Alexa নির্বাচনের সব প্রস্ততি সম্পন্ন

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

নির্বাচনের সব প্রস্ততি সম্পন্ন

 প্রকাশিত: ১৮:২৮ ২০ ডিসেম্বর ২০১৭  

রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতিই। শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণাও। এবার মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিও প্রার্থীদের মধ্যে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতিকে ভোট হচ্ছে রংপুর সিটি কর্পোরেশনে। এবারে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, লাঙ্গল নিয়ে জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং ধানের শীষে লড়ছেন বিএনপির কাওসার জামান বাবলা।

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে সব প্রস্ততি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে থাকছে বিজিবি ও র‌্যাব। তারা বুধবার থেকে নগরীতে টহল দিচ্ছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে নগরীর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ভোটের আগের এবং পরের দিনের জন্য বিজিবির ২১ প্লাটুন সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ১টি করে ইউনিট মোতায়েন রাখা হয়েছে। এদিকে, আজ থেকেই মাঠে থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। ২২৩১ পুলিশ এবং ৫১৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

রংপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৮ টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সদস্য ভোটগ্রহনের দিন এবং পরবর্তী সময়ের জন্য ভোটকেন্দ্র ছাড়াও বাইরে অবস্থান করবেন।

রংপুর জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে বেগম রোকেয়া কলেজ ভোট কেন্দ্র ইভিএম মেশিন বসানো হয়েছে। এছাড়া ওই কেন্দ্রসহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ সরকার জানান, নির্বাচনের দিন ১২৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে একজন এএসআই, পাঁচজন কনস্টেবল এবং তিনজন আনসার সদস্যসহ ১০ জন করে মোট ১০৮০ জন, ৬৫টি সাধারণ কেন্দ্রে একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে একজন নায়েক, পাঁচজন কনেস্টবল এবং একজন আনসারসহ আটজন করে মোট ৫২০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৩৩টি ওয়ার্ডে ৩৩টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩ জন এএসআই, ৪ জন কনেস্টবল এবং ২ জন আনসারসহ মোট ৩৩০ জন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন মোবাইল টিমে।

তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩৩টি ভ্রাম্যমান আদালত, জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১টি বিচারিক আদালত এবং র্যাব, বিজিবির আলাদা টিম কাজ করবে।

অপরদিকে,পুলিশ লাইন্স মাঠে নির্বাচন কমিশনের ভোট গ্রহনের সরঞ্জামাদি বিতরণের আগে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব গ্রহনকারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিদের্র্শনা দেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আমরা এখানে যুদ্ধ করতে আসিনি। একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য নিরাপত্তা বিধান করতে এসেছি।কে কী করছি সবকিছুই একটি মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে। চারদিকে থাকবে মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরা। কোনো ধরনের অনিয়মকে বরদাস্ত করা হবে না। যদি কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাকে চাকুরীচ্যুতিসহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় তার উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো: বশীর আহমেদ ও অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে দেশবাসীকে আমরা উপহার দিতে চাই। তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

এবারে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৯৩টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন ভোটার তাদের ভোধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এসআই

Best Electronics
Best Electronics