নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি চলছেই

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি চলছেই

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ২১:৪৪ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৪ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আখাউড়ার লাইব্রেরীগুলোতে সৃজনশীল পদ্ধতির ধারণাপত্র দাবি করে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই। বিভিন্ন প্রকাশনী শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতিকে ম্যানেজ করে শিক্ষার্থীদের বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এতে দিশাহারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

পৌর শহরের সড়ক বাজার লাইব্রেরিগুলোতে দেখা যায়, তাকে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে অবৈধ নোট ও গাইড বই। প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে গাইড বইগুলো। লাইব্রেরীগুলোতে লেকচার, জুপিটাস, কম্পিউটার, পাঞ্জেরী, অনুপম,নিউ পপি, গ্যালাক্সী, পুথি নিলয়, নিউ স্টার, স্টারসহ বিভিন্ন নামে বই রয়েছে। তবে পপি লেকচার, জুপিটাস,কম্পিউটার, পাঞ্জেরী গাইড বিক্রি হচ্ছে ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আমোদাবাদ শাহআলম উচ্চ বিদ্যালয়, নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, দেবগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় , হীরাপুর নোয়াব মেমোরিয়্যালয় ও মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় লাইব্রেরি থেকে নোট ও গাইড বই কিনতে দেখা যায়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. জাকারিয়া জানান, নোট ও গাইড বই ক্রয় করতে বলায় বাবার সঙ্গে লাইব্রেরীতে আসা। জাকারিয়ার বাবা জানান, লেখাপড়া বাণিজ্যিককরণে শিক্ষকরা পাঠদান না করিয়ে গাইড ও নোট বইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
নাছরীন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন বলেন, শিক্ষকরাই গাইড ও নোট বই কিনতে এক প্রকার চাপ দেন। নিরুপায় হয়েই বই কিনতে আসা।

অভিভাবক মো. জামাল মিয়া বলেন, বিনা মূল্যে বই দেয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা নোটও গাইড বই কিনতে বলায় বেশি মূল্যে বই গুলো কিনতে হয়। প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।

খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকার সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোযোগ বাড়ানো সুযোগ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলে নোট বইয়ের প্রয়োজন নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শওকত আকবর খান বলেন, সরকার আদেশ অনুযায়ী নোট ও গাইড বই বিদ্যালয়ে না পড়াতে শিক্ষকদেরকে নির্দেশনা দেয়া আছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রকাশ নোট বই পড়ানোর কোন সুযোগ নেই। পাঠ্যবই পড়াতে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। লাইব্রেরীগুলোতে গাইড বিক্রির বিষয়ে অবগত নই। এসব বই কেনা-বেচা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ