নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোতে নিত্য পারাপার

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোতে নিত্য পারাপার

এম,আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫২ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:০৩ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ডাকাতিয়া নদীর একপাড়ে পশ্চিম দেবীপুর, অন্য পাড়ে পূর্ব দেবীপুর গ্রাম। দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের নিত্যদিনের যোগাযোগের ভরসা ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো। তাও নড়বড়ে। এতে স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। ওই দুই গ্রামের মানুষ ছাড়াও কাজীর চর, চরমোহনা ও শোলাখালী গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়। 

এ পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গত তিন যুগে অন্তত ছোট-বড় হাজারেরও বেশি মানুষ এই সাঁকো পারাপারে নদীতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ সাঁকো দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিদিনই নড়ক (সাঁকো) পেরিয়ে তাদের পাঠগ্রহণে যেতে হয়। বর্ষায় নদী টইটম্বুর হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে পাকা সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। কিন্তু তাতে প্রশাসনের কোনো নজরই নেই বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, গ্রামবাসীর অর্থায়নে ১৯৮৬ সালে এ বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। স্বেচ্ছাশ্রমে ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি নির্মাণে তখন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর একাধিকবার মেরামত করা হলেও বর্তমানে সেই সাঁকোটি নড়বড়ে অবস্থা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। তারা ওই সাঁকোটি পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করে। ছোট ছোট শিশুরা সাঁকোটির দুই পাড়ে অভিভাবকের জন্য অপেক্ষা করেন। অভিভাবক আসলে শিশুদের কোলে করে পারাপার করতে হচ্ছে।

দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সূচণা আক্তার বলেন, ‘আমাগো বাড়ি নদীর ওপাড় (পশ্চিম দেবীপুর)। হাক্কা (সাঁকো) দিয়া স্কুলে যাইতে আইতে খুব ডর করে। হাক্কার উপরে উঠলে পা কাঁপে। মনে হয় বুঝি, এহনি পানিতে পইরা যামু। তাই আমাগো কথা চিন্তা করি এখানে এটা সেতু নির্মাণের জোড়ালো দাবি জানাচ্ছি’।

রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান সফিউল আজম সুমন চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সময়ে ইউপি থেকে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ, ইউএনও, এলজিইডির কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনকে এলাকার জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত করে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়। তবে দীর্ঘদিনেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় এ সমস্যার সমাধান হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দেবিপুরের বাঁশের সাঁকোটি সার্ভে করে ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর