Alexa নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

শেরপুর-১ (সদর)

নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব

 প্রকাশিত: ২০:০১ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শেরপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগে বিরাজ করছে অস্থিরতা। নেতাদের মধ্যে চলছে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব। বিএনপি সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে নির্বাচনী মনোনয়নে এক ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে জাতীয় পার্টি। আর বামপন্থী ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনোযোগ আর্কষণে ব্যর্থ হচ্ছে।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। এতে কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এ আসনে আওয়ামী লীগ যেমন আসন ধরে রাখার চেষ্টা করবে, তেমনি বিএনপি চাইবে জয়।

শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ওই সময়কার মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। নির্বাচনে দলের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন মেয়র নির্বাচিত হন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় দলীয় কোন্দল আরো প্রকট হয়। সেই নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন সাবেক মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান। তার কাছে পরাস্ত হন চন্দন।
আওয়ামী লীগের মূল কমিটির মতো বিরোধ ছড়িয়ে পড়ছে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোতেও।

শেরপুর-১ (সদর) আসনে মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি আতিউর রহমান আতিক। এবারও দল থেকে তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে এবার এ আসনে মাঠে নেমেছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বাস-কোচ মালিক সমিতির সভাপতি ছানুয়ার হোসেন ছানু। তিনি বলেন, আতিক এমপির দিন শেষ হয়ে গেছে। তাকে এখন আর মানুষ চায় না।

এ সম্পর্কে হুইপ আতিউর রহমান আতিক বলেন, দলের ভেতর কোনো বিরোধ নেই। আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়নে বিজয় নিশান আমার হাতেই উড়বে বলে বিশ্বাস ও ভরসা রাখি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী মাঠে কাজ করছেন।

জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, বিএনপিতে এখন উদ্যোক্তার অভাব, লোকের অভাব, মেধার অভাব। জোটের রাজনীতির কারণে এটি জামায়াতের কাছে ছাড় দিতে হয়েছে।

আরেক সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, দলে এক ধরনের সাংগঠনিক অস্তিরতা বিরাজ করছে।

এ সম্পর্কে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল বিএনপিতে পদ-পদবি বেচাকেনার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, যারা নির্বাচিত হতে পারেনি, তারা মনের ক্ষোভে এসব কথা বলতে পারে।

হযরত আলী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শেরপুরে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী। দল সুসংগঠিত। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরাই জয়ী হব।

এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন তৌহিদুর রহমান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তবে জোটগত নির্বাচনের কারণে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে হাসান ইমাম ওয়াফিকে এ আসনটি ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

হাসান ইমাম ওয়াফি বলেন, ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা নির্বাচন নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।

জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে শেরপুরে জেলা সভাপতি সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াস উদ্দিনকে এ আসনে দলীয় প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, আমরা মহাজোটের কাছে এ আসনটি চাইব। এবার মহাজোট হলে শেরপুর থেকে জাতীয় পার্টিই মনোনয়ন পাবে।

শেরপুর জেলা জাসদের (ইনু) সভাপতি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, এবার মহাজোটের শরিক হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইব।

অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি শেরপুর জেলা শাখা মাঝে-মধ্যে কর্মসূচি পালন করে।

>>>কাল থাকছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনীতি...

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে