নির্বাচনী তৎপরতা মাঠ পর্যায়ে
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=40087 LIMIT 1

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নির্বাচনী তৎপরতা মাঠ পর্যায়ে

 প্রকাশিত: ২০:৫৩ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ২১:০৩ ৬ জুন ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

-মর্যাদার আসন বলে পরিচিত সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসন।

এ আসন থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ১৯৭৯ সালে আইডিএল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১-তে জামায়াতে ইসলামী জয়লাভ করে।

দুটি উপজেলার একটি পৌরসভা, ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৯১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৭৩ জন আর মহিলা ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪ হাজার ৮১৮ জন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে তালা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০ টি আওয়ামী লীগ ও ২ টি বিএনপির প্রার্থী এবং কালারোয়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে মধ্যে ১১ টি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও ১ টি স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে।

Satkhira

এরই মধ্যে গোটা এলাকা প্রার্থীদের পোস্টার প্লাকার্ড ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রত্যেকে প্রার্থীই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীক নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবারও মনোনয়নের ব্যাপারে অনঢ় বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রার্থী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত এ এলাকায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে তা বন্ধ করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মেয়াদকালে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি কাজ হয়েছে, এলাকার দৃশ্যপটের উন্নতি হয়েছে, তালা-কলারোয়াবাসীর জীবনমান উন্নত, সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। তাই আগামীবারও তিনি ১৪ দলের পক্ষে মনোনয়ন পাবেন এবং আসনটি দখলে রাখবেন বলে আশাবাদী এ জনপ্রতিনিধি। 

তবে আগামী নির্বাচনে তাকে হটিয়ে এ আসনে নিজেদের মধ্য থেকেই প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগে প্রার্থী জট তৈরি হয়েছে। তার ওপর জোটগত জট হিসাব গোলমেলে করে দিচ্ছে। মহাজোটের দুই শরিক দলের দুই প্রার্থী আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ব্যাপারে অনঢ় অবস্থানে থাকলেও শাসক দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয়।

এদিক থেকে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে। সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিব আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের একক প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এদিকে তিনি এলাকায় ঢুকতে না পারলেও সাংগঠনিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন কৌশলে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মাঠে সক্রিয় তালা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে নুরুল ইসলাম বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু পরে ১৪ দলীয় জোটের কাছে ছেড়ে দিতে হয় আসনটি। ফলে এবার এ আসনে আমারই মনোনয়ন পাওয়ার কথা।

এদিকে আগামী নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে থাকার আগ্রহ দেখিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি এক সময়ের খুলনা বিএল কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি সাতক্ষীরা-১ আসন থেকে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেন তবে তিনি নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করতে পারবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী এলাকায় তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়া আগামী নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব। সৎ যোগ্য মানুষ হিসাবে তিনি এলাকায় বেশ পরিচিত। 

সরদার মুজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশে আছি। এলাকাবাসীর উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা উদ্যোগে অংশ নিচ্ছি। আগামী নির্বাচনে নেত্রী তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কলারোয়া উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপনও প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

কলারোয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন বলেন, আমি কলারোয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে রয়েছি। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে উপজেলার কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে আছি সব সময়। মনোনয়নের জন্য আশা করতে পারি। দলীয় কাজের সাথে সর্বদা রয়েছি। ছাত্র রাজনৈতি থেকে আজ পর্যন্ত দলের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।

এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর পরই ঘাতকের গুলিতে নিহত সাবেক গণপরিষদ সদস্য সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা স,ম আলাউদ্দিনের মেয়ে জেলা মহিলা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, জেলা কৃষক লীগ সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ সভাপতি বিশ্বজিত সাধু, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার ও অনিত মুখার্জি প্রচারণা চালাচ্ছেন ।

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীরও রয়েছে শক্ত অবস্থান। তাদের একটা নীরব ভোট রয়েছে। যদিও দশম জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার পর মামলা-হামলায় সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ধর্মভিত্তিক এ সংগঠন; কিন্তু আগামী নির্বাচন ঘিরে নীরবে তাদের তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব যদি মামলার কারণে ভোটে অংশ নিতে না পারেন তা হলে জামায়াতের মো. ইজ্জতুল্লাহ এ আসনে যে কোনো ফর্মে নির্বাচন করতে পারেন। জামায়াত এর আগেও এ আসনে একবার জয়লাভ করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে চায় ইজ্জতুল্লাহ।

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাপা চেয়ারম্যানের তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দ দিদার বখত। তবে মহাজোট একসঙ্গে নির্বাচন করলে শরিক দল হিসেবে দিদার বখত মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন। জাতীয় পার্টি এর আগেও একবার জয়লাভ করেছিল এ আসনে। জাতীয় পার্টি সৈয়দ দিদার বখতের মাধ্যমে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে।

তালা উপজেলার জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি জনগনকে  সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী  সংসদ নির্বচনে জাতীয় পার্টি থেকে আমাকে  মনোনিত করলে  আমি জয়লাভ করবো। তবে ন্দ্রীয় থেকে যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার  পক্ষে কাজ করবো।

তালা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নির্বাচনী প্রচারণা প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছি। গত নির্বাচনে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এবং প্রতিক বরাদ্দ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নেত্রী আমাকে রেখে নৌকা প্রতিক ওয়ার্কাস পার্টিকে দিয়েছিলেন। নেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করিনি। এরপর আগামী নির্বাচনে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিবেন সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। 

সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা। এলাকার উন্নয়নে জনগন নতুন মুখ দেখতে চাই এমটিও গুঞ্জন উঠছে। সেক্ষেত্রে নতুন প্রার্থীদের চাহিদা বেশি বলে মনে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী  শাহিনুর রহমান জানান, পূর্বে যারা তালা-কলারোয়ার উন্নয়ন করছে তাদের মধ্যে থেকে কাউকে আমরা আর একটি বার ক্ষমতায় দেখতে চাই। তাদের হাত দিয়ে আরও কিছু উন্নয়ন দেখতে চাই। 

তালা উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার  জানান, ভোট ব্যক্তি অধিকার। সেটি যাকে পছন্দ হয় তাকেই দিবো। মানুষ এখন সব বুঝে গেছে। সৎ আর ভাল মানুষকে সবাই শনাক্ত করতে পারে। বিবেক বিবেচনা দিয়ে যাকে সৎ মনে হয় জনগণ তাকেই ভোট দিবে। তবেই সাতক্ষীরার -০১ আসনের উন্নয়ন সম্ভব।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর