আমরা অসাধ্য সাধন করেছি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৩ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

আমরা অসাধ্য সাধন করেছি: প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশিত: ১৪:৪৬ ১১ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ২০:৫৫ ১১ অক্টোবর ২০১৮

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী   ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার দেশজুড়ে রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের মধ্য দিয়ে সারাদেশে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। দ্রুতগতিতে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আমরা অসাধ্য সাধন করেছি।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০ জেলায় ৩৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে বাস্তবায়িত ৭টি জেলায় ৭টি সেতু, ৬টি জেলায় ৬টি নগর মাতৃসদন, ৫টি জেলায় ১০টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র  ও একটি জেটি, ৮টি জেলার ৯টি উপজেলায় সম্প্রসারিত উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমসহ ২০টি জেলায় ৩৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।

এসব প্রকল্পের পাশাপাশি এ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের করা স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে আমরা সারা বাংলাদেশে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। যার ফলে একদিকে যোগাযোগ, অন্যদিকে উপজেলায় মানুষের সরকারি সেবাপ্রাপ্তির সুবিধা, আবার মাতৃসদনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া- এ সব কাজ আমরা করছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সহ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানামুখি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে কোনো দেশ এত দ্রুত এতটা উন্নতি করে, এমনটা আমার জানা নেই। কিন্তু আমরা সেই অসাধ্য সাধন করেছি। 

তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগগুলোর সুফল আজ দেশবাসী ভোগ করছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সবাই এখন কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক থেকে সেবা নিতে পারছে। গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে নানারকম প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির সড়কে ডেপা নদীর ওপর ২২৮ মিটার দীর্ঘ সেতু, জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৫৬০ মিটার দীর্ঘ ‘শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল সেতু’ ও ‘শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম সেতু’, টাঙ্গাইলে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ৫২০.৬০ মিটার দীর্ঘ দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা সেতু’, শ্রীপুর উপজেলায় ৩১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু, মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর ৬৮৬.৭৫ মিটার দীর্ঘ ‘শেখ লুৎফর রহমান সেতু এবং নড়াইলে চিত্রা নদীর ওপর শেখ রাসেল সেতুর’ উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাটে নির্মিত ৫৫০ মিটার দীর্ঘ জেটিরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।   

এছাড়া ঢাকার মিরপুর এক নম্বর সেকশনে, গাজীপুরের দক্ষিণকোলার বাজারের ধীলাশ্রমে, রংপুরের পূর্ব খাসবাগে, কিশোরগঞ্জের হারুয়ায়, কুষ্টিয়ার মিলের পাড়ায় ও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ছয়তলা নগর মাতৃসদন এবং গাজীপুরের নীলের পাড়ায়, কুমিল্লার কমলাপুর, বাউবন্দ ও রসুলপুরে, রংপুরের এরশাদ নগর ও জুমাপুড়ায়, কুষ্টিয়ার বারাদি ও বড়খাদায়, কিশোরগঞ্জের নুরানী ও তারাপাশায় তিনতলা নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। 

নীলফামারীর ডোমার, নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগর, নাটোরের সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া, যশোরের শার্শা এবং নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ‘উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম’এর উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত্নবান হতে বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাদারীপুর, কুমিল্লা, নওগাঁ, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুরে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির উপকারভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এলকে

Best Electronics