.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১১ ১৪২৬,   ১৯ শা'বান ১৪৪০

নির্বাচনকালীন সরকার গ্রহণ করবে না বিএনপি

 প্রকাশিত: ১৯:৩৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৩৬ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এই সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য এককভাবে নতুন কোনো মন্ত্রিসভা করা অযৌক্তিক এবং সেটি আমরা গ্রহণ করবো না বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

নোমান বলেন, আমরা মনে করি এই সরকারের ওপরে দেশের মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। সরকার চায় আগামী জাতীয় নির্বাচন তাদের অধীনে করতে। এটা জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি আরো বলেন, আইয়ুবের সময় একই অবস্থায় আমাদের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পরাজিত হয়েছে। ইয়াহিয়া খান পরাজিত হয়েছে। এরশাদ পরাজিত হয়েছে। তাদের সবার অস্ত্র ছিল প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার। বন্দুক, রাইফেল বা হাতিয়ার তাদের ছিল। কিন্তু এগুলো দিয়ে রাস্তার আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেননি। রাস্তার আন্দোলন সফল হয়েছে, তারা পরাজিত হয়েছেন। আওয়ামীলী সরকারের পরাজয়ও অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নোমান বলেন, শুধু রাজনৈতিক ভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও সরকার দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। ব্যাংকগুলো লুটপাট করেছে। স্টক এক্সচেঞ্জের হাজার হাজার টাকা তাদের নেতাদের পকেটে চলে গেছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে তাদের হস্তক্ষেপের কারণে এখন দেশ একটি অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণের নেত্রী দাবি করে বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, সেজন্যই আমরা তার মুক্তি দাবি করছি। আগামী নির্বাচনে তার ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রয়োজন। তিনি নির্বাচনের পূর্বে মুক্ত হয়ে আসুক এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখুক।

খালেদা জিয়া অবশ্যই মুক্ত হবে উল্লেখ করে নোমান বলেন, সবার আগে তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন। এই চিকিৎসা যদি না দেয়া হয়, তাহলে বাংলার মানুষ একদিন গর্জে উঠবে। এই গর্জে ওঠা কোনো নতুন ঘটনা নয়। ৭১ সালে আমরা গর্জে উঠে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। গর্জে উঠেছিলাম এরশাদের সময়, মাত্র চারদিনের আন্দোলনে এরশাদ পরাজিত হয়েছিলেন।

আবারো গর্জে উঠে এই সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে নেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে যদি আমরা অগ্রসর হই তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের যে অতীত ঐতিহ্য তার ধারাবাহিকতা আমরা বজায় রাখতে পারবো।

মানবন্ধনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী সভাপতিত্ব করেন।  পরিচালনা করেন ড্যাব মহাসচিব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির সাদা দলের সদ্য নির্বাচিত আহবায়ক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এসআই