Alexa ‘নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়’

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৩ ১৪২৬,   ১৯ সফর ১৪৪১

Akash

‘নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়’

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:৩০ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০০:৪৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আকরামুজ্জামান।

রোববার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে তিনি এ দাবি করেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষকে আইনি সহায়তা দিতে ফেনী আইনজীবী সমিতির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আকরামুজ্জামানকে নিয়োগ দেয়া হয়। রোববার তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়নি। তার অসমাপ্ত বক্তব্য সোমবার উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

আদালতে আকরামুজ্জামান বলেন, মামলার অভিযোপত্রভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১২ আসামি বিচারিক হাকিম আদালতে স্বেচ্ছায়, সত্য ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। যারা স্বীকারোক্তি দেয়নি-তাদের ওপরও এটি বর্তায়। তাদের স্বীকারোক্তি ও অন্য সাক্ষীদের ১৬১ ধারায় সাক্ষ্য প্রদানের ভিত্তিতে অপর চারজনকেও আসামি হিসেবে অভিযোগপত্রভুক্ত করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরো বলেন, আদালতে আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার আগে বিচারিক হাকিম তাদের (আসামি) স্বীকারোক্তি বা দোষ স্বীকার করলে বিচারে শাস্তি হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন। আসামিদের চিন্তা করতে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, আসামিরা সবাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতো। কেউ নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নেয়, কেউ হাত-পা বাঁধে, কেউ চেপে ধরে, কেউ কেরোসিন ঢালে, কেউ আগুন দেয়, কেউবা সাইক্লোন শেল্টারের নীচে, কেউ মাদরাসার গেইট পাহারা দেয়। কেউ প্রত্যক্ষভাবে আবার কেউ বাইরে থেকে মদদ দিয়ে সাহায্য করে। এ ঘটনায় তারা সবাই দোষী।  

তিনি বলেন, বোরকাসহ বিভিন্ন আলামতসমূহ উদ্ধার হয়েছে। নুসরাতকে কেরোসিন দিয়ে পুড়ানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

৬ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বাঁধা হয়। পরে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৮ এপ্রিল তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম তদন্ত শেষে ২৯ মে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় পাঁচজনকে থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোপত্রভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২জন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ