নোবিপ্রবি এখন শুধুই তাদের 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নোবিপ্রবি এখন শুধুই তাদের 

মাইনুদ্দিন পাঠান, নোবিপ্রবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:০৮ ৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৩:০৩ ৩ এপ্রিল ২০২০

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন ক্যাম্পাস জুড়ে তাদেরই রাজত্ব।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন ক্যাম্পাস জুড়ে তাদেরই রাজত্ব।

গাছে গাছে নতুন পাতা। ডালে ডালে ছুটছে পাখিরা। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন ক্যাম্পাসের পুরোটা জুড়ে তাদের রাজত্ব। এপ্রিলের এই সময়ে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড়ে থাকে জমজমাট। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ছুটি ঘোষণা করায় ক্যাম্পাস এখন ফাঁকা। সেই সুযোগে প্রকৃতি যেনো নিজের মতো সেজেছে।

দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। যেখানে বছর ধরেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, আড্ডার ফুলঝুরিতে মুখরিত থাকে গোটা ক্যাম্পাস। আজ নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে গল্প-সভায় জমে উঠা ক্যাম্পাস আর হলগুলো। নেই ক্লাস  করা কিংবা লাইব্রেরিতে পড়ার তাড়া। নেই হৈচৈ কিংবা কোলাহল। পরিচিত চত্তরগুলো শিক্ষার্থীর শূন্যতায় যেনো যৌবন হারিয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে বইছে সুনসান নীরবতা। এমন নীরব ক্যাম্পাস ও হল এর আগে কেউ দেখেনি। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে পুরো ক্যাম্পাস এখন সুনসান।

করোনা ছুটিতে জনমানবশূন্য হয়ে আছে নোবিপ্রবি হলরোড

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ। এই কয়েকদিনে ক্যাম্পাসটা কী সুন্দরই না হয়েছে! গাছে গাছে কচিপাতা।  চারদিকে কেবল পাখির কিচিরমিচির  শোনা যায়। গাছ, পাখি আর প্রাণী মিলে ক্যাম্পাসে নিজেদের মতো সময় কাটাচ্ছে। এমন সুযোগ খুব বেশি যে তাদের জীবনে আসে না!

নোবিপ্রবির ময়নাদ্বীপে অতিথি পাখিদের বিচরণ

ক্যাম্পাসের লাইব্রেরি রোড থেকে পশ্চিম দিকে ময়নাদ্বীপ অবস্থিত। প্রতিবছর অতিথি পাখিরা এখানে এসে অবস্থান করে। পুরো ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে উড়ে বেড়ায়। উড়াউড়ি, ছুটাছুটি, খুনসুটি আর মনের সুখে সাঁতার খেলায় ব্যস্ত এক ঝাঁক পাখি। দ্বীপের কোথাও তারা জুটিবদ্ধভাবে নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। আবার কখনো তারা চক্রাকারে চিৎকার করে উড়ে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের মুক্ত আকাশ জুড়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব অতিথি পাখির কলকাকলি আর কিচিরমিচির শব্দে ক্যাম্পাসে এখন মধুময় সুরের আবহ বিরাজ করছে। সামান্য শব্দ হলেই উড়ে যাচ্ছে দল বেধে। ওদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত পুরো এলাকা।

দর্শক বিহীন রাজ্যে চলছে সূর্যমুখীর চাষ

আর ব্যস্ততম ক্যাম্পাসে নতুন অতিথিদের কোলাহলে ঘুম ভাঙত ময়নাদ্বীপের পার্শ্ববর্তী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা ছাত্রী হলের বাসিন্দাদের। কিন্তু আজ সব হল জনমানবশূন্য, নেই কোনো মানুষের চলাচল, পাখিরা সাজিয়ে নিয়েছে নিজেদের মত করে। ঘুরাফেরা করছে নির্ভীক ভাবে। কোথাও কেউ বাধা দিচ্ছে না। আজ তাদের নেই শিকারের ভয়। নেই কোনো আতঙ্ক। পুরো ক্যাম্পাসটা তাদেরই রাজত্বে। 

ক্যাম্পাস খোলা থাকলে শান্তিনিকেতন ঘিরে জমে জমজমাট আড্ডা। কেউ কেউ গিটারে সুর তুলতেন। সঙ্গী হতেন আরো অনেকে। এখন এসবের কিছুই নেই। সে স্থান যেন নিয়ে নিয়েছে পাখির দল। মাঠগুলোতে পড়ে আছে ইট-বালি। শুধু মনে হবে, মানুষই উধাও হয়ে গেছে। লন্ডন রোডটা খালি পড়ে আছে। কেউ বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ছবি বা সেলফি তুলছেন না। অডিটোরিয়াম, পাশে ক্যাফেটেরিয়া, শহীদ মিনারও একা হয়ে আছে। তবে অডিটোরিয়ামের পাশের পার্কটিতে চলছে পাখিদের রাজত্ব। 
 
প্রতিবছরের এইসময়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  আঙ্গিনায় উঁকি দেয় সূর্যমুখীরা। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরুপ দৃশ্য। যতোদূর চোখ যায় দেখে মনে হয় বিশাল আয়তনের হলুদ এক গালিচা। চোখে পড়ে শুধু সূর্যমুখী ফুল। আর এই ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে মনোরম দৃশ্য স্মৃতির পাতায় বন্দি করছেন অনেকেই। কেউ ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতির পাতায় জমিয়েছে। কিন্তু এবারের দৃশ্যটি ভিন্নরকম নেই কোন হাসির ঝলক। নেই কোনো ছবি তোলার ভীড়। নীরবে দাঁড়িয়ে আছে হলুদ ফুল ওয়ালা সবুজ গাছ। 

নির্ভীকভাবে ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়াচ্ছে পাখিরা

ক্যাম্পাসের সূর্যমুখী গাছগুলো সকলের নজর কাড়ে।  প্রতিবছর এই সময়েই চাষ করা হয় সূর্যমুখী। সূর্যমুখীগুলো মাথা উঁকি দিয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু সে সৌন্দর্য উপভোগ করার কেউ নেই। কেউ আজ বাগানের পাশ দিয়ে হেটে যায়নি। সূর্যমুখী বাগান নিজের মত করে সাজিয়ে নিয়েছে।

কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বলেন, প্রতিবছর এসময় ক্যাম্পাসে থাকে শিক্ষার্থীদের পদচারণা। নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাস থাকে মুখরিত। আর এবছর প্রকৃতি আমাদেরকে সাজাতে দেয়নি। ওরা নিজেদের মত করে সাজিয়ে নিচ্ছে। যেখানে শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত সেখানে আজ পাখিদের কোলাহল। 

মৎস্য ও সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তারেক রহমান ইমন বলেন, ক্যাম্পাস খোলা থাকলে আমাদের জন্য প্রকৃতি নিজের মত সাজতে পারেনা। তাই হয়ত তারাও তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছে নিজেদের মত সাজিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য। নির্ভীকভাবে কয়েকটাদিন ক্যাম্পাসটাকে ঘুরে দেখতে চেয়েছিল।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, করোনার ছুটিতে সারাদিন বাসায় বসে থাকি কিন্তু এসময়টাতে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি অনেক সৌন্দর্যময় থাকে। শুধু ইচ্ছে হয় ক্যাম্পাসে ফিরে গিয়ে প্রকৃতিটাকে উপভোগ করি। সূর্যমুখী বাগানে গিয়ে ছবি তোলায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/এসএএম