Alexa পদ্মার রূপালী ইলিশ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৬ ১৪২৬,   ২২ সফর ১৪৪১

Akash

পদ্মার রূপালী ইলিশ

ফিচার প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৬ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪৬ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইলিশ

ইলিশ

ইলিশ—রূপালী রং তার, জাদুকরি স্বাদ। সে স্বাদে কাবু বাঙালি, আর তা যদি পদ্মার ইলিশ হয় তাহলে তো কথাই নেই। সরষে ইলিশ, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজাসহ হরেক পদের রান্না; হরেক রকম স্বাদ।

ইলিশ মূলত নোনা পানির মাছ। তবে বংশবিস্তারকালে ডিম পাড়তে নদীর উজানের দিকে অভিপ্রয়াণ করে থাকে। ফলে আমাদের বৃহৎ নদীসমূহ যথা পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ইত্যাদি নদীতে ধরা পড়ে রূপালী ইলিশ। এ বাংলায় বাঙালির বর্ষবরণ ইলিশ ছাড়া হয় না, ওপার বাংলায় জামাইষষ্ঠীতে ইলিশ চাই-ই চাই। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রায় এক কোটি বাঙালিও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ইলিশ খেতে ভোলেন না।

ইলিশ মূলত বাংলাদেশের মাছ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) জাতীয় মাছের অবদান ১ শতাংশ। দেশের মোট মাছের ১১ শতাংশ উৎপাদন আসে ইলিশ থেকে। পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ আহরণের সঙ্গে জড়িত। আরো ২০ লাখ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস এই মাছ।

ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালেয়েশিয়া, ইরানসহ আরো কয়েকটি দেশের উপকূলে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ডিম ছাড়ার জন্য তারা বেছে নিয়েছে গঙ্গা ‘বেসিনের' বাংলাদেশকে। বর্ষায় এ দেশের নদীগুলো ‘মা’ ইলিশে ভরে ওঠে ডিম ছাড়ার জন্য। সমুদ্র থেকে যত ভেতরের দিকে আসে, ততই ইলিশের শরীর থেকে লবণ কমে যায়; স্বাদ বাড়ে। একসময় এই ব-দ্বীপের সব নদীতেই কম-বেশি ইলিশ মিলতো।

রূপালী ইলিশ

বর্তমানে বাংলাদশেরে প্রধান ইলিশ অবতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র হচ্ছে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশাল। এসব মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ আসে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে বা মেঘনা ও পশুর নদীর মোহনাঞ্চল থেকে। বিশেষ করে চাঁদপুর জেলার তিন নদীর মিলনস্থলে ইলিশ মাছ বেশি পাওয়া যায়। ফলে ইলিশের রাজধানী বলা হয়ে থাকে চাঁদপুরকে। পদ্মা ও মেঘনা নদীর বুকে জেলেরা জাল ফেলে রূপালী ইলিশের আশায়।

ইলিশ দেখতে পদ্মার বুকে

আমরা কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিলাম মাঝ পদ্মা থেকে জেলের জাল থেকে কিনবো পদ্মার ইলিশ। যথারীতি রওনা দিলাম মাওয়া ঘাটের দিকে। ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাট যেতে বাস ভাড়া লাগে জনপ্রতি ৬০-৮০ টাকা। এরপর পৌঁছে গেলাম পমত্তা পদ্মার কাছে। মাওয়া পয়েন্টের স্পিডবোড টার্মিনাল থেকে আমরা রওনা হই পদ্মার বুকে। পাড়ে জেলেরা নানা ধরনের জাল বুনছে। নানা সময়ের জন্য নানা ধরনের জাল তাদের। মাঝ পদ্মায় যেতে স্পিডবোটের ১ ঘণ্টায় ভাড়া গুনতে হতে পারে ১২০০-১৫০০ টাকা।

পদ্মায় সবাই স্থায়ী জেলে না। কিছু কিছু ‘সৌখিন’ জেলে থাকে; যারা শুধুমাত্র ইলিশের মৌসুমে মাছ ধরতে যায় পদ্মার বুকে। মাঝ পদ্মায় দেখতে পাবেন পাল তোলা জেলে নৌকাও। স্পিডবোটে জেলেদের মাছ ধরা দেখার চেয়ে যদি জেলে নদীতে উপভোগ করা যায় ইলিশ মাছ ধরা তবে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম ছিল। আমরা স্পিডবোট করে ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম কীভাবে জেলেদের মাছে ধরা পড়ছিল পদ্মার বিখ্যাত রূপালী ইলিশ।

স্পিডবোড থেকে জেলেদের নৌকায় উঠে মাছ দেখাতে বললাম। নৌকার পাটাতন খুলে ইলিশ দেখাতে লাগলেন জেলেরা। এই যেন নদীর বুকে এক রূপালী ঝিলিক। সাদা ধবধবে ইলিশের পিঠে রুপালি আস্তরণ। অনেকে মনে করেন বাজারে চেয়ে অনেক সস্তায় মাছ কিনতে পাওয়া যায় পদ্মায়। এই ধারণা আসলে ভুল। ইলিশের চাহিদা এই মাঝ নদীতেও কম না। ফলে দেড় কেজি ওয়ালা দু’টি ইলিশের দাম হাঁকা হয়েছে চার হাজার টাকা।

অনেকেই মনে করেন ইলিশ মাছ বোধহয় জালে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। কিন্তু এই পদ্মার বুকে আসলে দেখতে পাবেন জ্যান্ত ইলিশ। জেলের জালে ধরা পড়ার পর বেশ কিছুক্ষণ রূপালী ইলিশ ডাঙ্গায় লাফায়। ফলে জ্যান্ত ইলিশ দেখতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে পদ্মার মাঝ বুকে। কিন্তু ভুল করেও ভাবা যাবে না পদ্মার বুকেও খুব একটা নাগালের মধ্যেই মিলবে এই ইলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে