নেককার সন্তান লাভে সহবাসে যা করণীয়

ঢাকা, বুধবার   ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭,   ১২ সফর ১৪৪২

নেককার সন্তান লাভে সহবাসে যা করণীয়

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১০ ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৮:১৪ ১৯ আগস্ট ২০২০

বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও সওয়াবের কাজ।

বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও সওয়াবের কাজ।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে পুরুষ সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের হালাল করে দিয়েছি। যাতে করে তোমরা শয়তানের ধোঁকায় পরে বিপথগামী না হও।’ (আল কোরআন)।

আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক পুরুষের জন্য স্ত্রী হিসেবে নারী জাতিকে মনোনিত করে রেখেছেন। আর বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর যাবতীয় বৈধ কার্যক্রম হয়ে ওঠে কল্যাণ ও সওয়াবের কাজ। বংশবৃদ্ধির একমাত্র মাধ্যমে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে নেক সন্তান দান করুন। আমিন।

স্বামী-স্ত্রী সহবাসের জন্য দোয়া ও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। রয়েছে সহবাসের কিছু নিষিদ্ধ সময়। এসব নিয়ম পালন করে সহবাস করলে আল্লাহ তায়ালা নেক সন্তান দান করেন।

সহবাসের দোয়া: 

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি,  তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের এ মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে,  তা হতেও শয়তানকে দূরে রাখ।’

ফজিলত:

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ আপন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে তখন উক্ত দোয়া পড়ে যেন মিলিত হয়। এ মিলনে যদি তাদের কিসমতে কোনো সন্তান আসে,  সে সন্তানকে শয়তান কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)।

হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,  যে ব্যক্তি সহবাসের ইচ্ছা করে, তার নিয়্যাত যেন এমন হয় যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবে না আর জন্ম নেবে নেককার ও সৎ সন্তান। এই নিয়তে সহবাস করলে তাতে সওয়াব তো হবেই সঙ্গে সঙ্গে নেক উদ্দেশ্যও পূরণ হয়।

সহবাসের নিষিদ্ধ সময়:

(১) রোগাবস্থায় সহবাস না করা। কেননা এতে তার রোগ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। (২) হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই রোগ হতে পারে। (৪) ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা ভালো। (৫) অন্ধকার ঘরে ক্ষুদ্র বা নোংড়া জায়গায় স্ত্রী সহবাস করা ভালো নয়। (৬) খুব ভীষণ ক্ষুধার সময় স্ত্রী সহবাস না করা ভালো।

স্বামী-স্ত্রী সহবাস করার কিছু নিয়ম-কানুন:

(১) রাত্রি দ্বি-প্রহরের সময় সহবাস করা উত্তম। তবে দিনে রাতে যে কোনো সময় স্ত্রী সহবাস করা যাবে। (২) ফলবান গাছের নিচে সহবাস না করা। (৩) সহবাসের প্রথমে দোয়া পড়া। (৪) বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা। (৫) চন্দ্র মাসের প্রথম ও পনের তারিখ রাতে সহবাস না করা। (৬) স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা। তবে তাকালে কোনো গুনাহ হবে না। (৭) সহবাসের সময় বেশি কথা না বলা। (৮) নাপাক শরীরে সহবাস না করা। (৯) উলঙ্গ হয়ে কাপড় ছাড়া অবস্থায় সহবাস না করা। (১০) স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা। (১১) পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে সহবাস না করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে