পটুয়াখালীতে করোনা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসন

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

পটুয়াখালীতে করোনা ঠেকাতে মাঠে প্রশাসন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:২৬ ২৬ মার্চ ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনার আক্রমণ ঠেকাতে পূর্বেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজ, কোচিং, আবাসিক হোটেলসহ সব প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বুধবার থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আরো ১৬৪২ জন প্রবাসীর বিস্তারিত তালিকা পাঠানো হয়েছে ডিসি কার্যালয়ে। যা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করছে জেলা প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ডিসি ও জেলা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বাড়িতে বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অন্তত সাড়ে ৫শ’ স্বাস্থ্য কর্মীরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করছেন। সব প্রকার পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা সর্তকতায় শহরের লোক জনের সমাগম নেই বললেই চলে। ঘর থেকে নামছে না সাধারণ মানুষও। গণপরিবহন বন্ধে কাজ করছে পুলিশের একাধিক দল।

এরমধ্য ডিসি কার্যালয় থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে নামমাত্র রোগী রয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে পটুয়াখালীতে পৌঁছানো যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যেতে বেছে নিচ্ছেন নানা পন্থা। যতটুকু সম্ভব লকডাউন না করার প্রত্যয়ে নিরলস কাজ করছে জেলা প্রশাসন বলে জানান ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

এদিকে পরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, ট্রলি, তেলবাহী ট্রাকসহ একাধিক পরিবহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। 

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে পটুয়াখালী জেলা শহরের টহল দেয় সেনাবাহিনী। জেলার আটটি উপজেলায় একযোগে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার ঢাকা থেকে কোনো যাত্রী নিয়ে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটের কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ পটুয়াখালীর টার্মিনালে পৌঁছায়নি।

জেলা উপজেলায় সব প্রকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার ডিসি কার্যালয় থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৬৪২ প্রবাসীর বিস্তারিত একটি তালিকা পাঠনো হয়েছে। যা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার পর্যন্ত পটুয়াখালীতে ৪৫৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছে তাদের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি কোয়ারেন্টাইন বিধি লঙ্ঘনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে একযোগে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে কাজ করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা-উপজেলা এবং ইউপিপর্যায়ে অন্তত সাড়ে ৫শ’ জনবল মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে বাউফল উপজেলার নাজিরপুরে এক ব্যক্তিকে বরিশাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলশনে রেখেছে। অপরদিকে করোনা ন্যাশনাল প্রটোকল অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে বাউফল উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তার আখতারুজামান ও ওটিএইচ প্রশান্ত কুমারকে শোকজ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহম্মদ জাহাংগীর আলম। 

অপরদিকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নাম মাত্র রোগীর সংখ্যা রয়েছে। হাসপাতালের বর্হিবিভাগের রোগীর উপস্থিতি তেমন নেই।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মতিন জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ২শ’ পিপিই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পিপিই ডাক্তারের মাঝে বিতরণ করা হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম