Alexa ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রিতে তৃপ্তির হাসি

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৬ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রিতে তৃপ্তির হাসি

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৯ ২২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫৮ ২২ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর সদরে কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেছেন এক হাজার ৫০০ কৃষক। এর মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট, দালাল বা ব্যবসায়ী ফায়দা লুঠতে পারেনি। কৃষি ব্যাংকে থাকা নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে ধান বিক্রির টাকা তুলেছেন কৃষকরা। ফলে কষ্টে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পেয়ে তৃপ্তি হাসি দিচ্ছেন তারা।

১৯ মে সদর ইউএনও শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল খাদ্য গুদামে বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে স্থানীয় কৃষি কার্ডধারী কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান গুদামে বিক্রি করছেন।

২০১৯ সালে বোরো সংগ্রহ মৌসুমে লক্ষ্মীপুর সদরের খাদ্য গুদামে ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করতে বলা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে এখনো প্রায় এক হাজার ৫০০ কৃষকের তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তালিকা অনুযায়ী কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার কেজি ধান বিক্রি করতে পারছেন।

সদরের মহাদেবপুর গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের ও চরভূতা গ্রামের ইউসুফ বলেন, নিজেদের উৎপাদিত ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাজারে ধানের দাম কম ছিল। এখন সরকার কৃষি কার্ড দিয়েছে। কৃষি কার্ডসহ গুদামে গিয়ে ২৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করেছি। গুদাম থেকে আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেক দেয়া হয়। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেই। এর আগে সরকারিভাবে ধান কেনা হলেও কৃষকরা লাভবান হননি। সবই ছিল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান ইমাম বলেন, কৃষকরা উপজেলা কৃষি অফিসে কৃষি কার্ড জমা দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারা প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। যেসব কৃষকের কাছে ধান রয়েছে, তারা তালিকাভুক্ত হতে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

লক্ষ্মীপুর সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রামিম পাঠান জানান, উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির নির্দেশনা ও কৃষি বিভাগ থেকে তালিকাভুক্ত কৃষকদের নাম সরবরাহ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে চিটামুক্ত শুকনা ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকের ধান গুদামজাত করে কৃষকের কৃষি অ্যাকাউন্টে ধানের মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। কৃষকের অ্যাকাউন্ট ছাড়া বিল পরিশোধ করার সুযোগ নেই।  

তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করছেন। কৃষি কার্ডসহ চিটামুক্ত শুকনা ধান গুদামে জমা দিয়ে ধান সংগ্রহ অভিযান সফল করার আহবান জানান তিনি।

এর আগে ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুর খাদ্য গুদামে বোরো মৌসুমে এক হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন ধান কিনতে বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা সরকারি সুবিধা পাননি। এসব নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সদর ইউএনও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খাদ্য গুদাম এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মাধ্যমে কয়েক দালালকে জেল-জরিমানা করেন। যার প্রেক্ষিতে খাদ্য বিভাগ ধান কেনা বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর সদরে ধান কিনতে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

Best Electronics
Best Electronics