নিষিদ্ধ যত অদ্ভুতুরে বিষয় (পর্ব-২) 

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

নিষিদ্ধ যত অদ্ভুতুরে বিষয় (পর্ব-২) 

নিয়াজ মাহমুদ সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৬ ১৭ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অদ্ভূত শব্দটি আপেক্ষিকও বটে। হয়তো আপনার কাছে যা কিছু অদ্ভূত, অন্য কারো কাছে তা স্বাভাবিকও হতে পারে। তবে কিছু অদ্ভূত বিষয় কিংবা কার্যকলাপ রয়েছে যা ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ হয়েছে দেশে দেশে। চলুন জেনে নেয়া যাক, সেরকমই কিছু নিষিদ্ধ অদ্ভূত- 

১৪. কিন্ডার এগস
কিন্ডার এগস সাধারণত তৈরি করে থাকে ইতালিয়ান চকোলেট কোম্পানি ফেরেরো এবং তাদের এ পণ্য ছোট বড় প্রায় সবার মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় ছিল সেসময়। যাই হোক, তবে আপনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন কিংবা অভিবাসী, তবে শুধু একটা কিন্ডার এগস এর জন্য আপনাকে পারি দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার। ১৯৩৮ সালের ফেডেরাল ফুড, ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক অ্যাক্ট অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ভেতরে খেলনা দিয়ে দেয়া কিংবা বাঁধানো ট্রিংকেট দিয়ে দেয়া কোনো ক্যান্ডি কিংবা চকোলেট বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং নিরুৎসাহিত করা হয়েছে নিষিদ্ধ হবার বহু পূর্ব থেকেই। যা উপমহাদেশে এখনো কিন্ডার জয় নামে দেখতে পাওয়া যায়।

১৩. চুইংগাম
এই কাহিনী আমার আপনার সবার সাথেই কমবেশি হয়েছে। হাঁটছেন, জুতোর নিচে চুয়িংগামের আঠা; আবার কিংবা কোনো রেস্টুরেন্টের চেয়ার নইলে টেবিলের নিচে হাত গেলেই টের পাচ্ছেন হাতে আঁঠালো সেই চুইংগামের অস্তিত্ব। কিংবা একদম ভরা সমাজের মধ্যে নাজেহাল অবস্থা এবং সেই ১৯৯২ থেকেই চুইংগামের সকল রকমের ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রয়েছে সিঙ্গাপুরে এবং অবৈধ বিধায় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই আইনের উদ্দেশ্যই ছিল রাস্তা এবং জনসমাগমপূর্ণ জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা। কারণ পুরো সিঙ্গাপুরই একটা সময়ে চুইগামের নিচে চাপা পড়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এলিভেটর থেকে শুরু করে সাবওয়ে রাস্তা পর্যন্ত সবখানে চুয়িংগাম, যা এমনকি সাবওয়ে সিস্টেমে অনেক দেরি হবার প্রধান কারণ ছিল। ফলাফল, রাস্তায় বেঁধে যেতো ট্রাফিক।
 
১২. ম্যাকডোনাল্ডস
ম্যাকডোনাল্ডসকে নিষিদ্ধ করে দেয়া আমাদের কাছে স্বভাবতই অদ্ভুত মনে হবার কথা। কিন্তু বলিভিয়াতে এটা কোনো আইন নয়, বরঞ্চ সাধারন মানুষের সিদ্ধান্তেই বন্ধ করে দেয়া হয় ম্যাকডোনাল্ডস। বলিভিয়ান কুইজাইন বলতেই বোঝায় সময়, ভালোবাসা আর যত্ন এবং মানুষগুলোও এরকম বংশীয় আর ঐতিহ্যগত প্রথা মেনেই জীবনযাপন করে সেখানে। আর ফাস্ট-ফুড তাদের বিশ্বাস, রীতি-নীতির সাথে কোনোভাবেই যায়না। পরিণতি, ম্যাকডোনাল্ডসের টিকে থাকার কোনো সুযোগই রইলোনা। আর যতোক্ষণ ওখানে ম্যাকডোনাল্ডস ছিল, কোনো বলিভিয়ান অন্তত সেখানে খেতে যায়নি।

১১. অ্যাভাটার ইন টু ডি
জেমস ক্যামেরুনের অ্যাভাটারের মূল উপজীব্য ছিল মানুষের আদিবাসীদের সাথে সহাবস্থান এবং একাট্টা হয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং লড়াইয়ের প্রত্যয়। তবে, আপাতদৃষ্টিতে, চীনের কাছে এই ব্যাপারটা খুব একটা ভালো লাগেনি। যেমন ভাবনা তেমন কাজ, তবে বেশ চতুর কৌশলের আশ্রয় নিয়ে। তারা শুধু অ্যাভাটার নয়, পুরো টু ডি এর চলচ্চিত্রগুলোই বাজেয়াপ্ত করে দিয়েছে চীন দেশে। যেহেতু চায়নাতে কোন থ্রি ডি থিয়েটার ও ছিলনা সে সময়, সেহেতু মানুষকে চলচ্চিত্র দেখা থেকে বিরত রাখতে বেশ কাজে দিয়েছিল এ কূটকৌশল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস