Alexa নৃশংস সম্রাট থেকে ন্যায়ের প্রতীক ‘অশোক’

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

নৃশংস সম্রাট থেকে ন্যায়ের প্রতীক ‘অশোক’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৬ ১৫ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আগের যুগে রাজাদের নির্মমতার কথা জানে না এমন মানুষ কমই আছে। তবে নৃশংস সম্রাট থেকে ন্যায়ের প্রতীক হতে অশোক রাজার গল্পটা জানেন কি? শুনলেই গা ছম ছম করে উঠবে।  

ভরবি ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদা যেমন কুরূপা থেকে সুরূপা হয়েছিলেন‚ সম্রাট অশোকও তেমনি চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোক হয়েছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ দীপবংশ এবং মহাবংশে বর্ণিত আছে তার জীবনের নানা পর্ব।

অশোকের জন্ম রহস্যাবৃত। তার পিতা মৌর্য সম্রাট বিন্দুসার। বৌদ্ধ ধর্ম গ্রন্থ অনুযায়ী‚ অশোকের মা হলেন ধর্মা বা ধম্মা। তিনি বিন্দুসারের রানি ছিলেন‚ না নিছক প্রেয়সী‚ তা নিয়েও দ্বন্দ্ব আছে । অশোক ধর্মাশোক হয়েছিলেন পরিণত বয়সে। আসুন একবার চোখ রাখি তার প্রথম জীবনে।

বলা হয়‚ মোট ৯৯ জন ভাইকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন অশোক। তার বিশাল এবং অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত সেনাবাহিনী নিয়ে অশোক নিজের পায়ের নিচে এনেছিলেন পশ্চিমে বেলুচিস্তান থেকে বাংলাদেশ। অন্যদিকে‚ উত্তরে পামীর মালভূমি থেকে দক্ষিণ ভারত। কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশ ছাড়া পুরো দক্ষিণাত্য ছিল অশোকের সাম্রাজ্য।

সম্রাট অশোকবৌদ্ধ গ্রন্থ অশোকবন্দনা বলে‚ কিংবদন্তি অনুযায়ী চণ্ডাশোকের এক নির্যাতন-প্রাসাদ ছিল। অতর দায়িত্বে ছিল জল্লাদ গিরিকা। আশোকের নির্দেশে তার কাজ ছিল নরকীয় অত্যাচার পন্থায় নির্যাতন করা। আস্ত নরককেই নাকি গিরিকা তুলে এনেছিল এক মনোরম প্রাসাদের ভিতরে। হিন্দু পুরাণ শাস্ত্র অনুযায়ী নরকে যে যে অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় পাপীদের‚ তার প্রতিটি ধাপ এখানে তুলে এনেছিলেন অশোক।

সেই প্রাসাদের বাইরে মনোরম সৌন্দর্য দেখে বোঝার উপায় ছিল না ভিতরে কী পৈশাচিক অত্যাচার চলে। অপূর্ব উদ্যানে সজ্জিত সেই প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হত বিদ্রোহী তথা অন্য অপরাধীদের। তারপর একাধিক পৈশাচিক উপায়ে তিলে তিলে হত্যা করা হত তাদের। লোহা দিয়ে মুখ ফাঁক করে গিরিকা তাদের গলায় ঢেলে দিত ফুটন্ত তামা। এসবই হত অশোকের নির্দেশে।

মোর্য বংশে তার পূর্বপুরুষরা যা পারেননি‚ পরিণত বয়সে সেই অসাধ্যসাধন করলেন অশোক। কলিঙ্গ রাজ্য জয় করলেন। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন‚ এই যুদ্ধে যা রক্তক্ষয় হয়েছিল তা বিশ্বের ইতিহাসে আর কোনো যুদ্ধে হয়নি।

এই যুদ্ধের পরেই আশ্চর্য পরিবর্তন আসে অশোকের মনে। তিনি বুদ্ধের আশ্রয়ে নিজেকে সমর্পণ করেন। চণ্ডাশোক থেকে রূপান্তরিত হন ধর্মাশোকে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে বিলীন করে দেন নিজেকে। কথিত‚ সারা জীবনে এত রক্তপাত দেখেছিলেন অশোক যে একসময়ে শুধু রক্ত নয়‚ লাল রঙই সহ্য করতে পারতেন না তিনি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ