Alexa নিশি ।। পর্ব-৩

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৬,   ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

ধারাবাহিক উপন্যাস

নিশি ।। পর্ব-৩

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৭ ১৮ নভেম্বর ২০১৯  

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

অলঙ্করণ: মিজান স্বপন

পাঁচ.
‘আরে মা তুই এসেছিস! আমি ভাবছিলাম একবার ঢাকায় যাবো তোদেরকে দেখতে। কলেজ বুঝি এখন ছুটি?’ করিম সাহেব উচ্ছ্বাসের সঙ্গে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন।

‘না বাবা কলেজ ছুটি না। ভাল্লাগছিল না। তাই তোমাদের সঙ্গে কয়েক দিন থাকতে এলাম।’নিশি উত্তর করলো।

‘খুব ভালোই করেছিস মা। আমি খুব একা হয়ে গেছি। বাগানটি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। তোর মা’র সঙ্গে এখন আমার খুব একটা মিলে না। কথা হলেই হয় কথা কাটাকাটি। এটা মনে হয় বয়স বাড়ার ফল। দু’জনেরই মেজাজ যায় বিগড়ে। তা ছাড়া তোর মা সংসারের কাজ করে খুব একটা সময়ও পায় না। তুই এখনো ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস? যা বিশ্রাম করগে।’

নিশি এতোক্ষণ তার বাবার দিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনছিল। হঠাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো এবং মায়ের ঘরের দিকে গেলো। ‘কেমন আছো মা?’ সে হাস্যোজ্জ্বল মুখে জিজ্ঞেস করলো। মা ম্যাগাজিন পড়ছিলেন। পাশ ফিরে দেখলেন নিশি। ‘ভালো। তুই কেমন আছিস? রাত করে এলি কেন? একাই এসেছিস?’

‘আসতে রাত হয়ে গেলো। বিকেলের ট্রেনে উঠেছিলাম। একাই এসেছি মা।’

‘জাহিদ আর বৌমা কেমন আছে?’

‘ভালো। মা তোমাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করি?’

মা মৃদু হেসে উত্তর করলেন, ‘ইচ্ছে হলে একটি কেন দশটি কথা জিজ্ঞেস কর।’

‘মা! বাবা এবং তুমি দু’জনেই একা একা থাকো। এক সঙ্গে বসে গল্প করতে পারো না?’

‘আমরা খুব ভালো আছি। এটা নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। যা হাত মুখ ধুয়ে আয়।’

নিশি কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে রেখে কলতলায় গেলো। অনেকদিন পর নিশি, বাবা ও মা একসঙ্গে বসে খেলো। নিশি অনেকটা ক্লান্ত। তাই রাতে আর গল্প না করে ঘুমোতে গেলো। শোভনের কথা তার মনে পড়লো। শোভন কি আর কোনো দিন ভালো হবে না? সে কি আর সুস্থ হয়ে বাঁচবে না? শুধু ধ্বংসই কি তার জন্য অপেক্ষা করছে? শোভন প্রসঙ্গটি সে ভুলতে চেষ্টা করছে। পরীক্ষার কথা ভাবলে হয়তো ভোলা যাবে। কিন্তু শরীর ক্লান্ত। কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করছে না।

এক ঘুমেই রাত কাবার। অনেক দিন পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে না। আজ ঘুম থেকে উঠে শুনছে পাখির কিচির মিচির ডাক। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বের হলো। প্রথমে ঢুকলো তাদের বাগানে। বাগানটি বাবার একমাত্র শখের বস্তু। তার সমস্ত অবসর কাটে এখানে। সারাদিনই পানি দিচ্ছেন, নিড়ানি দিচ্ছেন। আড়াই বিঘা জায়গার ওপর গড়া এই বাগান। বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ ছাড়াও রয়েছে সবজির চাষ। অবশ্য এগুলো মৌসুমি। উত্তর পাশে আকাশ ছোঁয়া কয়েকটি ইপিল-ইপিল গাছ সবার মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। বন বিভাগ থেকে চারা সংগ্রহ করে করিম সাহেব লাগিয়েছিলেন। একপাশে রয়েছে ছয়টি লিচুগাছ। গ্রীষ্মে থোকা থোকা লিচুতে গাছগুলো নুয়ে থাকে। লালচে একটি সৌন্দর্য তখন গাছগুলোকে অন্যরূপে সাজায়। তা অবশ্য অল্পদিনের জন্য। করিম সাহেব কিছু লিচু ঢাকায় পাঠান এবং কিছু পাড়া-প্রতিবেশীদের বিলি করেন। বাকিগুলো বিক্রি করেন।

বাগানে ঢুকেই তিনি নিশিকে কদমের গাছটি দেখিয়ে বললেন, ‘গাছটি অনেক বড় হয়েছে। গতবার ফুল ধরেছিল।’

বর্ষার প্রথম দিকটাতে রাতের বেলায় কদম গাছতলায় দাঁড়ালে ঝিরঝিরে বাতাসে ভেসে আসা সৌরভ মন ভরিয়ে দেয়, যা ঢাকায় একটি উদ্যানের পাশ দিয়ে রাতের বেলা আসার সময় নিশি পেয়েছিল। হঠাৎ নিশির নজর গেলো পাশের পলাশ গাছটিতে। সে আগ্রহ নিয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘গাছটিতে এবার ফুল এসেছিল?’

করিম সাহেব উত্তর করলেন, ‘না।’

তারা বাগানের মাঝখানে কতোখানি জায়গা জুড়ে ঘাস উঁচু হয়ে গজিয়েছে সেখানে বসলো। প্রভাতী হাওয়া শরীরে লাগছে। হরেক রকমের পাখি সুমধুর সুরে ডেকে চলেছে আপন মনে। অবিরাম পাখির ডাক নিশির ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দিলো। এক অজানা ভালোলাগার অনুভূতি তাকে আচ্ছন্ন করলো। নিশির খুব রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু বাবা সামনে তাই লজ্জা লাগছে! করিম সাহেব পুবের বেল গাছটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। হঠাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলেন। নিশিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘তোকে একটি কথা বলবো মা..?’

নিশি সহানুভূতির কণ্ঠে বললো, ‘কি কথা বাবা?’

‘তোর মা জীবনের শুরু থেকেই আমাকে ‘আন্ডার এস্টিমেট’ করে আসছে। এখনো সে আমাকে সহজভাবে নিতে পারেনি। এর কারণ কি তুই কিছু জানিস?’।

‘না বাবা।’ নিশি আগ্রহের দৃষ্টিতে তাকালো। বাবাকে সে আজ অন্য দৃষ্টিতে দেখলো। তার ভীষণ মায়া হচ্ছে।

‘আমি স্কুল মাস্টার ছিলাম আর আমার সঙ্গে তোর মা’র বিয়ে হয়েছে তাই।’
নিশি বিস্ময়ের সঙ্গে শুনতে লাগলো।

করিম সাহেব নিঃশ্বাস নিয়ে আবার বললেন, ‘তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল একজন শিল্পপতির ছেলের সঙ্গে। কিন্তু ওই ছেলের চরিত্রে নানা ত্রুটি ছিল। আমার শ্বশুর লোকমুখে এসব শুনেছিলেন। তারপর তিনি ধন-সম্পত্তির দিকে না তাকিয়ে আমার সঙ্গেই বিয়ে দিলেন।’

নিশি সব শুনে যাচ্ছিলো। তার দৃষ্টি বাবার দিকে নেই। মাঠে গজিয়ে উঠা কচি ঘাসগুলোর ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো। করিম সাহেব দম নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন, ‘ওই ছেলের সঙ্গে যখন কথা চলছিল তখন তোর মার সঙ্গে ওর বেশ জানাশোনাও হয়ে যায়। এ বিয়ে ভাঙার পর এবং আমার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর তোর মা এ সম্পর্ককে কোনো দিনই সহজে মেনে নেয়নি। এখনো না। তবে নীরবভাবে সংসারের সব কাজকর্ম করে গেছে।’

করিম সাহেব দ্রুত নিঃশ্বাস নিয়ে আবার বললেন, ‘হাই স্কুলের মাস্টার হওয়াতে হয়তো তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। কলেজ শিক্ষক হলেও হয়তো বা একটা কিছু হতো। তা ছাড়া ওর দেশ-বিদেশ ঘোরারও একটা স্বপ্ন ছিলো। আমার এখানে এসে সে স্বপ্ন মিথ্যে হয়েছে। আমি সেটা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু এ সম্পর্কে জানতে পেরে সব সময়ই চেষ্টা করেছি অনেক বড় করে নিজেকে উপস্থাপন করতে। যাতে স্কুল শিক্ষক সম্পর্কে ওর ধারণা পাল্টে যায়। যেভাবে সংসারে সুখ বিরাজ করে সেভাবেই চলেছি। তাতেও ওর নাক ছিটকানো ভাবটি কখনো যায়নি। আমি হয়তো শিল্পপতির ছেলের মতো উচ্চ প্রাসাদ, গাড়ি, বিদেশ ট্যুর এসব দিতে পারিনি। এটা কি আমার দোষ? আমিতো জোর করে ওকে ঘরে আনিনি। ওর বাবা জেনে শুনে আমার সঙ্গে বিয়ে দিলেন কেন?’

করিম সাহেব মৃদু উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। নিশি ঘাসের দিকেই তাকিয়ে আছে। কথাগুলো হয়তো সে শুনছে কিন্তু তার কেমন অনুভূতি হচ্ছে বুঝতে পারছে না। জীবনের না জানা অধ্যায়ের কিছু কথা আজ তাকে শুনতে হবে এটা ভাবতে পারেনি। তাহলে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিতো। সে হয়তো না শোনার চেষ্টা করছে।

করিম সাহেব চশমার কাচ মুছতে মুছতে আবার বললেন, ‘অনেকের, জীবন সম্পর্কে অনেক রকম ধারণা থাকতে পারে। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কেও বিচিত্র ধারণা থাকতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা পাল্টে নিতে হয়। এতোদিন সংসার করেছি, তোরা হয়েছিস, পড়াশোনা করিয়ে জাহেদকে মানুষ করেছি, তুই পড়াশোনা করছিস, আমার চেয়ে সুখী আর কে বল তো! এতোদিনে এটা তার মেনে নেয়া উচিৎ ছিল।’

নিশি এবার বাবার দিকে তাকালো। তার চাহনিতে বিস্ময় এবং দুঃখ ফুটে উঠেছে। সে আপত্তির স্বরে বললো, ‘বাবা, এসব রাখো তো। আমার কিছুই শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না, কিছুই ভাল্লাগছে না। শহরের হৈ চৈ থেকে গ্রামের বাড়ি এলাম নির্জনে কয়েক দিন থাকবো বলে। এখানে এসেও জীবনের না জানা কিছু কথা জানতে হলো যা খুবই অপ্রিয়।’

‘কথাগুলো বলার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিলো না। তবে না বলেও পারলাম না। আমার জীবনের কথাগুলো তুই অন্তত জেনে রাখ, এটা আমার ইচ্ছা ছিল। এখন নিজেকে খুব হালকা লাগছে।’

নিশি কোনো রকম মন্তব্য করলো না। এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে তার ইচ্ছে করছে না। এটি তার বাবা-মার ব্যক্তিগত বিষয়, একান্তই ব্যক্তিগত। তবে কথাগুলো শোনার পর তার খুবই বাজে অনুভূতি হচ্ছে। বাবার মুখের দিকে সে এখন তাকাতে পারছে না, ভীষণ মায়া হচ্ছে। সারাটা জীবন কিসের অপেক্ষায় বেচারী এতোটুকু যন্ত্রণা ও অবহেলা নিয়ে কাটিয়ে দিলো! মায়ের ওপর তার রাগ হলো আবার দুঃখও। মা-ও জীবনে সুখী হয়নি। জীবনের দিনগুলি তারও শেষ হয়ে এসেছে। সারাজীবনে নিশ্চয়ই তারও রয়েছে অসংখ্য অতৃপ্তির হিসাব-নিকাশ। নিশি এ প্রসঙ্গ দ্রুত ঢেকে ফেলার চেষ্টা করলো।

‘বাবা, কই তোমার বাগান তো ঘুরে দেখা হলো না।’

‘দেখ ভুলেই গেলাম। মর্নিং ওয়াক করতে এসে মর্নিং টক করেছি। চল দখিণ কোণায় তিনটি আতা ফলের গাছ লাগিয়েছি। এক বছরেই কতোটুকু বড়ো হয়েছে দেখবি।’

‘চলো।’

আতাগাছের ডালে গজিয়ে ওঠা পাতার ওপর মনের পুলকে হাত বোলাচ্ছেন আর নিশিকে দেখাতে লাগলেন করিম সাহেব। কিছুক্ষণ আগে যে অতৃপ্তির ছাপ তার মুখে ছিল এখন সেটি নেই। গাছ দেখাতে দেখাতে তিনি নিশিকে বললেন, ‘প্রতিটি মানুষই দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চায়। কিছু কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকতে চায়।

করিম সাহেব কেন হঠাৎ প্রসঙ্গ পরিবর্তন করলেন নিশি বুঝে উঠছিল না। তবু চুপ করে শুনছিল। অনেক দিন পর বাবার কথাগুলো তার খুব ভালো লাগছিলো। তার ইচ্ছা, অপ্রাসঙ্গিক হলেও যতো ইচ্ছা বাবা আজ বলে যাক। সে সব চুপ করে শুনবে।

করিম সাহেব আবার বলতে লাগলেন, ‘তাই তো অনেকেই বেঁচে থাকতে এমন কিছু করে যান যা তাকে অনেক দিন অমর করে রাখবে। মৃত্যুর পর মানুষকে মাটিতে মিশে যেতে হয়। এর পর এ পৃথিবীতে তার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অস্তিত্বও থাকে না। এর মাঝেও কেউ কেউ চান তার শরীরের কোনো একটি অংশ পৃথিবী ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত বেঁচে থাকুক। সবাই চান না। কিছু কিছু মানুষ চান। অনেকে তাদেরকে পাগল বলেও অভিহিত করতে পারে। তারা আবেগ দিয়ে চলে। গতিশীল বিশ্বের দিকে তাদের নজর কম। এখানে আবেগের কোনো মূল্য নেই- এ কথাটা গুটি কয়েক মানুষ বুঝতে পারে না। যান্ত্রিক বিশ্বের পূজা তারা করে না। তারা আপন চিন্তাকেই প্রাধান্য দেয়। যেমন দিয়েছিলেন আমেরিকার ওরিগন রাজ্যের কবি ডোনাল্ড ইউজিন রাসেল। তিনি উইল করেছিলেন তার মৃত্যুর পর তার শরীরের চামড়া দিয়ে যাতে তার একখন্ড কাব্য গ্রন্থের মলাট করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি করা সম্ভব হয়নি। তার স্ত্রী আইনের ছাত্রী ছিলেন। তিনি স্বামীর অন্তিম বাসনা পূরণের সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু রাজ্যের মর্চুয়ারি অ্যান্ড সিমেটারি বোর্ড এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। শেষ পর্যন্ত আবেগকে যুক্তি এবং আইনের কাছে হারতে হয়েছিল। তবুও তিনি পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম হিসেবে কিছু দিন বেঁচেছিলেন।’

করিম সাহেব দম নিয়ে আবার বললেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- জন্মালি তো একটা দাগ রেখে যা।’

বাবার কথা শুনতে নিশির খুবই ভালো লাগছে। বাবাকে আজ তার কাছে খুবই পন্ডিত বলে মনে হচ্ছে। কলেজের অধ্যাপক বলেই মনে হচ্ছে। অথচ এ মানুষটার সঙ্গে কেন মা সারা জীবন এ রকম আচরণ করলো তা সে বুঝে উঠতে পারছিল না। অনেকক্ষণ পর সে বাবাকে নতুন দৃষ্টি নিয়ে দেখলো। বাবা হঠাৎ এ সব কথা কেন বলেছেন তা ভাবতে লাগলো।

সে এবার জিজ্ঞেস করলো, ‘কোন প্রসঙ্গে তুমি এসব বলছো?’

করিম সাহেবকে অনেকটা আবেগআপ্লুত দেখালো। ‘কোনো প্রসঙ্গেই নয়। এম্নি বললাম। আমার বাগানটা সম্পর্কে বলছি। আমি এ বাগানের মাঝেই বেঁচে থাকতে চাই। কি বলিস পারবো না? এ জন্যই তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগানের যত্ন করে যাচ্ছি। কী সুন্দর বাগান! এতো বড় বাগান এ জেলায় কি আর কারো আছে?’ অনেকটা গর্বিত স্বরে বললেন তিনি।

একটু থেমে আবার শুরু করলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর এ বাগানের নাম দিবি ‘করিম উদ্যান’। এ দায়িত্বটুকু তোকে দিলাম।’

নিশি কোনো উত্তর করলো না। দেখলো কথায় কথায় অনেক সময় চলে গেছে। সূর্য এতোক্ষণে রোদ ছড়াচ্ছে। ভীষণ গরম লাগছে। বললো, ‘বাবা ঘরে চলো। সাড়ে আটটা বাজে। এখনো চা খাওয়া হয়নি।’

ছয়.
অনেকদিন পুকুরে গোসল করা হয় না। নিশি তাদের পুকুরপাড়ে এলো, তবে গোসল করতে নয়। এখন বিকেল। এসেছে পুকুরঘাটটি দেখতে। গতবার বাঁধানো হয়েছে, পাকাঘাট। বাড়ি আসেনি বলে দেখতে পায়নি। ঘাটের তিনটি সিঁড়ি পানিতে ডুবে আছে। বাকি সাতটি ভেসে আছে। নিশি উপরের সিঁড়িতে একা একা কিছুক্ষণ বসলো। তারপর পাড় ধরে হাঁটতে লাগলো যেন পায়চারী করছে। হঠাৎ ‘নিশি’ ডাক শুনে তার খেয়াল হলো। তাকিয়ে দেখলো শিলা ডাকছে।

‘কিরে শুনলাম তুই বাড়িতে এসেছিস। শুনেই আসলাম। আমি পনের দিন ধরে এখানে। ইউনিভার্সিটি বন্ধ। ‘গন্ডগোল ভেকেশন’। তোকে কতো দিন বলেছি হলে গেলেই আমাকে পাবি।’

‘কোন হল যেন।’

‘কেন, শামসুন্নাহার বলিনি? রুম নম্বরও তো দিয়েছি।’

‘আসলে সময় পাইনি। একদিন ভেবেছিলাম যাবো। রেডি হয়েছিলাম। হঠাৎ অন্য একটি প্রোগ্রামে বানচাল হয়ে গেলো।’

‘আচ্ছা এখন বাড়ি এলি, তোর তো সামনে পরীক্ষা।’

‘এ জন্যেই এসেছি একটু ঘুরে যাবার জন্যে।’

‘তোকে এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?’

‘কই না- তো। একা একা হাঁটছিলাম। ভাল্লাগছিলো না। তুমি এসেছো খুব ভালো হয়েছে। ঘাটে বসে গল্প করবো। অনেকক্ষণ ধরে, তুমি কিন্তু যেতে পারবে না। দাঁড়াও আমি আসছি। মাকে মুড়ি আর চা দিতে বলে আসি। তুমি পেয়ারা গাছটার পাশে একটু বসো।’বলেই নিশি দৌড়ে বাড়ির দিকে গেলো।

ঘরে ঢুকেই দেখে রুপন বসে আছে। নিশিকে দেখেই জিজ্ঞেস করলো, ‘কেমন আছো নিশি আপু?’

‘ভালো না। তোকে না কয়দিন বলেছি আমাকে আপু ডাকবি না। আমি তোর সমবয়সী। এক ইয়ারেই পড়ি।’

‘সমবয়সী এবং বড় মেয়েদের আমি সব সময়ই আপু ডাকি।’

‘খুব ভালো করিস। তুই একটু বস, আমি ওঘর থেকে আসছি।’বলে নিশি মায়ের ঘরে যেতে উদ্যত হলো।

রুপন ডাকলো, ‘শোনো’।

‘কী’।

‘শিলা আপুকে দেখলাম এ দিকে আসতে। তোমাদের এখানে এসেছিল?’

‘হ্যাঁ, পুকুর পাড়ে বসে আছে।’

‘আমি একটু সেখানে যাই, তুমি এসো।’

‘ঠিক আছে...।’ নিশি ঝটপট উত্তর দিলো। তাকে ভীষণ ব্যস্ত দেখালো। নিশি ভেতরে গিয়ে দেখলো মা নামাজ পড়ছেন। মনা, এ বাড়ির গৃহকর্মী, বাজারে গেছে। করিমুন্নেছা- বুয়া, তার কোনো পাত্তা নেই। তাই সে নিজেই চা বানাতে রান্না ঘরে গেলো।

রুপন দৌড়ে শিলার কাছে এলো। শশব্যস্ত হয়ে বললো, ‘শিলা আপু আমি তোমাকে খুঁজছিলাম। তোমার সঙ্গে অনেক জরুরি কথা আছে। তুমি এসেছো পনের দিন হলো কিন্তু একবারও সুযোগ পাইনি।’

‘শান্ত হয়ে বোস। দম নিয়ে কথা বল। কী হয়েছে? তোকে এতোদিন পর দেখলাম কেন?’, শিলাও বলে গেল এক দমে।

‘শিলা আপু আমি তোমাকে একটি কথা বলবো।’

‘কী কথা?’

‘শুধু আজকে নয়, আঠারো বছর ধরে ভাবছি।’

‘তোর বয়স আঠারো হয়েছে?’

‘আঠারো হয়েছে, তবে বিশ এখনো হয়নি। দু’চার মাসের মধ্যে হয়ে যাবে।’

‘গৌরচন্দ্রিকা রেখে এখন কী কথা বলবি বল।’

‘শিলা আপু! আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

‘এটা তো সুন্দর কথা। সৃষ্টিকর্তার আদেশ। আর সৃষ্টিকর্তা যুগে যুগে যে সকল প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন সবাই বলেছেন- মানুষকে ভালোবাসো।’শিলা দম নিয়ে খুব ঠান্ডাভাবে আবার বলতে লাগলো, ‘প্রত্যেক ধর্মের বাণীই হলো- মানুষকে ভালোবাসো। তুই আমাকে ভালোবাসিস এটি ধর্মের কাজ করেছিস। তোর অনেক পুণ্য হবে।’

চলার পথে হঠাৎ পিছলে পড়ে গেলে যেমনটা হয়, রুপনের সে রকম হলো। সে স্বাভাবিকভাবেই আবার বলতে শুরু করলো, ‘আমি সে রকম ভালোবাসিনি। তোমার ক্ষেত্রে একটু স্পেশাল। আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তুমি থ্রি-তে। তুমি একদিন আমাকে একটি গল্প পড়িয়েছিলে- ‘মায়ের ভালোবাসা’। তুমি এতো সুন্দরভাবে পড়িয়েছিলে তা এখনো আমার মনে আছে। তুমি যে শব্দগুলি উচ্চারণ করেছিলে তা এখনো আমি শুনতে পাই।’


‘শিলা পেয়ারা গাছটার দিকে তাকিয়ে আছে। একটি টুনটুনি উড়ে যাচ্ছে, আবার এসে বসছে। মনে হয় গাছে বাসা আছে। রুপন তার কথা বলেই যাচ্ছে। ‘সেদিন থেকেই আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোমাকে বলতে কিন্তু বলতে পারিনি।’

শিলা হঠাৎ তার দিকে ফিরে প্রশ্ন করলো, ‘আমি কি খুব সুন্দর?’

‘আমি বলতে পারবো না। কিন্তু অপূর্ব লাগছে।’

‘অপূর্ব বলতে তুই কি মীন করছিস?’

‘আমি মীন-টীন বুঝি না। আঠারো বছরে তোমাকে আমি একদিনও ভুলে থাকতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি তবু পারিনি। এটা কি আমার দোষ? মন যদি তোমার ছবি এঁকে যায় আমি কি ঠেকাতে পারি? মন আর দেহের সত্তা আলাদা।’

‘তুই অনেক তাত্ত্বিক কথাও শিখেছিস। জন্মের পর থেকেই আমাকে ভালোবাসসিস, না? তুই এবার পরীক্ষা দিবি না?’

‘হ্যাঁ।’

‘প্রিপারেশন কেমন?’

‘তুমি কি প্রসঙ্গ অ্যাভোয়েড করতে চাচ্ছো?’

‘আমার প্রশ্নের জবাব কোথায়?’ দুষ্টু হাসি হেসে খুব শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলো শিলা।

‘ভালো।’

‘আচ্ছা, শোন। তুই ভালোভাবে পড়াশোনা কর। আমার চেয়ে অনেক সুন্দর মেয়ের সাথে তোর বিয়ে দেবো। পাত্রী আমি নিজে দেখবো।’
রুপন ক্যাবলার মতো শিলার দিকে তাকিয়ে রইলো।

নিশি এদিকে আসছে। তার হাতে একটি পাত্রে আচারের তেল দিয়ে মাখানো মুড়ি। পেছনে চায়ের ট্রে নিয়ে আসছে করিমুন্নেছা। তার কাপড়ের আঁচল ধরে আসছে তার ছোট্ট ছেলে।

নিশিকে আসতে দেখে রুপন আরো ব্যস্ত হয়ে পড়লো, ‘প্লিজ টেক ইট সিরিয়াসলি। আমি খামখেয়ালি করছি না। তুমি একবার অন্তত বিশ্বাস করো- আমি তোমাকে ভালোবাসি। এতেই আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। আর একটি কথা বিশ্বাস করো, তোমার সৌন্দর্য আমাকে আকৃষ্ট করেন। কোন গুণটি যে, এতোটা আকর্ষণ করে তা আমি আজো ধরতে পারিনি। পারলে পরে জানাবো।’

‘তুই খুব ইমোশনাল হয়ে পড়ছিস। তোর বয়সটা কতো বললি? আঠারো। এ বয়সটা খুবই আবেগের। একবার মনে হবে একে ছাড়া বাঁচবি না। কোনোভাবে এ ধাক্কা সামলে নিলে আবার বেঁচে যাবি। কিছুদিন পর অন্য কারো জন্য মরে যাবি এবং বেঁচে উঠবি। কিন্তু যখন কুড়ি পার হয়ে যাবে তখন রেশনালিটি গ্রো করবে। তখন কেউ বললেও মরতে পারবি না। নিশিকে দেখে তোর অস্থিরতা অনেক বেড়ে গেছে। ওকে জানিয়ে দে। দেখবি আর অস্থিরতা থাকবে না। কোনো কাজ গোপনে করলে অস্থিরতা বাড়ে। পেছনে কেউ জেনে যায়।’

নিশি বললো, ‘কিছু মনে করো না, দেরি হয়ে গেল। বাড়িতে কেউ নেই যে চা বানাবে। মা নামাজ পড়ছেন।’

‘নিশি শুনেছিস রূপন আমাকে ভালোবাসে। এ কথা জানাতে এলো’, বলেই শিলা হেসে ফেললো। নিশি এবং রুপন দু’জনই বোকার মতো শিলার দিকে তাকিয়ে রইলো। করিমুন্নেছা চা দিয়ে চলে গেলো। নিশি শিলাকে এক কাপ এবং রুপনের দিকে এক কাপ উঁচিয়ে ধরলো। শিলা নিলো, রুপন নিলো না। ‘আমার চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আমি এখন যাই।’বলে রুপন যেতে উদ্যত হলো।

‘চা খেয়ে যা। রাজপুত্রের মতো চেহারা নিয়ে যাকে খুশি তাকে ভালোবাসার কথা জানাতে যাস না। কেউ এসে গলায় ঝুলে পড়বে। পড়াশোনা কর যাতে ভাসির্টিতে চান্স পাস।’

রুপন হেঁটে উত্তর দিকের নিচু জমিতে নেমে গেলো। নিশি চায়ে চুমুক দিতে দিতে শিলাকে বললো, ‘আমি এবার পরীক্ষা দিবো না।’
‘কেন?’

‘প্রিপারেশন ভালো না। তা ছাড়া মনে একটুও জোর নেই। আচ্ছা শিলা আপ্পু পড়াশোনা কিসের জন্য? জীবনের জন্যই তো। জীবনকে সুন্দর করার জন্য, সঠিকভাবে চালানোর জন্য। আর এ জীবনেরই যদি কোনো নিশ্চয়তা না রইলো; তা ছাড়া একটি সময় আছে মন কিছু করতে চায় না তবুও কি তা করতে হবে? রুটিন যদি ভেঙে ফেলি তা হলে কি আমাকে কেউ ক্ষমা করবে না?’।

শিলা অবাক হয়ে কথাগুলো শুনছে। সে লক্ষ্য করছে নিশি অনেকটা আবেগায়িত হয়েছে। নিশির দিকে তাকিয়ে সে এবার বললো, ‘কী হয়েছে, তুই এমন ইমোশনাল হলি কেন? তা ছাড়া জীবনের নিশ্চয়তা, অনিশ্চয়তা এ সব কি বলছিস আমি কিছুই বুঝছি না। শুধু এ-টুকু জানি পরীক্ষা না দিলেই তোর জীবন আরো অনিশ্চিত হবে। এখন ব্যাপারটা কী শুনি, পারিবারিক কিছু?’

‘না, এম্নিতেই বলছি। মনের গতি একেক রকম হয় তো তাই। মানুষের মন আর আকাশের রঙ বারবার বদলায়। দেখছো না পরীক্ষা রেখে আমি এখানে বসে আছি।’
‘তুই কিন্তু আসল কথা কিছুই বলছিস না। এখানে তুই বসে আছিস এ কথাই তো আমি প্রথমে তোকে জিজ্ঞেস করলাম।’

নিশি শিলাকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘আচ্ছা পরীক্ষা না দিলে কি তেমন কিছু হবে? আগামীতে দেয়া যাবে না?’

‘যাবে না কেন? মৃত্যুর দশ মিনিট আগেও পরীক্ষা দিতে পারবি। আর মৃত্যুর পরও পরীক্ষা দিতে হবে। ফেরেশতারা নানারকম প্রশ্ন করবেন তার উত্তর দিতে হবে।’

‘তুমি কিন্তু ঠাট্টা করছো।’

‘ঠাট্টা করলাম কোথায়, যা সত্য তাই বললাম। কেন ধর্মের বই-টই কিছুই পড়িস নি?’

নিশি প্রসঙ্গ শেষ করার জন্য বললো, হ্যাঁ, পড়েছি। আমি এখন ঘরে যাবো। ভাল্লাগছে না, কেমন অস্থির অস্থির লাগছে। তুমি যাবে আমার সাথে?’

‘এই সন্ধ্যায় কেউ ঘরে বসে থাকে? পুকুরপাড়ে হাঁটবি, মুক্ত বাতাস খাবি, তোর বাবার বাগান দেখবি।’

‘এ-সব কিছু আমার ভাল্লাগছে না।’

‘আমার ওপর রাগ করেছিস?’

‘না।’

‘আসল কথা চট করে বলে ফেল। দেখবি আমিও সোজা হয়ে গেছি, তোর মনও হালকা হয়ে গেছে।’

নিশি বললো, ‘চলো বাগানের দিকে যাই।’

‘চল...।’

‘আচ্ছা তোমাকে একটি সমস্যার কথা শুনাই। তুমি এর সম্ভাব্য সমাধানের কথা বলবে।’

‘বল।’

‘ধরো একটি ছেলে কোনো কারণে পথভ্রষ্ট হলো। বন্ধুদের সঙ্গে সারা দিন আড্ডা দেয়।’

‘আড্ডা দেয়া দোষের কিছু না।’

নিশি অস্থির হয়ে বললো, ‘প্লিজ লেট মি ফিনিস। সে আড্ডা কোনো ভালো আডডা নয়, কোনো গঠনমূলক কিছু নয়।’

‘ঠিক আছে, নেক্সট।’

‘সে সারাদিন গাঁজা খাচ্ছে, মদ খাচ্ছে, পড়াশোনা ছাড়ি-ছাড়ি অবস্থা, এমনকি ভবিষ্যতে এমন কোনো ভয়াবহ কুকর্ম নেই যাতে সে জড়িয়ে পড়বে না। 

এখন তাকে কি ফিরিয়ে আনার কোনো পথ নেই?’

‘পথ আছে। তবে সঠিক ইনফরমেশন দিলে সঠিক আউটপুট দেয়া যাবে। দাঁড়া তো একটু, এটা কদম গাছ না?’

‘হ্যাঁ।’

‘বাব্বা! খালুজানের মনে বেশ রোমান্স আছে। নানা রকম ফলের গাছের মাঝে কদমের গাছও লাগিয়েছেন।’

‘কদম গাছে রোমান্সের কী দেখলে তুমি!’

‘কী বলে! এম্নিতেই প্রেমে পড়েছিস? সব ফুল নিয়ে কি আর রোমান্টিক কবিতা, গান হয়। তুই তো ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত জানিস। কদম ফুল নিয়ে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত গা তো। তোকে যে আমি পথ দেখিয়ে দেবো তার কয়েকটি শর্ত আছে। এর মধ্যে এটি একটি। নে শুরু কর। সন্ধ্যার পরিবেশটা আমার খুব ভালো লাগছে। একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত হলে আরো ভালো লাগবে। চল, আমরা সামনের উঁচু ঘাসগুলোর ওপর বসি।’

নিশি ভাঙা ভাঙা গলায় শুরু করলো... ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছো দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান...।’

গান শেষ করে নিশি শিলাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তুমি কিভাবে বুঝলে আমি প্রেমে পড়েছি?’

‘আগে যা-ও কিছুটা বুঝেছিলাম, এখন সবটুকু বুঝে গেছি। তুই যেভাবে শুরু করেছিস, এক যে ছিল রাজা... এভাবে গল্প বলার মতো। প্রথমেই তুই বলতে পারতি, শোভন এ রাস্তায় নেমে গেছে।’

নিশি থ’হয়ে শিলার দিকে তাকিয়ে রইলো।

শিলা বললো, ‘অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিভাবে জেনেছি তা পরে জানিস। সমাধানের আপাততঃ কোনো রাস্তা নেই। কারণ তুই শোভনের সঙ্গে সব সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে এসেছিস। তা ছাড়া এখন সে নেশার যৌবনে রয়েছে। তাকে নিষেধ করেলও শুনবে না। সে নিজেই যদি কোনো দিন ভালো হয়। তা ছাড়া যার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ সে ভালো হলেই কি আর অধঃপাতে গেলেই কি। তোর তো আর কিছু যায় আসে না।’

নিশি শুধু বললো, ‘হু’।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর