পরকীয়ার জেরে বিদেশফেরত স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পরকীয়ার জেরে বিদেশফেরত স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

চাঁদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:১৯ ১৪ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিদেশফেরত স্বামী আল মামুন মোহনের হাতে খুন হয়েছেন স্ত্রী তানজিনা আক্তার রিতু। বুধবার রাতে গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত আল মামুন মোহনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, আল মামুন মোহন রায়পুরের শায়েস্তানগর গ্রামের মনতাজ মাস্টারের ছেলে। আর মেয়ে তানজিনা আক্তার রিতু ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউপির গৃদকালিন্দিয়া গ্রামের খাঁ বাড়ির সেলিম খানের মেয়ে। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয় এবং এর এক বছর পর স্বামী সৌদি চলে যান।

দেড় বছর পর সৌদি আরব থেকে তিনি ফেরত আসেন এবং বেকার অবস্থায় চলাফেরা করতে থাকেন। বুধবার বিকেলে মোহন তার নিজ বাড়ি রায়পুর থেকে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ইফতারের পূর্বে স্ত্রী তানজিনা আক্তার রিতুর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে রিতুকে ছুরিকাঘাত করেন মোহন। তখন রিতুর মা পারভীন আক্তার ও ভাই প্রান্ত এগিয়ে এলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। 

ফরিদগঞ্জ থানার এসআই কাজী মো. জাকারিয়া জানান, মোহনককে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রিতু ও তার মা পারভীনকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক রিতুকে মৃত ঘোষণা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পারভীন আক্তারককে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আহত ভাই প্রান্তকে গৃদকালিন্দিয়া বাজারে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রিতুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রিতুর আত্মীয় তাছলিমা বেগম জানান, সৌদি আরব থেকে মোহন চলে আসার পর বেকার অবস্থায় ছিলেন। বিয়ের সময় রিতুকে দেয়া সব স্বর্ণালংকার তিনি বিক্রি করে ফেলেছিলেন। তার বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী থাকায় রিতু বাবার বাড়িতে থেকেই পড়াশুনা করতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলছিলো। এর জেরেই রিতুকে হত্যা করেন মোহন।

পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় আল মামুন মোহন জানান, রিতু পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলো। বিদেশ থেকে যে টাকা-পয়সা পাঠিয়েছিলাম তার সবটুকু তারা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও রিতু আমাকে কোনো পাত্তা দিতো না। তাই ক্ষিপ্ত হয়েই তাকে ছুরিকাঘাত করেছি।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম