Alexa পপকর্ণ বিক্রেতার তৈরি বিমান মনে ধরেছে বিমান বাহিনীর

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

পপকর্ণ বিক্রেতার তৈরি বিমান মনে ধরেছে বিমান বাহিনীর

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪০ ৬ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৫০ ৬ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি জেট প্লেনের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মোহাম্মদ ফয়েজ। তবে নিজে কখনো প্লেন তৈরি করবেন সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলো না তার! কারণ তিনি তো ইঞ্জিনিয়ার নন বরং একজন পপকর্ণ বিক্রেতা। অবাক করা বিষয় হলো পাকিস্তানের তাবূর গ্রামের ফয়েজ ছোট্ট একটি প্লেন তৈরি করে দিব্যি আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছেন। আর তা নজরে পড়েছে পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর। বর্তমানে ফয়েজ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যারা তার মতো মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও সুযোগের অভাবে নিজের প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারেনা। 

রোডকোটারের ইঞ্জিন, বারলেপের (পাটজাতীয় বস্তা) পাখা ও রিকশার চাকা দিয়েই ফয়েজ তৈরি করে নিয়েছেন নিজের বিমান। ‘আমি সত্যিই আকাশে উড়ছিলাম। অন্য আর কিছুই অনুভব করতে পারিনি। ফয়েজ বলেন, ‘টিভি ফুটেজ ও অনলাইনে এই সংক্রান্ত ভিডিও দেখেই আমি এই বিমানটি তৈরি করেছি।’ইতিমধ্যেই বিমান বাহিনী তার প্লেনটিকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করছে, প্রতিনিধিরা এখন তার সাথে অনেকবার দেখা করেছেন, এমনকি তার কাজের সুবাদে একটি প্রশংসাপত্রও দিয়েছেন। তবে নিজ হাতে বানানো বিমান নিয়ে আকাশে উড়ে  বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে দেশের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) অনুমতির। 

৩২ বছর বয়সী ফয়েজ ছেলেবেলায় স্বপ্ন দেখতেন বিমান বাহিনীতে যোগ দেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার! বাবা মারা যাওয়ার পর অষ্টম শ্রেণীর গণ্ডি না পেরুতেই সংসার ও ৫ ভাইবোনের সংসারের হাল ধরতে কাজে বেরিয়ে পড়েন। তবে বিমানে ওঠার স্বপ্ন তার মনে রয়েই গিয়েছে, যার ফল এই ছোট্ট বিমানটি। অনেক পরিশ্রমে গড়া তার এই স্বপ্ন আজ বাস্তবিক। সেইসঙ্গে কোটি মানুষের বাহবা কুড়াচ্ছেন তিনি। প্রায় প্রতিদিনিই তার তৈরি বিমানটি দেখতে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ফয়েজের বাড়িতে জড়ো হন।

মোহাম্মদ ফয়েজের তৈরি ছোট্ট বিমান দেখতে মানুষের ভীড়পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি শিখেছিলেন বায়ুর চাপ এবং বাতাসে ভেসে থাকার পাঠ। হাতে কলমে অন্যরা যেমন সকলে পরীক্ষা করে, তিনিও তেমনই করেছিলেন। তবে অন্যরা হয়তো ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু ফয়েজ ভুলে যাননি- এতটুকুই পার্থক্য। বিমান কেন ক্র্যাশ করে এবং বিমানের বিভিন্ন অংশ কীভাবে বানানো হয় এবং তাদের কাজ বোঝার জন্য, জানার জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের ‘এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন’ শো নিয়মিত দেখতেন ফয়েজ। পাশাপাশি তার এলাকার সস্তা ইন্টারনেটের সাহায্যে অনলাইনে বিমান তৈরি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভিন্ন ভিডিও দেখে শিখেছেন। লাহোরের চৌবুরজি স্কোয়ারে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বিমানও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন তিনি।

ফয়েজের এই স্বপ্ন পূরণের জন্য তাকে রাত দিন খেটে অর্থ জমাতে হয়েছে। তাইতো তিনি দিনে পপকর্ণ বিক্রি করতেন এবং রাতে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে অর্থ জমিয়েছেন। এছাড়াও তিনি পরিবারের এক টুকরো জমি বিক্রি করেন এবং একটি মাইক্রো-ফাইন্যান্স এনজিও থেকে ৫০ হাজার রুপি ঋণ নেন যা তিনি এখনো পরিশোধ করছেন। একে একে ফয়েজ তার প্লেনের জন্য বুরল্যাপ বস্তাগুলো পাইকারি কিনেন। ইঞ্জিন ও চাকা কিনেন। বারবার চেষ্টা করেন তিনি। ধাপে ধাপে সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি ডিজাইন পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ত। তবে তিনি দমে না গিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে নিজের হাতে বানানো বিমান নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়াতে এখন তিনি অপেক্ষা করছেন দেশের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) অনুমতির। পুলিশ প্রশাসন তাকে এ প্লেন ওড়ানোর অনুমতি দিচ্ছেনা। উল্টো ৩১ মার্চ মুহাম্মদ ফয়েজের ওই বিমান বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিমান ওড়াতে নিজের গ্রামের কাছেই অস্থায়ী রানওয়ে হিসাবে একটি ধাতব সংযোগ রাস্তা ব্যবহার করছিলেন ফয়েজ, পুলিশ সেটিও বন্ধ করে দেয়। বিমান তৈরি করার পর তা ওড়ানোর অনুমতি চেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কয়েক দফা আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি। ফয়েজ বলেন, প্রায় এক বছর আগে একটি ছোট্ট ইঞ্জিন দিয়ে নিজেরই গ্রামে কয়েক বার ওই এক আসনের প্লেনটি উড়িয়েছিলেন তিনি।

এদিকে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির (সিএএ) মোহাম্মদ ফয়েজের আবেগ ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিনিধিরা ফয়েজের বিমানটি দেখতে দু’টি সফর করেছেন এবং তারা তাকে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছেন যা ‘মিনি বেসিক এয়ারপ্লেইন’ হিসাবে বর্ণনা করা তার ‘আবেগ এবং দক্ষতার’ প্রশংসা করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics