Alexa নুসরাত হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তিন সাক্ষী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৭ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

নুসরাত হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন তিন সাক্ষী

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৬ ১৬ জুলাই ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় পরীক্ষার হল সুপারসহ তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হয়।

মামলার সাক্ষী হল সুপার নুরুল আবছার ফারুকী, নুসরাতের সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথী ও অপর সহপাঠী বিবি জাহেদা তামান্নার সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরা হয়। এ সময় সব আসামি হাজির ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জানান, ২৭ জুন থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত আদালত ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ও তাদের জেরা সম্পন্ন হয়।

বুধবার মামলার সাক্ষী ওই মাদরাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, মাদরাসার আয়া বেবি রানি দাস, আকলিমা আক্তার ও মো. কায়সার মাহমুদের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

হল সুপার ফারুকী সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, সেদিন আমি হল সুপারের দায়িত্ব পালন করছিলাম। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হলের বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে পরিদর্শন করি ও সার্বিক প্রস্তুতি তদারক করি। ১০টার কিছু আগে বহু লোকজনের চিৎকার শুনে অন্য অনেকের সঙ্গে আমিও বাইরে ছুটে যাই। দেখি- বেশ কয়েকজন মিলে একটা আগুনে পোড়া দেহ নিচে নামিয়ে আনছেন।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে আলিম পরিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ইউএও এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাই। পরে গণমাধ্যমের খবর ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা মাধ্যমে জানতে পারি- ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের অনুগতরা তার নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদ থেকে কেরোসিন মিশ্রিত কালো রঙের পলিথিন, বাটিকের একটি ওড়নার পোড়া অংশ, সেন্টারের নিচের মেঝে থেকে এক জোড়া নেভি-ব্লু রঙের জুতা, একটি টিয়া রঙের সালোয়ারের নিচের দিকের পোড়া অংশ, একটি কালো রঙের বোরকার পোড়া অংশ ও নীল রঙের রাবারের ম্যাট (মাদুর) উদ্ধার করেন। পরে একটি উদ্ধার তালিকা তৈরি করা হলে আমি তাতে স্বাক্ষর করি।

নুসরাতের সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথী বলেন, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ পিয়ন নুরুল আমিন নানাকে দিয়ে নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে পাঠান। নুসরাত একা না গিয়ে নিশাত ও ফুর্তিকে নিয়ে যায়। নিশাত ও ফুর্তি বাইরে থাকে, নুসরাত ভেতরে যায়। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি-ওখানে অধ্যক্ষ তাকে যৌন হয়রানি করেছেন।

সাথী বলেন, দেখা হলে আমি নুসরাতের কাছে জানতে চাই, ওখানে কী ঘটেছিল? নুসরাত বলে, কী হতে পারে তোরা জানিস না? নুসরাতের মৃত্যুর পর তার ঘর থেকে পাওয়া খাতায় দেখা যায়, সে আমার ও আমার বোন তামান্নার উদ্দেশে লিখে গেছে ওই দিনের ঘটনা। সে লিখেছিল- ওস্তাদ তো ওস্তাদই হয়। সে কীভাবে ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়? নুসরাত লিখেছিল, আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এর বিচার চাইব। আমি আমার অসম্মানের বিচার চাইতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। আমি কিছুতেই হারব না।

সাথী আরো বলেন, ওই খাতার কথা আমরা নানা গণমাধ্যমে ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে জানলেও তা পাইনি। নুসরাত তার আবেগ মেশানো কিছু কথা খাতায় লিখে গেছে বলে জানান সাথী। নুসরাত তাকে বলেছিল, অনেককে বোঝাতে চেয়ে পারিনি। কেউ আমাকে বুঝতে পারেনি। যেখানে গিয়েছি অসম্মানের শিকার হয়েছি।

অপর সাক্ষী তামান্নার বক্তব্যও একই হওয়ায় আদালত তার বক্তব্য গ্রহণ না করে ‘উভয়ের একই বক্তব্য’ হিসেবে গ্রহণ করেন।

পরে সাক্ষীদের জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, নাছির উদ্দিন বাহার, মাহফুজুল হক, সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, ফরিদ উদ্দিন নয়ন, আহসান কবির বেঙ্গল ও নুরুল ইসলাম। রাষ্ট্র ও বাদী পক্ষে ছিলেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ, এপিপি একেএস ফরিদ আহাম্মদ হাজারী, এম শাহজাহান সাজু।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics