল্লেখয্যেগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার এসব জাতের লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছে চাষিরা।

সদর উপজেলার মাশিমপুর, বিরল উপজেলার মাদবপাটিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় ও আঙিনার লিচু গাছে এবং লিচু বাগানে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের সঙ্গে ফুলে ফুলে  মৌমাছির গুঞ্জন আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ঝিঁ ঝিঁ শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে।

লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসা থেকে লিচু আরোহণ পর্যন্ত ৩-৪ মাস লিচু বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। সেই অনুযায়ী গাছে মুকুর আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুকুলকে টিকিয়ে রাখতে লিচু চাষী ও ব্যবসায়ীরা স্প্রে করেন। এছাড়াও মুকুল যাতে ঝড়ে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দিয়ে যাচ্ছেন।

দিনাজপুর জেলায় এবার ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হবে এ বছর।বিরল উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়। সারা দেশে কম বেশি লিচুর চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। জেলা প্রতিবছরই লিচুর চাষ বাড়ছে। এবার লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা।

বিরলের লিচু চাষি মতিউর রহমান বলেন, লিচুর ফুল আসা শুরু করার সঙ্গেই শুরু করে দিতে হয় পরিচর্যা। নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়া শুরু হয়েছে। লিচু গাছে ফুল আসতেই রাজশাহী, রংপুর, চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীরা দিনাজপুরে আসতে শুরু করেছেন। তারা আগাম লিচু বাগান ক্রয় করছেন।

দিনাজপুর মাসিমপুরের লিচু চাষি মোবারক আলী বলেন, দিনাজপুরের প্রতিবছর লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এবার পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতে লিচু রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখানকার লিচু লাভজনক  হওয়ায় প্রতি বছরই জেলাতে লিচু চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও প্রকৃতিক  কোনো দুর্যোগ না হলে অন্যান্য বারের ন্যায় এবারেও দিনাজপুরে রেকর্ড পরিমাণ লিচুর ফলন হবে বলে আশা চাষিদের।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিত ইকবাল বলেন, চলতি বছর দিনাজপুর  জেলায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এই লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এবার দিনাজপুরের লিচু পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে। এরইমধ্যে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার ফলন ভালো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম