Alexa পঞ্চগড়ে মহিলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে হাতাহাতি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪০

পঞ্চগড়ে মহিলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে হাতাহাতি

 প্রকাশিত: ২১:৫১ ২২ অক্টোবর ২০১৭  

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে কিছুদিন থেকে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। শনিবার বিকেলে স্থানীয় সরকারি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীদের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেত্রীসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন-কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেবেকা সুলতানা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড় পৌরসভার কাউন্সিলর কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবী ও নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া খাতুন। আহতদের প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। এ ঘটনায় পঞ্চগড়ের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অবশ্য কেন্দ্রকেই দায়ী করছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আশরাফুন্নেসা মোশাররফ ও সাধারণ সম্পাদক পিনু খান পঞ্চগড়ের মিসেস রেজিয়া ইসলাম সভাপতি ও কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পঞ্চগড় জেলা কমিটি অনুমোদন দেন।



কিন্তু এর এক মাস যেতে না যেতেই বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহামুদা বেগম ক্ষমতায় এসে গত ২২ মার্চ হঠাৎ সম্পূর্ণ কমিটি ঠিক রেখে কেবলমাত্র সাধারণ সম্পাদক কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবীর নাম পরিবর্তন করে সাধারণ সম্পাদক পদে জাকিয়া খাতুনের নাম অন্তর্ভূক্ত করে পুনরায় কমিটির অনুমোদন দেন। এ ঘটনার পর থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবী ও জাকিয়া খাতুন দুজনই পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় জাকিয়া খাতুনের নাম সম্বলিত ব্যানার লাগানোয় প্রতিবাদ করে বিপ্লবীর কর্মীরা। কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এমনকি কয়েকজন নেত্রীকেও বিপ্লবীর বিরুদ্ধে হাতাহাতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হলেও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম রেজিয়া ইসলামকে সভাপতি ও জাকিয়া খাতুনকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলে (কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দ ও জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ) ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। মুহুর্তের মধ্যেই সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়। তৃণমূল নেতাকর্মীরা ছুটাছুটি করে পালাতে থাকে। এসময় ত্রিমুখী সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় নেত্রী রেবেকা সুলতানাসহ ৩ জন আহত হয়। এসময় পুলিশ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অপর সাধারণ সম্পাদক কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ প্রহরায় বিপ্লবীকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার জন্য স্থানীয় মহিলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদেরই দায়ী করছেন। তাদের দাবি কেন্দ্রে দ্বিমুখী আচরণের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চগড় মহিলা আওয়ামী লীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন বেগম বলেন, কেন্দ্র একটি কমিটিকে অনুমোদন দিলো। তার একমাস যেতে না যেতেই আরেকটি কমিটিকে অনুমোদন দিলো।এটা কিভাবে সম্ভব। তাদের কারণেই আমাদের দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সমাবেশে দোষ করেছে উভয় পক্ষ আটক করা হলো বিপ্লবীকে। কেন্দ্রীয় নেত্রীরা কেন আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হাত তুললো। তারা কর্মীসভা করতে এসেছে না মারামারি করতে এসেছে। এর দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবাইল ফোনে কে এ দিলখুশা প্রধান বিপ্লবী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বিশাল একটি দল কর্মী সভা করতে না এসে তারা পঞ্চগড়ে ঘুরতে এসেছেন। সকাল থেকে মহিলা কর্মীদের সভায় নিয়ে এসে তারা শেষ বিকেলে সভায় যোগদান করেন। মহিলা কর্মী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমাদের কারো সঙ্গে কথা না বলে তারা সভায় যোগদান করে কমিটি ঘোষণা করেন। এসময় আমার কর্মীরা প্রতিবাদ করলে কেন্দ্রীয় নেত্রীরা আমার কর্মীদের উপর হাত তুললে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমার কোন কথা না শুনে পুলিশ আমার গায়ে হাত তুলেছে। আমি পড়ে গেছি তারপরও ওরা আমাকে মেরেছে। দোষ করলো যারা তাদের কিছু হলো না।

তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহামুদা বেগম ১০ লাখ টাকা, বিমানে যাতায়াতের টিকেটসহ বিভিন্ন সুবিধাদি নিয়ে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদিত কমিটি বাতিল না করেই সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাকিয়া খাতুনের নাম অনুমোদন করে পাঠান।

পঞ্চগড় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া খাতুন বিপ্লবীর সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি করার মত নেত্রী নন। সাফিয়া খাতুন ও মাহামুদা বেগম বিক্রি হওয়ার মত নেত্রী নন। কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের পূর্বের কমিটি পঞ্চগড়সহ ৪টি জেলার মহিলা আওয়ামী লীগের পকেট কমিটি গঠন করেছিলেন। শেখ হাসিনার নির্দেশে মহিলা আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্বের কেন্দ্রীয় কমিটির গঠনকৃত জেলা পর্যায়ের পকেট কমিটিগুলো বাতিল করেন।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম জানান, আমরা দলীয় স্বার্থে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছি। এর বাইরে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হাসান সরকার জানান, কর্মী সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দিলখুশা প্রধান বিপ্লবীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ একটি অভিযোগ দিয়ে গেছেন। যথাসময়ে মামলা হবে বলে তিনি জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে/এলআর/এসআই