নোবিপ্রবিয়ান প্রথম যারা, ক্যাম্পাস ছুটিতে কেমন তারা 
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=192584 LIMIT 1

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নোবিপ্রবিয়ান প্রথম যারা, ক্যাম্পাস ছুটিতে কেমন তারা 

মাইনুদ্দিন পাঠান, নোবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১১ ৭ জুলাই ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসে আতঙ্কে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের বিভাগে যারা ‘ফার্স্ট বয়’ বা ‘ফার্স্ট গার্ল’—এখন কীভাবে কাটছে তাদের সময়? নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাসে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীদের বয়ানে আজকের আয়োজন।

সালমা সুলতানা, চতুর্থ বর্ষ, ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ 
বাংলাদেশে মার্চ মাসের শুরুর দিকেই করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। করোনাকালীন ঝুঁকি এড়াতে সরকারি নির্দেশনা মেনে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এতটা সময় এর আগে কখনো এভাবে ঘরে বসে কাটেনি। দীর্ঘদিন একাডেমিক পড়াশোনা থেকেও দূরে আছি। এই সময়টাতে ঘরে বসেই অনলাইনে নিজের কিছু স্কিল উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। স্কলারশিপ নিয়ে বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছি ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থেকে একঘেয়েমি এসেছে তবু ভালো লাগছে এই ভেবেই দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারছি। সেই সঙ্গে অনেক বেশি ইবাদাত করার সুযোগ পেয়ে তৃপ্তি অনুভব করছি। বাকিটা সময় বই পড়া এবং নিজের বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষের মাধ্যমেই যাচ্ছে। আশা করি মহান রাব্বুল আলামিন খুব শীঘ্রই আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে পূর্বের মতোই রোগমুক্ত করে দিবেন। আবার ফিরে যেতে পারবো সেই চিরচেনা ক্যাম্পাসে। নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করবো সুস্থ পৃথিবীতে।


নাসিরন আক্তার, তৃতীয় বর্ষ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
করোনা মহামারীর কারনে আমরা সবাই এখন বাড়িতে একটা দীর্ঘ অবসর সময় পার করছি। এ সময়টা আমাদের সকলের উচিত যথাসম্ভব কার্যকরী ব্যবহার করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময়ই চেষ্টা করি এ সময়গুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোর্সেরা অনলাইন প্লাটফর্ম আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে, আমি চেষ্টা করছি সেখানে কিছু কোর্স সম্পন্ন করার। এর মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন আমার স্কিল ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে ঠিক অন্যদিকে এই অবসর সময়টাও কাজে লাগছে। এছাড়া আমি অবসর সময় নতুন কিছু রান্না শেখার চেষ্টা করছি। ইন্টারনেট এর এই যুগে কোনো কিছু শেখার ইচ্ছে আর সময় এই দুটো থাকলে যে কোন কিছুই শেখা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাসগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি। এ সংকটাপন্ন সময়ে আমাদের সকলের উচিত বেশি বেশি সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা ও সবার সুস্থতার জন্য দোয়া করা। আমি নিয়মিত সালাত আদায় করছি এবং এই মহামারী থেকে সবার মুক্তির জন্য দোয়া করছি।  আম্মুকে রান্নাসহ অন্যান্য সকল কাজে সাহায্য করার যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। সর্বোপরি আমার পরিবারকে সময় দিচ্ছি। অন্য সময় কর্মব্যস্ততার কারনে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এখন সবাই অবসর বলে পরিবার এর সবাইকে নিয়ে এই অবসরকে উপভোগ করছি।

ফারহানা বিনতে কাইয়ুম বৃষ্টি, তৃতীয় বর্ষ, কৃষি বিভাগ 
১৬ই মার্চ ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার পর এখন অব্দি বন্দীদশা পার করছি। অনেক আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়েই সময় কাটাচ্ছি। তাই অবসর সময়টা ভালোভাবে কাজেও লাগাতে পারছি না। সর্বক্ষণ মানসিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে এই সময়টাতে বাসার কাজে আম্মুকে সাহায্য করছি, ছোট ভাইবোনদের পড়াচ্ছি, আঁকাআঁকি করেও কিছুটা সময় পার করছি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কিছু সময় ব্যয় করছি। সাধ্যমত অসহায় মানুষগুলার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি এবং আশেপাশের মানুষগুলাকে সচেতন করছি যাতে এই করোনাকালীন সময়ে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।সর্বশেষ কথা হলো, আবার সুন্দর একটি সকাল দেখার প্রত্যাশা নিয়ে ভয়ে ভয়েই সময়টা পার করছি। দোয়া করছি আল্লাহ যাতে অতি দ্রুত আমাদেরকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করেন।

খান মোহাম্মদ মুহিবুল আলম মুঈদ, তৃতীয় বর্ষ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
বিশ্ব মহামারী করোনাভাইরাস ডিজিজ (COVID-19) মুহূর্তে অন্যান্য সকলের ন্যায় আমিও আতংকিত। মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছি আর অসুস্থদের আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করছি। উচ্চমাধ্যমিক পড়াশুনা থেকেই রসায়ন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ কাজ করতো আর মহান আল্লাহর রহমতে পছন্দসই বিভাগে ভর্তি হতে পেরেছিলাম। এই অবসর সময়টা ছোটদের পড়াশুনায় সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি প্রানরসায়ন বিভাগ সম্পর্কিত গবেষণা প্রক্রিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন এর চেষ্টা করছি। সামাজিক দূরত্ব বজায়ের পাশাপাশি, স্বাস্থ্যনীতি মেনে চলছি। প্রান বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বর্তমান মহামারী ভাইরাস সম্পর্কিত ভাইরাস এর উৎপত্তি, বিস্তার, প্রতিরোধ এবং করণীয় সম্পর্কিত জ্ঞান লাভের চেষ্টা করছি। বিভাগ কর্তৃক অনুষ্ঠিত অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকছি পাশাপাশি বন্ধুদের খোঁজ নিচ্ছি।

ইয়াসমিন আক্তার, তৃতীয় বর্ষ, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ
এ সময়ে আসলে কারোই দিন ভালো যায় না, কোয়ান্টাইনের শুরুর দিকের দিনগুলো অলসই কেটেছে। এখন অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে, পড়া, অ্যাসাইনমেন্ট সব মিলিয়ে দিনটা খুবই ভালো কাটে, ভালো সময় পার হয়। তবে প্রিয় ক্যাম্পাস, বন্ধু,  ডিপার্টমেন্টকে খুব মিস করি। পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে আমার মনে হচ্ছে- প্রকৃতি আমাদের বদ্ধ করে নিজে পরিশুদ্ধ হচ্ছে নিজের এক নতুন রূপে। আশা করি করোনা জয় করে অতিশীঘ্রই বিশুদ্ধ প্রকৃতিতে ক্যম্পাসের নির্মল বাতাসে আবার সেই সকালটা শুরু করতে পারবো। 

নুসরাত জাহান প্রীতি, তৃতীয় বর্ষ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিনিউকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
পাঁচ বছর ধরে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এর আগে এতটা সময় কখনো বাড়িতে কাটাতে পারিনি। এ সময়টাতে পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে পারছি। একাডেমিক পড়ালেখা থেকে দূরে আছি ভালোই লাগে। বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেষ্টা করছি, অনেক নতুন কিছু শিখেছি। মাঝে মাঝে সারাদিন রাত নাটক দেখি। ইচ্ছে হলে রান্নাবান্না করি। আর ফেসবুকেই বেশিরভাগ অবসর সময় কাটাই। আমার তেমন কোনো শখ নেই বিধায় শুয়ে বসেই দিন কাটছে। মেশিন লার্নিং সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি আর ইথিক্যাল হ্যাকিং সম্পর্কে জানার একটু জানার চেষ্টা করছি।

সাবরিনা চৌধুরী, তৃতীয় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ
করোনার এই ভয়াল থাবায় বিশ্ব আজ স্তব্ধ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় পূর্বে কখনো ঘরে বসে কাটেনি। এসময়টাতে ঘরে বসেই কিছু অনলাইন কোর্স করি বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপ করার জন্য। এছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ বিষয়ক কিছু অনলাইন সেশনে অংশগ্রহণ করি। ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থেকে একঘেয়েমি আসলেও দীর্ঘসময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারছি। এছাড়া ধর্মীয় অনুশাসন ও ইবাদাতে মনোনিবেশের পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছি। সম্প্রতি অনলাইনে ক্লাসের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছি। আশা করি পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা খুব শিগগিরই আমাদের রোগমুক্ত করে দিবেন। আমরা আবার ফিরে যাবো প্রিয় ক্যাম্পাসে। নতুনভাবে জীবনের যাত্রা শুরু করব সুন্দর, নির্মল ও সুস্থ পৃথিবীতে। 


মাহাদী হাসান, ২য় বর্ষ, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট 
করোনার মতো এই ব্যাধির মধ্যে যখন পুরা ভার্সিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে তখন আমি চিন্তা করলাম যে, যেভাবেই হোক এই বন্ধের সময়টাকে নিজের কাজে লাগাতে হব। সেজন্য আমি অনলাইন এ কিছু কোর্স করছি, পরবর্তী সময়ের যথা জবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আর যতটা সম্ভব বাসার কাজে পরিবারকে সাহায্য করছি। এই পরিস্থিতি আশা করি খুব দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। আর ঠিক হয়ে গেলেই ভার্সিটির পরীক্ষাসমূহ হয়তো শুরু হয়ে যাবে আর সেটা ভেবেই টপিক অনুসারে নোট করে রাখছি। আর এসময় বিনোদন টাও খুব ভালোভাবে করছি যেমন- মুভি দেখা, উপন্যাস পড়া, সোস্যাল মিডিয়াতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়া ইত্যাদি। এসময়ে ইবাদত বন্দেগীতেও নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টার পাশাপাশি নিজের চারপাশের পরিবেশ কে সুন্দর ও জীবানুমুক্ত রাখার চেষ্টাও করছি যাতে পরিবার ও প্রতিবেশীরা ভালো থাকে। পরিশেষে আমি এটাই বলবো যে সময়কে কাজে লাগান হয়তো এই সময় ব্যয়ের জন্য আপনি একটু হলেও লাভবান হবেন। আশা করি এমন পরিবেশ থেকে খুব দ্রুতই সবাই রেহাই পাবো ইনশাল্লাহ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর