পবিত্র হজ ও ওমরায় তালবিয়া পড়া এক ঐশী নির্দেশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

পবিত্র হজ ও ওমরায় তালবিয়া পড়া এক ঐশী নির্দেশ

 প্রকাশিত: ১৬:২৭ ২০ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৬:৩৪ ২০ জুলাই ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কাজ তালবিয়া পড়া।

ইহরাম বাঁধার পর পরই তালবিয়া পাঠ করে মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও তাঁর ক্ষমতার প্রতি আনুগত্যের শির নত করার ঘোষণা দেয়া ইহরামকারীর প্রথম শর্ত ও সুন্নাত।

তালবিয়া বিশুদ্ধভাবে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালবিয়ার গুরুত্ব, ফজিলত, তালবিয়ার পাঠের শর্ত এবং যেসব স্থানে তালবিয়া পাঠ করতে হবে সে বিবরণগুলো জানাও জরুরি।

কেননা পবিত্র হজ ও ওমরায় মুসিলম উম্মাহর তালবিয়া পাঠ হলো মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে নিজেদেরকে তার আনুগত্যে নিয়োজিত করা। এ তালবিয়ায় তার নিরংকুশ আধিপত্যকে মেনে নিয়ে আনুগত্যে মাথা অবনত করার ঘোষণাও রয়েছে।

যারা তালবিয়া পড়বে:
পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ইহরামের পর প্রথম কাজই হলো তালবিয়া পড়া। প্রথম বার তালবিয়া পড়া শর্ত। আর তারপর তালবিয়া পড়া সুন্নাত।

অতঃপর পবিত্র হজের সব রোকনগুলো হাজিগণ তালবিয়া পাঠ করবেন। আরাফাতের ময়দান, মিনা-মুজদালিফা তালবিয়ার ধ্বনিতে থাকবে মুখরিত। এ তালবিয়ার শব্দগুলোকে (নারীরা স্বশব্দে পুরুষরা উচ্চস্বরে) ৪ ভাগে ৩ বার পাঠ করবে-

لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ - لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ - اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ - لاَ شَرِيْكَ لَكَ

তালবিয়ার উচ্চারণ:

> লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক,
> লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,
> ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক,
> লা শারিকা লাক।

তালবিয়ার অর্থ:

> আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত!
> আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
> নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার।
> আপনার কোন অংশীদার নেই।

মনে রাখা জরুরি:

তালবিয়া আরবিতেই পড়তে হবে। আর তা হতে হবে বিশুদ্ধ। যারা বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করেতে পারেন না। তাদের জন্য বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শেখা আবশ্যক। এবারও লাখ লাখ হাজি সারা বিশ্ব থেকে পবিত্র হজ পালন করবে; তাদের উচিত বিশুদ্ধভাবে তালবিয়া শিখে নেয়া।

যেসব সময় ও স্থানে তালবিয়া পড়তে হয়:

> ইহরামের পর মিকাতেই ১ বার তালবিয়া পড়া শর্ত।
> অতঃপর বার বার তালবিয়া পড়া সুন্নাত।
> পবিত্র হজের সফরে প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের পর তালবিয়া পড়া মোসতাহাব।
> পবিত্র হজ ও ওমরার এক রোকন থেকে অন্য রোকনের মধ্যবর্তী সময়ে তালবিয়া পড়া।
> উঁচু স্থানে আরোহন কিংবা নিচে নামার সময় তালবিয়া পড়া।
> হজের সফরে ওঠা-বসা, ঘুমাতে যাওয়া, ঘুম জেগে ওঠার পর কিংবা স্বাভাবিক চলাফেরায় বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা।

তালবিয়ার ফজিলত:

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়ার যে ফজিলত ঘোষণা করেছেন, তাতে হজের সফরে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা সাওয়াব ও কল্যাণের কাজ। হাদিসে এসেছে-

হযরত সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার (তালবিয়া পাঠকারীর) ডানে ও বামে যত পাথর, গাছ ও মাটি ( আছে, এ সবই) তার সঙ্গে তালবিয়া পড়তে থাকে। এমনিভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত গিয়ে তা (পড়া) শেষ হয়।

তালবিয়ার ফজিলত বর্ণনায় অন্য হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা করেন-
হযরত আবু বরক ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)- কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ধরণের হজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘আলআজ্জু, ওয়াছছাজ্জু’। অর্থাৎ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ এবং কোরবানি করা।’

পবিত্র হজ ও ওমরায় তালবিয়া পাঠ ছিল ঐশী নির্দেশ। আর এ কারণেই পবিত্র হজ ও ওমরায় ইহরামের পর প্রথমবার তালবিয়া পড়া শর্ত এবং পরে তালবিয়া পড়া সুন্নাত ও উত্তম। হাদিসে পাকে তালবিয়া পড়ার ঐশী নির্দেশ সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেন-

হযরত খাল্লাদ ইবনে সায়েদ ইবনে খাল্লাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার কাছে জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে বললেন যে, আমি যেন আমার সাহাবিদেরকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ প্রদান করি।’ (তিরমিজি)

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদেরকে যথাযথভাবে বেশি বেশি তালবিয়া পড়ার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

আরো পড়ুন>>> মহান আল্লাহ তাআলা যাদের প্রতি সন্তুষ্ট

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে