নিমতলী ট্রাজেডির দশ বছর আজ, নিহতদের স্মরণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ জুলাই ২০২০,   শ্রাবণ ১ ১৪২৭,   ২৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

নিমতলী ট্রাজেডির দশ বছর আজ, নিহতদের স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৩ ৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:১৬ ৩ জুন ২০২০

বুধবার সকালে নিমতলীতে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করে মোনাজাত করেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বুধবার সকালে নিমতলীতে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করে মোনাজাত করেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

২০১০ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মারা যায় ১২৪ জন। কেমিকেল গোডাউনে রাখা দাহ্য পদার্থ থেকে সৃষ্টি হয়েছিল সেই আগুনের। 

আগুনে নিহত এবং এর ভয়াবহ পরিনতির কথা স্মরণ করতেই নিমতলীতে পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয় একটি স্মৃতিসৌধ। প্রতিবছর ৩ জুন স্থানীয়রা সেখানে ফুল দিয়ে স্মরণ করেন সেই দিনটিকে। ব্যাতিক্রম হয়নি আজও। পুরান ঢাকার নিমতলী ছাতি মসজিদ ও নবাব কাটরা এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন বুধবার সকালে সেই স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করে মোনাজাত করেন।

২০১০ সালের  ৩ জুন, নিমতলীর ৪৩ নম্বর বাড়ির নিচতলায় রুনা ও রত্না নামে দুই বোন এবং আসমা নামে আরেকটি মেয়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্না চলাকালীন আগুন ধরে যায়। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে একটা বিশাল অংশ জুড়ে। মূলত কেমিকেল গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। আগুনে মারা যায় ওই তিন কন্যার বাবা-মাসহ অনেকেই। তবে বিয়ের সাজের জন্য পার্লারে থাকায় বেঁচে যান সেই তিন কন্যা।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ওই তিন কন্যার বিয়ের আয়োজন করেন। চাকরি দেন সেই কন্যাদের স্বামীদেরও। তাদের  উকিল বাবা হিসেবে নির্ধারন করেন সাংসদ হাজী সেলিম, সাবেক সাংসদ ডা:মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা প্রয়াত আব্দুল আজিজকে। প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই তিন কন্যার নিয়মিত খোঁজ রাখেন। ঈদ,পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রীও পাঠানো হয তাদরেকে। প্রধানমন্ত্রীকে সেই তিন কন্যা এখনো মা বলে ডাকেন।

এদিকে যে কেমিকেল গোডাউনের কারণে এত বড় ভয়াবহ ঘটনা সেই কেমিকেল গোডাউনগুলো এখনো সরানো হয়নি নবাব কাটরাসহ আশপাশের আবাসিক এলাকা থেকে। পুরান ঢাকার এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে কেমিকেলের গোডাউন। 

ভয়াবহ সেই আগুনের পর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ও সিটি কর্পোরেশন থেকে উদ্যোগ নেয়া হয় কেমিকেল গোডাউন উচ্ছেদের। ফায়ার সার্ভিস চার শতাধিক কেমিকেল গোডাউনের তালিকাও করেছিল। এরপর উচ্ছেদ হয়নি কোন গোডাউন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এসএএম