Exim Bank
ঢাকা, শনিবার ২৩ জুন, ২০১৮
Advertisement

কুমিল্লা-মনোহরগঞ্জ

নীরব দহনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

 শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৬, ১৩ মার্চ ২০১৮

১২৩ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কোন্দল আর দ্বন্দ্বের আগুনে নীরবে জ্বলছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক অবস্থা ভালো নেই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনগুলোতেও। অপরদিকে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি।

রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পরিবারভিত্তিক রাজনীতি এবং স্বজনপ্রীতির কারণে মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে নীরব দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও বিরোধীতা চলছে বেশ জোরেশোরেই। সাধারণ কর্মীদের মতে, সুবিধাভোগীদের দাপটে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন মাঠ ছাড়া।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদের দাবি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় যতো দ্বন্দ্ব ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। যার একমাত্র কারণ সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের ঘোষিত মনগড়া কমিটি। 

মনোহরগঞ্জের মির্জাপুর গ্রামের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ  সংসদের সহসভাপতি অহিদুর রহমান জয় বলেন, মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেননি। শুধু দল নয়, পুরো মনোহরগঞ্জের নিয়ন্ত্রক এমপির ভাতিজা আমিরুল ইসলাম, মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ এমপি পরিবারের লোকেরা। মনোহরগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এমপি ও তার পরিবারের লোকেরা। আর আওয়ামী লীগের পদ পায় বিএনপি-জামায়াতের চিহিৃত লোকেরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভূঁইয়া দীর্ঘ এক যুগ দলের জন্য কাজ করে গেছেন। কিন্তু এমপির এসব কর্মকান্ড নিয়ে মুখ খোলায় এখন তিনি কোনঠাসা।

আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, সারা জীবন দলের জন্য কাজ করে গেছি। জীবনের শেষ সময়ে এসে অসম্মান আর অবহেলাই পেতে হয়েছে এমপি সাহেবের কাছ থেকে। রাজাকারপুত্র আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীকে দলের সভাপতি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। 

উপজেলা যুবলীগের আহ্ববায়ক দেওয়ান মো. জসিম উদ্দিন  বলেন, মনোহরগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করেছেন মো. তাজুল ইসলাম এমপি। দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিংয়ের কথা অবশ্যই ভুল।  

অপরদিকে, এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জড়িয়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। দলে বিএনপি নেতা কর্ণেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালাম (চৈতি কালামের) অবস্থান ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে এখানে বিএনপির রাজনীতি এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। দুই নেতার দুই কমিটিতে চলছে মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মামলা-হামলায় র্জজরিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।

এ উপজেলায় বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (আজিমের অনুসারী) এস এম মনসুর বলেন, কালামের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে  গত ৯ বছর ধরে বিএনপি কঠিন সময় পার করছে। চৈতি কালামের বিতর্কিত কমিটির কারণে নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দল চলছে। বিএনপিকে এই আসনটি ফিরে পেতে হলে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমকেই বেছে নিতে হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি (আজিমের অনুসারী) মো.ইলিয়াছ পাটোয়ারী বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিতে কর্ণেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প কোনো নেতা নেই। আগামী নির্বাচনে আজিম ছাড়া অন্য কাউকে এই আসনে চিন্তা করলে বিএনপিকে নিশ্চিত হারতে হবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (আবুল কালামের অনুসারী) সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন  বলেন, খালেদা জিয়া যাকেই মনোনয়ন দেবেন আমাদের নেতা তিনিই হবেন। তবে দলের হাইকমান্ড সবুজ সংকেত দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালামকে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কাজ করতে বলেছেন।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচি দেখা যায় না। তবে নীরবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। বেশিরভাগ কার্যক্রমই বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। তাদের মধ্যে কোনো গ্রুপিং বা নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই। 

জানা যায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিএনপিতে ভাগ বসাতে সাবেক সচিব সোলায়মান চৌধুরী বেশ জোরেশোরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, মনোহরগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে আছে জাতীয় পার্টি।  এখানে তাদের  অস্তিত্বই  প্রায় খুঁজে পাওয়া যায় না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

সর্বাধিক পঠিত